অস্বচ্ছল নাইমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করলেন রাজবাড়ীর এসপি শাকিলুজ্জামান
- Update Time : ০৬:৫০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২
- / ৬৪ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর নাইম শেখ এবার ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ তম স্থান অর্জন করেছে। যদিও অস্বচ্ছল ও চরম দরিদ্র পরিবারের সন্তান নাইম। তিনি ভর্তির সুযোগ পেলেও আর্থিক সংগতি না থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছিলেনা। এ অবস্থায় দৈনিক কালের কণ্ঠ শুভসংঘ রাজবাড়ী জেলা শাখার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামানের সাথে। তিনি নাইমের বর্তমান অবস্থার কথা শুনে তার ভর্তির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রবিবার দুপুরে শুভসংঘের সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে নাইমের হাতে ভর্তির অর্থ তুলে দেন পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার ছাড়াও শুভসংঘ রাজবাড়ী শাখার সভাপতি ও রাজবাড়ী সরকারী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সরোয়ার মোর্শেদ খান স্বপন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাহউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রশিদ মন্ডল, শুভসংঘের সহ-সভাপতি ও বরাট ভাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শম্পা প্রামাণিক, যুগ্ন সম্পাদক হাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপারের বিশেষ শাখার অফিসার ইনচার্জ সাইদুর রহমান, রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, শিক্ষক বিমল চন্দ্র সন্যাসীসহ অন্যান্যরা।

নাইমের বাড়ী রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের গোপিনাথদিয়া গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, নিদারুন অবস্থা। ওই বাড়ীতে রয়েছে একটি ভেঙ্গেপড়ার দশা টিনের ছাপরা ঘর। যার পাশে রাখা আছে একটি পুরাতন রিকশা। নাইমের অসুস্থ বাবা আব্দুর রহমান শেখ ওই রিকশাটি চালিয়ে কোন রকমে সংসার পরিচালনা করে আসছেন। আর ওই ঘরে বাবা, মাসহ তারা ৩ ভাই কোন রকমে বসবাস করে আসছেন।
নাইমের মা আমেনা বেগম বলেন, তার তিন সন্তানের মধ্যে নাইম মেজো। বড় ছেলেও শারীরিক ভাবে সুস্থ নয়, আর ছোট ছেলেকে আর্থিক অনটনের জন্য পড়াশোনা করাতে পারেন নি। তিনি আরো বলেন, নিজেদের খাবারইতো জোটে না, তাই নাইমের মুখে ভালো কোন খাবার তুলে দেবার সাধ্য তাদের নেই। জামা কাপড়ও তাকে ঠিক মত দিতে পারেন নি। টুকিটাকি যে সব জমিজমা ছিলো তা বিক্রি করে নাইমের বাবা ও বড় ভাইয়ের চিকিৎসা করানো হয়েছে। এখন প্রায় সর্বশান্ত তারা। নাইমের নানার দেয়া পৌনে ২ শতাংশ জমিই তাদের এখন ভরসা। ওই জমিতে কোন রকমে ছাপড়া তুলে বসবাস করছেন তারা।
নাইমের বাবা আব্দুর রহমান শেখ বলেন, নাইম ছেলে বেলা থেকেই অত্যান্ত মেধাবী। তবে তার পড়ালেখার পেছনে তিনি তেমন কোন অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন নি। এবার ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ তম স্থান অর্জন করেছে। অথচ তাকে সেভনে ভর্তি করার মত অর্থের কোন যোগান তার নেই। ওর পড়ালেখা এগিয়ে নেবার জন্য জন্য জেলা শহরের শ্রীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয় এবং ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের শিক্ষকরা পর্যাপ্ত করেছে। ওই সব প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষকরা পাশে না দাঁড়ালে আর এ পর্যন্ত নাইম আসতে পরাতো না। তিনি ওই সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সহযোগিতা করায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘ এবং আর্থিক সহযোগিতা করায় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
নাইম বলেন, আমি পঞ্চম, অষ্টম, ও এইসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। তবে এসএসসিতে পেয়েছি ৪.৪৪। আমি কালের কণ্ঠ শুভসংঘ, আমার শিক্ষকসহ রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ মানুষ গুলো পাশে না থাকলে আমার উচ্চ শিক্ষার আসা ছেড়ে দিতে হতো। এখন যেহেতু তিনি ঢাবিতে ভর্তি সুযোগ পাচ্ছেন, সে কারণে তার প্রথম ইচ্ছে ঢাবি’র শিক্ষক হওয়া। তিনি তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনাও করেছেন।
দৈনিক কালের কণ্ঠ শুভসংঘ রাজবাড়ী জেলা শাখার অন্যতম উপদেষ্টা ও রাজবাড়ী ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাইদা খানম জানিয়েছেন, ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য নাইমকে শ্রীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালিন প্রধান শিক্ষক বিমল চন্দ্র সন্যাসী তার কাছে নিয়ে আসেন। সে সময়ও নাইমের কোন অভিভাব এগিয়ে আসেনি। ওই শিক্ষক তাকে বলেছিলেন, “নাইম অত্যান্ত মেধাবী, তার পড়াশোর জন্য পাশে থাকি”। আমার তার পাশে ছিলাম। তার বাড়ীতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাসহ বিনামূল্যে শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়া, স্কুলে আসা যাওয়ার জন্য ভাড়া এবং মাঝে মধ্যে খাবারের ব্যবস্থাও করেছি। তাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ তম স্থান অর্জন করেছে নাইম। এটা অনেক বেশি গর্বের। তিনি আসা করেন, নাইম তার মেধার এই ধারা অব্যাহত রাখবে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান বলেন, অস্বচ্ছল, হতদরিদ্র এবং অত্যান্ত মেছাবী ছাত্র নাইম। তিনি তার পাশে থাকবেন। ফলে উচ্চ শিক্ষায় নাইমের সমস্যা হবে না। তিনি আরো বলেন, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে সমাজের উচ্চ বিত্তদের দাঁড়ালো উচিৎ। তা না হলে এই সব মেধাবীরা আর্থিক অনটনের কারণে হারিয়ে যাবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়






































































































