ঢাকাSunday , 11 September 2022

রাজবাড়ী সদর উপজেলায় মৎস্য অফিসের প্রকল্পে নয়-ছয়ের অভিযোগ

Link Copied!

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

দেশের মৎস্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এবং চাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। যার অংশ হিসেবে কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ের অবস্থা শোচনীয়। নামকায়স্তভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে প্রকল্প গুলো। এমনি ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে রাজবাড়ী জেলায়। খাতা কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ওই সব প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করে তা নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোস্তফা আল রাজিবের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। চেষ্টা চলছে এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার।


রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বামনীপুরের ডহরবিল নার্সারীর সভাপতি মোঃ শওকত আলী মোল্লা সাম্প্রতি রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। যার অনুলিপি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পরিচালক মৎস্য ভবন ঢাকাসহ আরো কয়েকটি স্থানে দেয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজস্ব খাতের অধিনে বিল নার্সারী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬ মাস পূর্বে তাকে সদর উপজেলা মৎস্য অফিসে ডেকে এনে ৫ বস্তা খৈল, ১ কেজি রেনু পোনা ও একটি সাইনবোর্ড প্রদান করা হয়। যার আনুমানিক বাজার দর ছিলে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। অথচ পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেছেন, তাদের এই প্রকল্পে সমিতি প্রতি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা করে। সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওই প্রকল্পের টাকা বিগত জুন মাসে উত্তোলন করলেও তাদের বাকী টাকা বা কোন উপকরণ প্রদান করেন নি। যে কারণে তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী সরকারী মৎস্য খামার ব্যবস্থাপক লতিফুর রহমান খান বলেন, তিনি সরেজমিনে ডহরবিলে গেছেন এবং অভিযোগকারীর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, একই প্রকল্পের অপর এক সমিতির সভাপতিও একই ধরণের লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তবে অজ্ঞাত কারণে ওই ব্যক্তি অভিযোগটি করেন নি বলে তাকে অবহিত করেছেন। যদিও শোনা গেছে অভিযোগ করার পর তাকে সদর মৎস্য অফিসে ডেকে নিয়ে চার হাজার টাকা দিয়ে মিটমাট করা হয়েছে।
এ প্রকল্পের অপর সুফলভোগী সদর উপজেলার মূলঘরের শরিফ তালুকদার এবং রায়নগরের রাকিব অভিযোগ করে একই ধরণের কথা বলেছেন। তারা শুরুতে যা পেয়েছেন, তাই তারা জানেন। এই প্রকল্প যে সমিতি প্রতি ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ রয়েছে তা তাদের কাছে সদর উপজেলা মৎস্য অফিসার প্রকাশই করেন নি। এখনো পর্যন্ত সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা টাকা বা আর কোন উপকরণ প্রদান করাতো দুরের কথা কোনরুপ যোগাযোগও করেন নি।


সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলে আরো জানাগেছে, সদর উপজেলা মৎস্য অফিসের অধিনে চলমান এনএটিপি প্রকল্পে ৩৫ জনকে ২০ হাজার টাকা করে এবং ইউনিয়ন সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পে ৯ জনকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের বরাদ্দের সমুদয় টাকা বিগত জুন মাসে উত্তোলনও করা হয়েছে। অথচ একই ভাবে শুরুতে সুবিধাভোগীদের মাঝে কিছু মাছের পোনা, মাছের খাবার আর সাইনবোর্ড দেয়া হলেও পরবর্তী ধাপের আর কোন অর্থ অথবা উপকরণ কাউকেই দেয়া হয়নি।


এ বিষয়ে কথা হয় রাজবাড়ী সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোস্তফা আল রাজিবের সাথে। তিনি বলেন, জুন মাসের মধ্যেই তিনি সকল প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন। বরাদ্দের বেশির ভাগ মাছ, মাছের খাবার ও সাইনবোর্ড বিতরণ করে দিয়েছেন। বাকিটা পর্যাক্রমে দিচ্ছেন। অভিযোগকারীরা ষড়যন্ত্র মূলকভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমানের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

(Visited 159 times, 1 visits today)