রাজপথের লড়াকু সৈনিক তন্বী –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

৮০-র দশকের শেষভাগে আর নব্বই দশকের রাজপথের লড়াকু সৈনিক এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বদরুন্নেছা সরকারী কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সাহিদা চৌধুরী তন্বী-কে রাজবাড়ী জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব দেয়ায় অভিনন্দন।
সংরক্ষিত নারী আসনেও রাজবাড়ীতে আলোচনায় ছিলেন সাহিদা চৌধুরী তন্বী। অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য, বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাহিদা চৌধুরী তন্বী। এলাকার সর্বস্তরের জনগণ তাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সাংসদ হিসেবে দেখতে চায়।
জাতীয় সংসদের ৩৮ নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন নারী নেত্রী ও রাজবাড়ীর কৃতি সন্তান সাহিদা চৌধুরী তন্বী। তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের বেলগাছির দুলাল চৌধুরীর কন্যা।
৮০-র দশকের শেষভাগে ঢাকার রাজপথ থাকত মিছিলে মিছিলে উত্তাল। সেই উত্তাল সময়ের মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাহিদা চৌধুরী তন্বী। তার পিছনে রক্তচক্ষু নিয়ে অনুসরণরত পুলিশের ট্রাক, বিরুদ্ধ পক্ষের বোমা হামলা। তবুও তিনি দমে যাননি। অসীম সাহসে পথ চলেছেন সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে।
এছাড়া তিনি ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বেগম বদরুন্নেছা সরকারী মহিলা কলেজ শাখা ছাত্র লীগের সভাপতি এবং ওই কলেজের ছাত্রী সংসদের ভিপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া ত্যাগী এই নেত্রী ১৯৯২ সালে ঢাকার ইডেন কলেজের তৎকালীন ছাত্রদলের ভিপি হেলেন জেরিন খানকে মারপিটের মামলার ১১ জন আসামির মধ্যে তিনি ছিলেন প্রধান আসামি। তাকে ওই সময় বেশ কিছুদিন হল ছেড়ে থাকতেও হয়। এই মামলার পক্ষে লড়েছিলেন এড. সাহারা খাতুন এম.পি। তিনি ২ সপ্তার পর জামিনে তাদের মুক্ত করেন। তারপর তারা হলে প্রবেশ করতে পারে।
তিনি বলেন,”আন্দোলনের মাঠে আমরা শুধুই সহযোদ্ধা- পারস্পরিক সহযোগিতা আর সহমর্মীতায়। ৮০ দশকেও শেষ ভাগেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। নিপীড়ন-নির্যাতন, হুমকি-ধামকি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে থেকে সুস্থ আর সাহসী রাজনীতির পতাকা বহন স্বস্তিকর ছিল না মোটেই। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জন-গণরোষের উত্তাল সময়। অকুতোভয়, অপ্রতিরোধ্য চেতনায় নিজেকে মনে হত জেগে থাকা আগ্নেয়গিরি। আজো থামেনি অগ্নিঝরা সেসব দিনের যুদ্ধ। এখন আমি মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সক্রিয় সদস্য। থাকতে চাই আজীবন নিপীড়ীত অসহায় মানবতার সেবায়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।জয় বাংলা। ”
তিনি একজন সমাজকর্মী রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী এলাকার মানুষের বিশেষ করে অবহেলিত নারীদের পাশে সব সময় বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কর্মী বান্ধব মহিলা নেত্রী সব সময় কর্মীদের বিপদে আপদে পাশে থাকেন।আন্দোলন সংগ্রামে সব সময় অগ্রভাগে থাকেন তিনি।
তিনি অবহেলিত ও দুঃস্থ নারীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তার লক্ষ্য হচ্ছে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর কাছে সকল ধরনের সেবা পৌছে দেয়া। তাদেরকে টেকসই উন্নয়নের জন্য সচেতন করা, উদ্বুদ্ধ করা।
সাহিদা চৌধুরী তন্বী রাজবাড়ী জেলায় সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট, উন্নয়নের দাবী যাদের অনেক বেশি , এখনও যাদের কাছে সেনিটেশন সুবিধা পৌঁছেনি, অসচেতন তৃণমূলের শতকরা ৩০ ভাগ জনগনের কাছে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নকে তুলে ধরেছেন। তিনি সদ্য ২০১৮ নির্বাচনে তিনি মহিলালীগের ব্যানারে সারা বাংলাদেশ সহ রাজবাড়ীতে সক্রিয় ভাবে কাজ করেছেন। মিশেছেন এলাকার সর্বস্তরের জনগণের সাথে।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ রাজবাড়ী জেলা শাখার নতুন কমিটি ১৫ সেপ্টেম্বর’১৯ সন্ধ্যায় ঘোষনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ্ব সাফিয়া খাতুন প্রাথমিক পর্যায়ে সভাপতি হিসেবে তানিয়া সুলতানা কংকন, সহসভাপতি হিসেবে মেহেদি হাচিনা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাদিয়া চৌধুরী তন্বী এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাসিনা ইসলামের নাম ঘোষনা করেন।
এর আগে দিন ব্যাপী রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম পর্ব। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি মোঃ জিল্লুল হাকিম, বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সালমা চৌধুরী রুমা, রাজবাড়ী জেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম। সভায় সভাপতিত্ব করেন, রাজবাড়ী মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি কামরুন্নাহার লাবলী চৌধুরী।

(Visited 155 times, 1 visits today)