সরু চ্যানেল : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বির্ঘ্নিত –

আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট কাটাতে খনন কাজ করলেও ওয়ানওয়ে সরু চ্যানেলের কারণে পাশাপাশি দুটি ফেরি অতিক্রম করতে সমস্যায় পড়ছে। কুয়াশা পড়লে পাশাপাশি দুটি ফেরি অতিক্রম করতে আরো বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। এতে করে যে কোন মুহুর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে। সংশ্লিষ্টরা চ্যানেলের প্রসস্থ্যতা আরো বাড়ানোর দাবী করেছেন।
জানা যায়, গত গত ২৬ ডিসেম্বর পাটুরিয়ার তিন নম্বর ফেরি ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি বনলতা। ফেরিটি ঘাট ছেড়ে কিছুদূর আসার পর মুহুর্তে সরু চ্যানেল অতিক্রম করার সময় পিছনে ছোট-বড় আরো তিনটি ফেরি অপেক্ষা করছিল। এসময় বিপরিত দিকে দৌলতদিয়া থেকে আসা আরো চারটি ফেরি ওই চ্যানেলে প্রবেশের অপেক্ষা করছিল। অপেক্ষাকৃত মাঝারী আকৃতির ফেরিটি চ্যানেলে প্রবেশ করার সাথেই বনলতা ফেরির চালকের আসনে থাকা তৃতীয় মাষ্টার (হুইল সুকানি) মোকারম হোসেন বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন। একদিকে পিছনে তিনটি ফেরি একই সঙ্গে বিপরিতে আরো তিন-চারটি ফেরি। চ্যানেলের পূর্ব দিকে মাটি খনন করার ড্রেজিং যন্ত্র এবং পশ্চিমে রয়েছে বালুর চর। চরের সীমানা ঘেষে পানি কম দেখে মার্কিং পয়েন্ট চিহৃ দেওয়া থাকলেও মাষ্টার উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে মার্কিং পয়েন্ট ভেদ করে বালুর চরের দিকে ঢুকে পড়েন। এসময় চিৎকার করে ফেরির ডকে (উপরে) থাকা যাত্রীদের দ্রুত নিচে নামতে বলেন। এক পর্যায়ে প্রায় পনের মিনিট এভাবে চলার পর কোন রকম তিনি চ্যানেলটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয় ফেরিটি।
ফেরিটির চালক মোকারম হোসেন বলেন, এভাবে কি ফেরি চালানো যায়? চ্যানেলের প্রসস্থ্যতা এত কম যে পাশাপাশি দুটি বড় অতিক্রম করতে গেলে একটির সাথে আরেকটির সংঘর্ষ লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়। দুই দিন আগে একবার দুটি ফেরির মধ্যে হালকা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য সবাই রক্ষা পান। বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটলে হতাহতের মতো ঘটনা ঘটতে পারতো। এছাড়া এখন শীতকালীন সময় শুরু হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে রাতে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কুয়াশার কারণে রাতের বেলায় এই চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল করা খুবই দুষ্কর হয়ে পড়বে। জরুরী ভিত্তিতে চ্যানেলের প্রসস্থ্যতা আরো বাড়ানো দরকার।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, বিআইডব্লিউটিএ এর খনন বিভাগ খনন করছে। কিন্তু পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে চ্যানেলের প্রসস্থ্যতা তুলনামূলক কম থাকায় মাঝেমধ্যে পাশাপাশি দুটি ফেরি যাতায়াত কালে সমস্যায় পড়তে হয়। চ্যানেলের প্রসস্থ্যতা আরো বাড়ানো দরকার। এই শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা পড়লে তখন চলাচলে আরো সমস্যায় পড়তে হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) খনন বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ হোসেন বলেন, আগে ২৪০ ফুট প্রসস্থ্যতা করে চ্যানেল তৈরী করা হতো। বর্তমানে বাড়িয়ে ৩৬০ ফুট করা হয়েছে। সমস্যা হলো ওই চ্যানেলেই খনন যন্ত্র ও তার যন্ত্রাংশ থাকায় প্রসস্থ্যতা কমে যাওয়ায় দুটি ফেরি একত্রে চলাচল করতে কিছুটা বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা আগামী এক সপ্তাহ থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

(Visited 45 times, 1 visits today)