করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ হলে, কী করবেন?

করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। তারচে বড় কথা এর থেকে সহজে নিস্তার মিলছে না। তাই বলে কী আমাদের কিছুই করার নেই? হাতপা গুটিয়ে বাসায় বা বাড়িতে বসে থাকাই কী একমাত্র সমাধান? নিশ্চয়ই নয়। বরং এরই মধ্যেই ‘নিউ নরমাল’ নামে নতুন জীবন শুরু করে দিয়েছে বিশ্বের মানুষ। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। বরং আমরাও নিজেদের কাজেকর্মে ফিরতে শুরু করেছি। চেষ্টা করছি সাবধানতা বজায় রেখে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে। তবুও অনেকে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। আর সে কারণেই, এখন সময় এসেছে বিষয়টাকে মেনে নেওয়ার। বরং আক্রান্ত হলে কী করতে হবে, সেটা জেনে নেওয়ার।

শুরুতেই জেনে নিন, কখন আপনি সন্দেহ করতে পারবেন যে আপনি আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। একশ ডিগ্রী’র ওপরে জ্বর, শুকনো কাশি, শরীর ব্যথা, বমিভাব, পেটখারাপ হওয়ার মতো উপসর্গ ও লক্ষণগুলো একসঙ্গে দেখা দিলে আপনি নিজেকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহ করতে পারেন। প্রশ্ন হলো, এবার আপনি কী করবেন?


দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও পরামর্শগুলো আমরা হাজির করছি রাজবাড়ী বার্তার পাঠকদের জন্য। চলুন জেনে নেই-

১. শুরুতেই নিজেকে আলাদা করে ফেলুন। সম্ভব হলে আলাদা একটি ঘরে থাকুন। খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধ ঘরের দরজার বাইওে পরিবারের সদস্যরা রেখে যাবেন।
২. সরকারী হট লাইনে (৩৩৩) ফোন দিয়ে করণীয় জেনে নিতে পারেন।
৩. ঘাবড়ে না গিয়ে পরীক্ষা করতে দিন।
৪. পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত দিনে অন্তত ৫/৬ বার গরম পানির গার্গল ও ভাপ নিতে থাকুন।
৫. পুষ্টিকর খাবার খান যেগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৬. প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খান। সঙ্গে ভিটামিন সি খাবেন।
৭. পরিচিত কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং উপসর্গ অনুযায়ি যে ঔষুধ তিনি দেন সেগুলো নিয়ম করে খান। তবে ইউটিউব বা ফেসবুকে দেওয়া ডাক্তারি পরামর্শ নেবেন না। সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন অথবা সরকারী হট লাইনে ফোন দিন।
৮. নিয়মিত শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা মানুন। এখন বাজারে অক্সিমিটার পাওয়া যায়। পালস অক্সিমিটারে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশের কম দেখালে বুঝবেন আপনার অক্সিজেনে সমস্যা হচ্ছে। তখন শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, বুক-ব্যথা, কিংবা হৃৎস্পন্দন বাড়তে পারে। তখন অক্সিজেন দিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসকের স্বরনাপন্ন হোন।
৯. তবে শ^াসকষ্ট না হলে হাসপাতালে যাওয়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।
১০. মানুষিক শক্তি বাড়ান। মনে জোর রাখুন।
১১. আর যারা ডায়াবেটিক রোগী তারা খেয়াল রাখবেন শরীর যেন পানিশূন্য না হয়। সেই সঙ্গে আপনার যে নিয়মিত ঔষুধ সেগুলো সেবন করতে থাকুন।

সম্পাদক, রাজবাড়ী বার্তা

(Visited 43 times, 1 visits today)