রাজবাড়ীর জামালপুরের খামার মাগুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে করুন দশা –
- Update Time : ১০:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই ২০১৮
- / ৫২ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
ঝড়ে উড়ে গেছে শ্রেণী কক্ষ। তাই নেই কোন উপায়। ক্লাসতো হতেই হবে। যে কারণে গাছ তলাতেই প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত হচ্ছে ক্লাস। তবে বৃষ্টি হলে সে স্থানটিও থাকে না নিরাপদ, বন্ধ হয়ে যায় ক্লাস। গত দুই মাস ধরে এমনটিই চলে আসছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের খামার মাগুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকরা বলেছন, শ্রেণী কক্ষের অভাবেই এমনটি হচ্ছে। তাদের দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করতে না পারলে ঝড়ে যাবে অনেক শিক্ষার্থী। শুধুমাত্র ওই বিদ্যালয়ের অবস্থা এমন তা নয়। জেলার ৪৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৬৭ টি বিদ্যালয়েই রয়েছে এমন শ্রেণী কক্ষ সংকট।
জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলো মিটার দুরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত খামার মাগুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখাযায়, ওই বিদ্যালয় মাঠের এক পাশে রয়েছে দুই রুমের একটি টিনের ঘর। ওই ঘরের একটিতে অফিস রুম, অন্যটিতে হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস। আর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস হচ্ছিল স্কুল মাঠের পাশে থাকা মেহগনি ও নারিকেল গাছের ছায়ায়।
ওই সময় ক্লাস নিতে থাকা সহকারী শিক্ষক সমিতা রানী বসু ও নিভা মন্ডল ও দীপ্তি বিশ^াস বলেন, এ বিদ্যালয়টি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে এটি সরকারী করন করা হয়। এখানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ চার জন শিক্ষক রয়েছে। শুরু থেকেই পৃথক দুইটি টিনসেড ঘরের চারটি রুমে ক্লাস নেয়া হতো। তবে দুই মাস আগে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ায় একটি ঘর ভেঙ্গে মাটিতে পরে যায়। ফলে শ্রেণী কক্ষ সংকট চরমে ওঠে। বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোন ওই ঘরটি পুনরায় স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। যদিও তারা শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। যে ঘরটি ভাল আছে ওই ঘরের একটিতে অফিস রুম, অন্যটিতে নেয়া হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস। আর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস হচ্ছিল স্কুল মাঠের পাশে থাকা মেহগনি ও নারিকেল গাছের ছায়ায়।
অপর শিক্ষক দীপ্তি বিশ^াস বলেন, ঝড়-বৃষ্টি, রোদ উপেক্ষা করে তারা এই গাছ তলায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে আসছেন। এতে করে দিন দিন কমছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা। সামান্য বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাসে বন্ধ থাকে পাঠদান। অপরদিকে, স্কুলটি আসা-যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটির অবস্থা নাজুক। কাঁচা ওই রাস্তা বৃষ্টির পানিতে বেশিরভাগ সময়ই থাকে কাঁদাযুক্ত। মাঝে মধ্যেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ওই রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়ার করতে গিয়ে পিচ্ছিল খেয়ে পড়ে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট করছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস, শারমিন আক্তার, পারুল খাতুন জানান, গাছ তলায় রোদ-বৃষ্টিতে তারা স্কুলে ক্লাস করতে পারেনা। এতো কষ্ট করে পড়াশোনা করাটা তাদের জন্য অন্কে কষ্টের। তাদের দাবী জরুরী ভাবে হলেও তাদের বিদ্যালয়ে যে ভবন তৈরী করে দেয়া হয়। সেই সাথে আসা-যাওয়ার রাস্তাটাও যেন পাকা করা হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইসরাইল সেখ জানান, যে টিন সেড ঘরটিতে এখন অফিস ও পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস হচ্ছে, সেটির অবস্থাও ভাল নয়। নতুন করে ঝড়ো হাওয়া হলে এই ঘরটিও উড়ে যেতে পারে। আর সে সময় অফিস রুমও গাছ তলাতেই পরিচালনা করতে হবে। যে কারণে দ্রুত সময়ে মধ্যে ভবন তৈরীর করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষর কাঠে অনুরোধ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল হক মন্ডল জানান, এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান অনেক ভাল। বিগত বছরের শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তির্ণ হয়। অথচ তারা শ্রেণী কক্ষের অবভাবে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারছেন না। বৃষ্টি অথবা তীব্র রোদ হলেই শিশুদের ক্লাস বন্ধ করে দিতে হয়। রোদ ও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে শিশুরা টিনসেড ঘরের বারান্দা অথবা পাশের বাড়ীতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্রয় নিতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুরা ভেজা কাপড় নিয়ে বাড়ীতে ফিরে যায়। এ অবস্থার বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো হয়নি কোন কাজের কাজ।
বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী সজল কুমার দত্ত ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্কুলটি তারা পরিদর্শন করেছেন, অবস্থা খুবই নাজুক। বিদ্যালয়টিতে কোন ধরনের পাকা ভবন নেই। যে টিন শেড ঘরটি বর্তমানে দাঁড়িয়ে আছে তার অবস্থা জরাজীর্ণ। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ভবনের কাজ শুরু করা হবে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে।
রাজবাড়ী জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, জেলায় ৪৮২টি প্রাথমিক বিদ্যাল রয়েছে। যারমধ্যে ২৬৭ টি বিদ্যালয়েই রয়েছে শ্রেণী কক্ষের সংকট। ওই বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষ সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং অনলাইনেও দেওয়া আছে। খামার মাগুড়া স্কুলটি নতুন সরকারীকরণ হয়েছে, অনুমোদন আসলে পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয় গুলোতে নতুন ভবন করা হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়
















































































































