সাইবার ক্রাইম এবং সাইবার সিকিউরিটি কি ? লেখক :পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম
- Update Time : ০৯:২৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মে ২০২২
- / ৬২ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
সাইবার ক্রাইমে আপনি কিভাবে শিকার হচ্ছেন এবং এই সাইবার ক্রাইম থেকে কিভাবে নিজেকে বা নিজের কম্পিউটার কিংবা মোবাইলকে সিকিউরিটি দিবেন, সেই বিষয়ে রাজবাড়ী জেলার সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ফেসবুক পাতায় কিছু পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা নিয়ে লিখছি রাজবাড়ী জেলার সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ইনচার্জ আমি পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলাম।সাইবার ক্রাইম কি? একটি কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার, কপিরাইট লঙ্ঘন, ঠকানো, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ফিশিং, স্প্যামিং বা গোপনীয়তা চুরি করে যে ধরনের অপরাধ করা হয তাকে “সাইবার ক্রাইম”অপরাধ বলে।
সাইবার ক্রাইমের শ্রেণীবিভাগঃ-. সাধারণত সাইবার অপরাধীরা যে ধরনের অপরাধ করে থাকে তা মোটামুটি ৮ টি শ্রেণীর মধ্যে পাওয়া যায়। এর বাইরেও কিছু সাইবার ক্রাইম হয় তবে তা যৎ সামান্য। নিম্নে এই অপরাধগুলোর বিষয়ে কিছু আলোকপাত করি।
আশা রাখি নিচের এই ৮ টি বিষয়ে যদি আমরা সচেতন থাকি তাহলে সাইবার ক্রাইম হতে আমরা সুরক্ষা থাকতে পারব।
১. Cyber Fraud Cyber fraud মানে হলো এমন এক রকমের অপরাধ যেটা ইন্টারনেটে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা হয়।এই ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে, অপরাধীরা লোকেদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত (personal) তথ্য (data) যেমন, business secrets, personal photos, personal information গুলিকে চুরি, পরবর্তন বা নষ্ট (destroy) করতে পারে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এই ধরণের সাইবার অপরাধ (cyber fraud) করা হয়, অবৈধ ভাবে লাভ (profit) আয় করার উদ্দেশ্যে।
২) Hacking হ্যাকিং (hacking) অনেক বেশি পরিমানে হওয়া সাইবার ক্রাইম, যার ব্যাপারে অনেক কম লোকেরাই জানেন। আমি জানি, আপনি “hacking” বিষয়টি নিয়ে অল্প হলেও জ্ঞান রাখেন। তবে, হতে পারে আপনার কম্পিউটার, মোবাইল বা নেটওয়ার্ক ও বর্তমানে হ্যাক করা হয়েছে, কিন্তু আপনি সেটা জানেন না।হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে, সাইবার অপরাধীরা একটি ওয়েবসাইট, কম্পিউটার, সিস্টেম (computer) বা নেটওয়ার্ক (network) এর ফাঙ্কশনে (function), সম্পূর্ণ বা অংশিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ (control) অর্জন করে ফেলে।এভাবে, নিয়ন্ত্রণ অর্জন করার পর তারা সেই সিস্টেম, কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কের ব্যবহার করে বিভিন্ন অবৈধ (illegal) কাজ করে নিতে পারেন।তাছাড়া, হ্যাক করা ওয়েবসাইট, সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে থাকা বিভিন্ন জরুরি ও ব্যক্তিগত তথ্য (information) জেনে নিতে পারে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, হ্যাকার (hacker) গুলি corporate এবং Government accounts ও website গুলিকে হ্যাক করতে দেখা গেছে।
