রাজপথ থেকে উঠে আসা তিতু আজ “রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র” –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

মোঃ আলমগীর শেখ তিতু। বয়স মাত্র (৪২)। তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। তবে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী চতুর্থ দফার নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ভোটের ব্যাবধানে মেয়র পদে বিজয়ী হয়ে সর্ব মহলে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। যে কারণে নির্বাচনের পর থেকে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ যাচ্ছেন তার জেলা শহরের বেড়াডাঙ্গা এলাকার বাড়ীতে। বিজয়ী হবার পরও তার আচরণে ঘটেনি কোন পরিবর্তন। যে যাচ্ছে তাকেই তিনি নিচ্ছেন স্বাদরে।


তার একাধিক বাল্য বন্ধু রাজবাড়ী বার্তা ডট কমকে জানিয়েছেন, ছেলে বেলা থেকেই তিতু ছিলেন প্রতিবাদী একজন মানুষ। স্কুলে পড়া অবস্থায় তিনি রাজবাড়ী সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিং-এ থাকতেন সম্মুখে। সরকারী দলের অত্যাচারের ভয়ে এখনকার অনেক বড় বড় নেতা যখন থাকতেন আতœগোপনে, তখন তিতুর নেতৃত্বে হতো রাজবাড়ী জেলা শহরে ছাত্রলীগের মিছিল। পরবর্তীতে তিনি পৌর ছাত্রলীগের দিয়েছেন নেতৃত্ব। খেটেছেন জেলও। তবে জেল থেকে বের হয়ে জনসেবার ব্রত নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি। অঢেল টাকা আর পরিবারতন্ত্রের এই যুগে তিনি তিল তিল করে তার অবস্থানের জানান দেন। ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ী হন। তবে তখনো তার লক্ষ হয়নি পূরণ। মানুষের বিপদ-আপদে শাররীক ও আর্থিক সহায়তার ঢাল হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেন। শহরের জলাবদ্ধতা দূর করতে তিনি নিজে হাতে তুলে নেন কোদাল। তার সহকারীদের সাথে নিয়ে নিজেই পরিস্কার করেন ময়লা ভর্তি ড্রেন। এর আগে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সারা দিয়ে প্রথম শ্রেণীর এই পৌরসভার প্রতিটি বাড়ীর আঙ্গিনায় তিনি ফলজ গাছের চারা নিজ হাতে রোপন করেন। যে সব গাছে এখন ধরেছে ফল। খাচ্ছে বাড়ীর মানুষ অথবা পাকপাখালি। করোনার মহামারি দেখা দিলে, বহু নেতাকেই দেখা যায়নি মাঠে। অনেক নেতাই তখন সামাজিক দূরত্বের কথা বলে আবদ্ধ থেকেছেন ঘরের মধ্যে। সে সময় কর্মহীন, খাদ্যহীন মানুষ গুলোর হাহাকার সইতে পারেন নি তিতু। করোনাকে উপেক্ষ করে তিনি তার সাধ্যমত দরিদ্র পরিবার খুজে বের করে দিনে ও রাতের আঁধারে পৌছে দিয়েছেন খাবার। একই সাথে তার মাছের খামারের মাছ তিনি বিক্রি না করে পৌরসভার প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে পৌছে দিয়েছেন। যে কারণে ধনী, গরীব ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে তার জনপ্রিয়তা ওঠে তুঙ্গে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৪ ফেব্রুয়ারী ইভিএম পদ্ধতীর এই নির্বাচনে। বিপুল ভোটের ব্যাবধানে হন তিনি মেয়র।


নবনির্বাচিত মেয়র মোঃ আলমগীর শেখ তিতু রাজবাড়ী বার্তা ডট কমকে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন ও তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। আমি আওয়ামীলীগের ১০ টাকার একজন সদস্য। রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে কাজ করলেও আওয়ামীলীগের পদ পদবীতে আমার মেলেনি ঠাই। তবুও পৌর নির্বাচনের পূর্বে দলের কাছে আমি মেয়র পদের মনোনয়ন চেয়েছি। তবে দল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরীকে নৌকার প্রার্থী করা হয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার দাবী ছিলো একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের। তারা তার সে দাবী পূরণ করেছেন। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি ৮ হাজার ৫শত ৫৪ ভোটের ব্যাবধানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করতে সমর্থ হয়েছে। পৌরসভার ৪৫ হাজার ২০ জন ভোটারের মধ্যে তার নারিকেল গাছ প্রতীক পেয়েছে ১৫ হাজার ৯শত ২ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৭ হাজার ৩শত ৪৮ ভোট।
তিনি মনে করেন, ভোটাররা তাকে উজার করে দিয়েছেন ভোট। এখন তার দেবার পালা। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে রাজবাড়ী পৌরসভাকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন অনেক দুর।

নির্বাচনের আগে দেয়া সাক্ষাৎকার।

(Visited 1,273 times, 1 visits today)