ইয়াবাসহ পাংশার ২ মাদক ব্যবসায়ী চট্রগ্রামে গ্রেপ্তার, ধরাছোঁয়ার বাইরে গড ফাদার –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

৮০ হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান নিয়ে রাজবাড়ীর পাংশায় ফেরার পথে চট্রগ্রামের কর্ণফুলী থানা পুলিশ মোঃ আশরাফ ওরফে আরিফ (৩০) এবং মোঃ রাসেল রানা (৩৫) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গত মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বুধবার বিকালে চট্রগ্রাম আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে এতো বড় ইয়াবার চালনাসহ ওই দুই জন গ্রেপ্তার হওয়ায় রাজবাড়ী ও পাংশায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে ওই সব মাদক ব্যবসায়ীদের গড ফাদারদের চিহ্নিত করা পূর্বক গ্রেপ্তারেরও দাবী জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া আশরাফ ওরফে আরিফ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের ভট্টাচার্য্য পাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে এবং রাসেল রানা একই উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের খামারডাঙ্গি গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃত আরিফ ও রাসেলসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চট্রগ্রামের কর্ণফুলী থানা এসআই জাহিদুল ইসলাম আরমান বাদী গত মঙ্গলবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চট্রগ্রামের কর্ণফুলী থানা এসআই খন্দকার আওরাঙ্গজেব জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে লকডাউনের মধ্যে গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার থেকে একটি সাদা রং-এর প্রাইভেটকার চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক মোড়ে থাকা পুলিশ চেকপোস্টে এসে পৌছায়। সে সময় নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-বন্দর) আরেফিন জুয়েল ও কর্ণফুলী থানার ওসি ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ওই প্রাইভেটকারটিতে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ওই সময় গাড়ীর মধ্যে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ৮০ হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করার পাশাপাশি আরিফ ও গাড়ী চালক রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং গাড়ীটি জব্দ করা হয়। সে সময় আরিফ নিজেকে একটি বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয়ও প্রদান করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো বলেন, আরিফ ২০০৬ সালের জুন মাসে সৈনিক হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ২০১৯ সালে চাকুরীচ্যুত হন। অপরদিকে, রাসেল আগে একজনের প্রাইভেটকারের চালক হিসেবে কাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এই গাড়ীটি কিনে নিজেই চালাচ্ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য ও গডফাদারদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছে। নিবির জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুবশিঘ্রই আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

আরিফের সহধর্মিণী নাছরিন বেগম জানান, তাদের ২ মেয়ে ও ১টি ছেলে সন্তান রয়েছে। মোটরসাইকেল এ্যাক্সিডেন্টের কারণে আহত হয় আরিফ। পরে তাকে চাকুরী চ্যুত করে কর্তৃপক্ষ। সেই থেকেই তারা পাংশার শ^শুরালয়ে বসবাস করছেন। গত পরশু আরিফ কাজ আছে বলে বাড়ী থেকে বের হয়। এর পর আর সে ফিরে আসেনি। তার গ্রেপ্তার হবার কথা তারা লোক মুখে শুনেছেন। আরিফ মাঝে মধ্যে সিগারেট খেলেও কখনো অন্যকোন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করতো না। তার স্বামীকে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন।

পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমান আলী সরদার জানান, আরিফ সুবিধাবাদী গ্রুপের সাথে চলাচল করতো। তার জানামতে আরিফ মাদক সেবন করতো, তবে সে মাদকের ব্যবসা করতো বলে তার জানা নেই।
পাংশা থানার ওসি মোঃ আহসানুল্লাহ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে আরিফ ও রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।

ফেসবুক থেকে এ ভিডিওটি দেখা না গেলে TV Rajbari লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলেও দেখা যাবে।

(Visited 1,868 times, 1 visits today)