পরকিয়ার বলি হলো সাভারের গার্মেন্ট কর্মী হাসনা, গোয়ালন্দের প্রেমিকের দায় স্বীকার-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

মোবাইল ফোনে প্রেম, এরপর পরকিয়ার অংশ হিসেবে প্রেমিকের সাথে বিভিন্ন স্থানে রাত্রি যাপন এবং সর্বশেষ বিয়ের প্রসঙ্গ তুলতেই জীবন দিতে হয়েছে সাভারের নারী গার্মেন্ট কর্মী হাসনা খাতুন (৩৫) কে। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট লাবনী আক্তারের কাছে ১৬৪ ধারায় হাসনা খাতুনকে হত্যার কারণ বর্ণনা করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে গ্রেপ্তার হওয়া তার প্রেমিক আলমাস ব্যাপারী (২৭)। আলমাস রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর মন্ডলপাড়া গ্রামের মাহাম ব্যাপারীর ছেলে।
জানাগেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মন্ডলের পাড়ার রাস্তার পাশ থেকে স্বাসরোধে হত্যা করা সাভারের গার্মেন্টকর্মী হাসনা খাতুন -এর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাসনা রংপুর জেলার বদরগঞ্জের মিজানুর রহমানের স্ত্রী এবং সাভারের আল মুসলিম গার্মেন্টের কর্মী। এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হাসনার ছেলে হাসান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
ওই মামলার তদারকিকারী কর্মকর্তা ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার (ওসি) তদন্ত আব্দুল্লাহ আল তায়েবীর জানান, হাসনার ২ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তার স্বামী একজন রাজমিস্ত্রী। তবে তিন বছর আগে মোবাইল ফোনের রং নম্বরে কথা বলার মধ্য দিয়ে এক ছেলে সন্তানের জনক ও ড্রেজার মেশিন চালক আলমাস ব্যাপারীর সাথে হাসনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্কের অংশ হিসেবে হাসনার কর্মস্থল গার্মেন্টে যায় আলমাস। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে সে হাসনার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এক পর্যায়ে হাসনা বিয়ের জন্য আলমাসকে চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করে। আর চাপ থেকে বাঁচতে হাসনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আলমাস। যার অংশ হিসেবে গত ৮ সেপ্টেম্বর সে হাসনাকে বিয়ের আস্বাস দিয়ে গোয়ালন্দে নিয়ে আসে এবং সে হাসনার ওড়না দিয়ে তাকে শ^াসরোধে হত্যার পর লাশটি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মন্ডলের পাড়ার রাস্তার পাশে ফেলে দেয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার (ওসি) তদন্ত আব্দুল্লাহ আল তায়েবীর আরো জানান, অধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আলমাসকে সনাক্ত করা হয়। সেই সাথে গতকাল শুক্রবার ভোরে তাকে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর গ্রেপ্তারের পর গতকাল বিকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালতের কাছে সে হাসনা হত্যার কথা সে স্বীকার করে।

(Visited 1,152 times, 1 visits today)