রাজবাড়ীতে প্রতারণা ও ভয় দেখানোর দুটি মামলা, সাড়ে ৭ লাখে ফারইস্ট চেয়ারম্যানের আপস –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

বীমা প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নামে রাজবাড়ীতে করা দুটি মামলা গতকাল বুধবার সাড়ে সাত লাখ টাকায় আপসরফা হয়েছে। স্ত্রীর মৃত্যুতে বীমার টাকা দেওয়া নিয়ে প্রতারণা ও ভয় দেখানোর অভিযোগে মামলা দুটি করেন রাজবাড়ী শহরের লক্ষ্মীকোল গ্রামের নামদার আলী খানের ছেলে রফিকুল ইসলাম বাবু।

আদালত সূত্র জানায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানির গ্রাহক রফিকুল ইসলাম বাবু তাঁর স্ত্রী স্বপ্না পারভীনের মৃত্যুতে বীমার ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু কম্পানীটি বলে, টাকা লিয়েন (কর্তন) হয়ে যাওয়ায় বাবু কোনো টাকা পাবেন না। এ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে কম্পানির চেয়ারম্যানসহ দুজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ রাজবাড়ীর ১ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন বাবু। আদালত কম্পানির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুই দফায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ মালামাল ক্রোকের আদেশ দেন। একই গ্রাহক মামলাটি প্রত্যাহারে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ২০১৭ সালের ১২ জুলাই রাজবাড়ী থানায় একটি জিডি করেন। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে নন জিআর মামলা দায়ের হয়।

মামলা দুটি মীমাংসা করতে কম্পানীটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সচিব, ঢাকা জজকোর্টের একজন সরকারি আইনজীবীসহ বিশাল গাড়িবহর নিয়ে গতকাল সকাল থেকে রাজবাড়ী সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আল মুজাহিদ ও মিজানুর রহমান সুজনের মধ্যস্থতায় সাড়ে সাত লাখ টাকায় মামলা দুটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল দুপুরের পর রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুজ্জামানের আদালতে দুটি মামলায় ফারইস্ট চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও ফরিদপুর ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর মোজাম্মেল হক হাজিরা দেন। বিচারক উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত সাড়ে সাত লাখ টাকার আপসরফার ভিত্তিতে বাদীর অনুপস্থিতিতেই আসামি দুজনকে অব্যাহতি দিয়ে মামলা দুটি নথিজাতের আদেশ দেন। এর আগে একই আদালতে ওই কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হেমায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সারা দেশে হাজার হাজার গ্রাহকের মৃত্যুতে দাবি করা বীমার টাকা কেটে নিয়ে প্রতারণা করে আসছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি।

রাজবাড়ীর ১ নম্বর আমলি আদালতের পিপি তড়িৎ সেন জানান, বাদী আদালতে হাজিরাপত্র দিলেও আদালত চলাকালে উপস্থিত ছিলেন না। তবে ইতিপূর্বে বাদী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আসামিদের কাছ থেকে আপসরফার সাড়ে সাত লাখ টাকা বুঝে নিয়েছেন। আদালতের বিচারক এ আপসরফার ভিত্তিতে আসামি দুজনকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেমায়েত হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

(Visited 247 times, 1 visits today)