৩) Identity theft Identity theft এক ধরণের একটি নির্দিষ্ট রকমের cybercrime, যেখানে ব্যাক্তির ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা হয়।এই ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, account passwords, ব্যাঙ্ক একাউন্ট এর তথ্য, credit ও debit card এর তথ্য এবং এই ধরণের জরুরি এবং গোপনীয় তথ্য গুলি চুরি করা হয়।এই ধরণের অপরাধীরা আপনার একাউন্টে থাকা টাকা গুলিও চুরি করে নিতে পারে।
৪. Scammingবিভিন্ন রকমে scamming করা যেতে পারে বা করা হয়। যেকোনো অবৈধ মাধ্যমে টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি বা সংগঠনের দ্বারা, লোকেদের ঠকানোকে স্ক্যামিং (scamming) বলা যেতে পারে। আপনারা হয়তো নিজেদের ইমেইলে বা মোবাইলের sms বক্সে একটি মেসেজ (message) অনেক সময় দেখেছেন, যেখানে বলা হয় যে, আপনাকে কোনো একটি কোম্পানির থেকে অনেক ভারী সংখ্যায় টাকা, লটারি (lottary) বা পুরস্কার (prize) হিসেবে দেয়া হচ্ছে।সেই ভারী সংখ্যার টাকার জন্য আপনার একটি processing amount বা fees তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে দিয়ে দিতে হবে এবং, তারপর তারা আপনাকে সেই ভারী সংখ্যার টাকা দিয়ে দিবে।এখন, আপনি এবং আমি জানি যে, এই ধরণের মেসেজ (sms) লোক ঠকিয়ে টাকা আয় করার জন্য পাঠানো হয়।কিন্তু, অনেক লোক রয়েছে, যারা এই ধরণের মেসেজ গুলি সত্যি বলে ভাবেন এবং অধিক টাকার লোভে তাদেরকে সেই processing amount money বা fees দিয়ে দেন।কিন্তু টাকা দেয়ার পর, কিছুই হয়না এবং কিছু সময় পর টাকা দেওয়া লোকেরা বুঝতে পারেন যে, তাদেরকে ঠকানো হয়েছে।এভাবে, বিভিন্ন মাধ্যমে লোকেদের ঠকিয়ে টাকা আদায় করাকেই বলা হয় “scamming”.অনলাইন ইন্টারনেটে এভাবে scam করে টাকা আদায় করার অনেক প্রক্রিয়ায় অপরাধীরা সাইবার ক্রাইম করে থাকে।
৫) Computer virus অনেক অপরাধীরা কম্পিউটার ভাইরাস (computer virus) এর সাহায্য নিয়ে, বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেম গুলিতে ঢুকে পড়ে। তারপর, এই ভাইরাস গুলির সাহায্যে, কম্পিউটার থেকে অবৈধ ভাবে ব্যক্তিগত এবং আর্থিক তথ্য চুরি করাটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে।তাছাড়া, অনেক অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান থাকা programs রা কম্পিউটার সিস্টেম ও নেটওয়ার্ক গুলিতে বিভিন্ন রকমের viruses, malware এবং Trojan পাঠিয়ে, সম্পূর্ণ সিস্টেম (system) সংক্রমিত (infect) বা নষ্ট করে দিতে পারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এই ধরণের virus গুলি internet এবং removable device থেকে আপনার network বা computer system গুলিতে ঢুকে যেতে পারে।
৬. Ransomware এইটা এক রকমের malware-virus attack যেখানে অপরাধীরা আপনার কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে সেখানে থাকা জরুরি files গুলি এনক্রিপ্ট (encrypt) করে রাখে।মানে, আপনার জরুরি ফাইল গুলিকে কিছু কোড (code) ব্যবহার করে লক (lock) করে রাখা হয়।ফলে, আপনি আপনার সিস্টেমে থাকা জরুরি files গুলি আর খুলতে পারেন না।এই ধরণের ransomware attack করে file ও system লক করার পর, অপরাধীরা ব্যাক্তির কাছে কিছু টাকার চাহিদা করেন। টাকা দিয়ে দেওয়ার পর, lock করা file বা system গুলি আবার খুলে দেয়া হয়।
