ঢাকাSunday , 4 September 2022

বালিয়াকান্দিতে ভিপি জমিতে নির্মাণ করা হলো মুক্তিযোদ্ধার সরকারী বাস ভবন !

Link Copied!

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মালিকানা যাচাই-বাছাই ছাড়াই অন্যের জমিতে এক মুক্তিযোদ্ধার সরকারী বাস ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনা প্রকাশের পর ভবন নির্মাণকারী উপজেলা প্রশাসনের টনক নরেছে। যদিও কিভাবে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা হবে সে ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে অসম্মতি জানিয়েন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক।


সরজমিনে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর মৌজার জেএল নং-৬৪, বিএস দাগ নং-৪২৬৯ ও ৪২৭০ জমিতে গিয়ে দেখাযায়, বর্তমান বাজার মূল্যের প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ওই দুই দাগে থাকা ১ শত ১০ শতাংশ জমি স্থানীয় ওসমান আলী খানের ছেলে মোজাহার আলী খান, এরাদ আলী শেখের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মোনছের আলী শেখ এবং মৃত আজগর আলী ফকিরের ছেলে আবু বক্কার ফকির ও তাদের সন্তানরা কাঁচা-পাকা স্থাপনা তৈরী করে বসবাস করছেন। এরমধ্যে জেলা বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মোনছের আলী শেখের দখলে থাকা ৩৮ শতাংশ জমির রাস্তার পাশে পাকা ছাদ দিয়ে সরকারী বাস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও এখনো ভবনটির দরোজা-জানালাসহ ভেতেরের বেশ কিছু কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে ওইসব কাজ শেষে রং করার পর ভবনটি মুক্তিযোদ্ধা মোনছের আলী শেখকে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বুঝিয়ে দেবে।


সে সময় মুক্তিযোদ্ধা মোনছের আলী শেখ বলেন, এই জমি ফেলে রেখে যাওয়া কোন এক সনাতন ধর্মাবলম্বির। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় আছেন তা তাদের জানা নেই। যে কারণে এই জমি ভিপি সম্পত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের তত্ববধানে রয়েছে। ওই দুই দাগের মোট ১১০ শতাংশ জমির মধ্যে তিনি ৩৮ শতাংশ এবং অপর দুই জন ৭২ শতাংশ জমি রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ডিসিআর-এর মাধ্যমে লিজ নিয়ে বসবাস করছেন। একই সাথে এই জমি স্থায়ী ভাবে পেতে তাদের সাথে বর্তমানে সরকার পক্ষের মামলাও আদালতে চলমান রয়েছে।
বিরোধপূর্ণ এই জমিতে কি করে সরকারী ভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, “আমার কাছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিলো। আমি ওই সব কাগজপত্রই তাদের দিয়েছি।”


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, সরকারী ভাবে মুক্তিযোদ্ধার ভবন নির্মাণ হবার কারণে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১১০ শতাংশ জমি স্থায়ীভাবে দখলদারদের অনুুকুলে চলে যাবার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবী এই জমি দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলদার মুক্ত করা হোক। একই সাথে তা গুচ্চগ্রাম স্থাপন, অসহায়, দরিদ্র ও ভুমিহীন পরিবারের মধ্যে বন্দোবস্ত (লিজ) প্রদান করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে বহরপুর ভুমি অফিসে গিয়ে খোজ নেয়া হয়, সে সময় ওই অফিসের ভুমি কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান জানান, বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর মৌজার জেএল নং-৬৪, বিএস দাগ নং-৪২৬৯ ও ৪২৭০ জমি ভিপি সম্পত্তি। যে জমি স্থানীয় ওসমান আলী খানের ছেলে মোজাহার আলী খান, এরাদ আলী শেখের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মোনছের আলী শেখ এবং মৃত আজগর আলী ফকিরের ছেলে আবু বক্কার ফকিরের নামে বার্ষিক ডিসিআরের মাধ্যমে বন্দবস্ত (লিজ) প্রদান করা হয়েছে। তবে ডিসিআর থাকা জমিতে স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই।


এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই ধরণের কথা জানিয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, ওই জমি ভিপি সম্পত্তি। সেখানে সরকারী ভাবে পাকাস্থাপনা করার সুযোগ নেই। তবে কিভাবে সেখানে মুক্তিযোদ্ধার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে তার খোজ খবর নিচ্ছেন। খোজ খবর নেয়ার পর বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

(Visited 83 times, 1 visits today)