সংগ্রাম, আদর্শ ও প্রেরণার দীপশিখা “হেনা দাস” — লেখক ঃ ফারহানা মিনি
- Update Time : ১০:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ৪৩ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম ঃ
বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলন, নারী জাগরণ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে বিপ্লবী হেনা দাস এক উজ্জ্বল নাম। তিনি ছিলেন একজন সাহসী সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, নারী অধিকারকর্মী এবং সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত। তাঁর সমগ্র জীবন ছিল মানুষের মুক্তি, সমতা, শিক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার নিরলস সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তার জন্ম: ১৯২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, সিলেট জেলার (তৎকালীন আসাম প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত) হবিগঞ্জে।
মৃত্যু: ২০ জুলাই ২০০৬, ঢাকায়। বাবার নাম: সতীশ দত্ত। মায়ের নাম: মনোরমা দত্ত।
হেনা দাস ছাত্রজীবন থেকেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, নারী অধিকার আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পরও তিনি নারী অধিকার, নারী শিক্ষা এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তাঁর অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় ।শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। নারীকে সমাজের মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তিনি আজীবন কাজ করেছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল—শিক্ষা, সচেতনতা এবং সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমেই নারীর অধিকার ,একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শিক্ষক হিসেবে হেনা দাস ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও অনুপ্রেরণা দানকারী। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেননি, বরং দেশপ্রেম, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় এবং সাহসের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে হেনা দাসের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি নারীর সমঅধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারীর অগ্রগতি ছাড়া সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তিনি নারীকে শিক্ষিত, সচেতন ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
হেনা দাসের সংগ্রামী জীবন আমাদের শেখায়-আদর্শ ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা যায়। তাঁর আত্মত্যাগ, সততা, দেশপ্রেম এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত জীবন আজও আমাদের জন্য অনুকরণীয়। বর্তমান সময়ে যখন সমাজে বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও অন্যায়ের নানা রূপ আমরা দেখতে পাই , তখন হেনা দাসের জীবনাদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করি। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হতে পারে তাঁর প্রতি আমাদের সর্বোত্তম শ্রদ্ধাঞ্জলি। বিপ্লবী হেনা দাস আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্ম, সংগ্রাম এবং অনন্য আদর্শের মধ্য দিয়ে।
লেখক ঃ ফারহানা মিনি, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রাজবাড়ী জেলা শাখা।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