৭. Phishing Phishing এক ধরণের সাইবার অপরাধ, যেখানে অপরাধীরা একটি বৈধ কোম্পানি বা organization হিসেবে নিজেকে দেখানোর চেষ্টা করে।এই ধরণের প্রক্রিয়া ব্যবহার করে অপরাধীরা, আপনার personal data & information, আর্থিক তথ্য, bank details এবং credit & debit card details নিয়ে নিতে পারে।এই প্রক্রিয়াতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে হাজার হাজার ইমেইল (email) পাঠানো হয়, যেখানে অনেক নকল (fake) ওয়েবসাইটের লিংক দেয়া থাকে এবং আপনাকে এভাবে সাজিয়ে ইমেইল করা হবে, আপনি ভাববেন যে ইমেইল কোনো আসল ওয়েবসাইট বা কোম্পানির থেকে পাঠানো হয়েছে।ফলে, অনেক সহজে যেকোনো ব্যাক্তি এই সাইবার ক্রাইম এর শিকার হয়ে যায় এবং অপরাধীরা আমাদ্র, আপনার অনেক গোপনীয় তথ্য নিয়ে যায়।
৮. . Software Piracy ইন্টারনেটে এমন অনেক ওয়েবসাইট বা এপ্লিকেশন রয়েছে যেগুলি অবৈধ ভাবে original software বা original file গুলিকে অনলাইনে বিতরণ করে।এভাবে original software, application, movies, videos, images, songs গুলিকে অবৈধ ভাবে অনলাইন বিতরণ করাকে বলা হয় “online piracy “.এই ধরণের online piracy র ফলে, software company এবং developers দের অনেক বেশি পরিমানে আর্থিক ক্ষতির অভিমুখ হতে হয়।কারণ, তাদের content, software বা movies ইন্টারনেটের মাধ্যমে লোকেরা ফ্রীতেই কোনো অফিসিয়াল অনুমতি ছাড়া ডাউনলোড করে ব্যবহার করছেন।Original software বা অন্য যেকোনো original file এভাবে অবৈধ ভাবে বিতরণ করাটা যেরকম একটি অপরাধ, ঠিক সেভাবেই pirated software বা pirated files ব্যবহার করাটাও কিন্তু একটি অপরাধ।তাই, ইন্টারনেট থেকে কোনো রকমের pirated software বা file ডাউনলোড ও ব্যবহার করবেন না।কেবল, official website থেকে তাদের অনুমতি নিয়েই যেকোনো ফাইল ডাউনলোড ও ব্যবহার করার পরামর্শ আমি আপনাদের দিবো।
তাহলে বন্ধুরা, আপনাদের কিছু “common cyber crime” এর প্রকার গুলির ব্যাপারে বললাম।এবার আমরা জানিবো কিভাবে সাইবার ক্রাইম হতে নিজেকে সুরক্ষা রাখতে পারি।সাইবার সিকিউরিটিঃ- এবার আমরা জানবো computer device, data, network এবং program গুলিকে cyber attack, cybercrime এবং অবৈধ ব্যবহার থেকে সুরক্ষিত করে রাখা যায় বা নিজেকে সুরক্ষা কিংবা সাইবার সিকিউরিটি দিতে পারি।সোজা ভাবে বললে, computer, device বা network গুলিকে cybercrime থেকে বাঁচিয়ে রাখার প্রক্রিয়াটিকেই বলা হয় সাইবার সিকিউরিটি বা IT Security) বলেও বলা যেতে পারে।নিচের বিষয়গুলো পালন করলে ইনশাআল্লাহ আপনার সাইবার সিকিউরিটি হয়ে যাবে।
১) নিজের কম্পিউটার ও মোবাইলে কেবল genuine বা original software এবং application ইনস্টল করবেন।
২) ইন্টারনেটে কোনো ধরণের অবিস্বস্ত ওয়েবসাইট থেকে কোনো রকমের ফাইল ডাউনলোড করবেননা।
৩) যদি আপনি একটি android mobile ব্যবহার করছেন, তাহলে কেবল Google play store থেকেই apps download করবেন।
৪) অবিস্বস্ত ওয়েবসাইট, apps এবং social profile গুলিতে নিজের mobile number এবং কোনো ধরণের তথ্য দিবেননা।
৫) আপনার ইমেইল একাউন্টে আশা যেকোনো রকমের পুরস্কার, উপহার বা লটারির ইমেইল গুলিকে সাথে সাথে ডিলিট করে দিবেন। এই ধরণের ইমেইল আপনাকে লোভ দেখিয়ে ঠকানোর জন্য পাঠানো হয়।
৬) অপ্রয়োজনীয় এবং অবিস্বস্ত application মোবাইলে ইনস্টল করবেননা। অনেক অবিস্বস্ত apps রয়েছে যেগুলি আপনার মোবাইলের file manager, camera, sms inbox, location এবং আরো অন্যান্য তথ্য আপনার অনুমতি ছাড়া গ্রহণ করতে পারে।
৭) নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার অন্য ব্যাক্তিকে ব্যবহার করতে দিলে, আপনি অবশই চোখ রাখবেন। অনেক বেশি সময়ের জন্য আপনার device কাওকে ব্যবহার করতে দিবেননা।
৮) আমরা যখন ঘরের বাইরে থাকি, তখন যেকোনো জায়গায় open wifi connection পেয়েগেলে অনেক খুশি হয়ে যাই। কিন্তু সাবধান, এই ধরণের password ছাড়া wifi connection বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হ্যাকিং (hacking) এর উদ্দেশ্যে open রাখা হয়। আপনি সেই open wifi নেটওয়ার্কে connect করার সাথে সাথে আপনার ডিভাইস হ্যাক হয়ে যেতে পারে।
৯) যেকোনো computer cafe, office computer বা public কম্পিউটার থেকে online banking বা banking transactions করবেন না।
১০) নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে banking transaction করার পর, online banking passwords বা debit card details কখনো সেভ (save) করে রাখবেন না।
১১) নিজের পুরোনো কম্পিউটার বা মোবাইল বিক্রি করার আগে অবশই সম্পূর্ণ ডিভাইস ফরম্যাট (format) করে নিবেন। এতে, আপনার ব্যক্তিগত সব ধরণের তথ্য ডিলিট হয়ে যাবে।
১২) মোবাইলে ডাউনলোড করা প্রায় ৯০% এপস আপনার gallery বা file manager এ প্রবেশ করার অনুমতি চায়। এবং, আমরা সকলে কিছু না ভেবেই সেই এপস গুলিকে অনুমতি দিয়ে দেই। তাই, নিজের মোবাইলে কোনো রকমের ব্যক্তিগত ছবি (personal pictures) রাখবেননা।
১৩) নিজের কম্পিউটার এবং wifi connection গুলিতে পাসওয়ার্ড অবশই দিয়ে রাখবেন।
১৪) ব্যক্তিগত ফাইল এবং ছবি গুলিকে একটি external hard drive এ রাখার চেষ্টা করুন। এবং external hard drive পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করে রাখুন।
১৫) নিজের কম্পিউটারে অরিজিনাল OS (operating system) তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করবেন।
১৬) নিজের social media account password, email account password এবং online banking password সময়ে সময়ে পরিবর্তন করতে থাকবেন।
১৭) কম্পিউটার এবং মোবাইলে একটি ভালো antivirus এবং internet protector সফ্টওয়ার অব্শ্যই ব্যবহার করবেন।উপরে আমার বলা নিয়ম গুলি মেনে চললে, আপনি নিজেকে সাইবার ক্রাইমের শিকার হওয়ার থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন।মনে রাখবেন, ইন্টারনেট মানে হলো একটি নেটওয়ার্ক (network) এবং এই নেটওয়ার্ক বিশ্বের হাজার কোটি কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত হয়ে রয়েছে।তাই, যখন আপনিও আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তখন সেই হাজার কোটি কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত হয়ে যান।এবং, যদি আপনি কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে না চলেন, তাহলে কিছু অবৈধ প্রক্রিয়া বা প্রযুক্তির ব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা আপনার কম্পিউটারে এই ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারে।উল্লেখ্য যে, রাজবাড়ী জেলার সকল বিট অফিসারকে তাদের বিট অফিসের পেজে, বিভিন্ন বিট অফিসের প্রোগামে, ঊঠান বৈঠকে, জুম্মার নামাজের পূর্বের বয়ানে এমিনকি বিভিন্ন সভা সেমিনারে উক্ত বিষয়ে আলোচনা করার জন্য বলা হয়েছে।
লেখক : মোঃ আমিনুল ইসলাম পুলিশ পরিদর্শক রাজবাড়ী সদর সার্কেল অফিস এবং ইনচার্জ সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল, রাজবাড়ী। ২৭/০৫/২০২২ খ্রিঃ।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়
















































































































