ভিজিডি’র খাদ্য সহায়তা : গোয়ালন্দে দুঃস্হ্য নারীর কার্ড জব্দ করার অভিযোগ –
- Update Time : ০৯:২২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১
- / ৬২ Time View
শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নে ভিজিডি’র জন্য অনুমোদিত শতাধিক দুঃস্থ্য নারীর কার্ড জব্দ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।
জব্দকৃত কার্ডগুলোর উপরে লেখা নাম -ঠিকানা,ছবি ও আইডি নম্বর কলম দিয়ে কেটে সেখানে তিনি তার পছন্দের নারীদের নাম বসিয়ে দিচ্ছেন বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। আগামী রবিবার সংশোধিত এ সকল কার্ডধারীদের চাউল দেয়া হবে বলে জানা গেছে।দুইবছর মেয়াদি প্রতিটি কার্ডধারী প্রতিমাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন।
তবে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন,এ সকল কার্ডধারীদের নাম ইউনিয়ন পরিষদ হতে অনুমোদিত প্রাথমিক তালিকায় ছিল না।তারা কিভাবে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো সেটা যাচাইয়ের জন্য আমি কার্ডগুলো জব্দকরি।তবে প্রকৃত সকল কার্ডধারীকে তাদের কার্ড ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি ইউপি সচিব পরিমল কুমার ও উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সালাম সিদ্দিকীকে নাম পরিবর্তনের জন্য দায়ী করেন। কার্ডে নাম পাল্টে দেয়ার বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।
গোয়ালন্দ উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ সালাম সিদ্দিকী বলেন, ছোটভাকলা ইউনিয়নে ভিজিডি’র জন্য মোট ৭৮২ জন অনলাইনে আবেদন করেন।সেখান থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন,সচিব ও এক নারী সদস্য সিল -স্বাক্ষরসহ ৩৭২ জনকে চূড়ান্ত করে দেন।উপজেলা কমিটি সেই তালিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করে ৩৭২ টি কার্ড সরবরাহ করে।উপজেলা কমিটির চূড়ান্ত তালিকাতেও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও সচিব পরিমল স্বাক্ষর করেছেন।এ সংক্রান্ত সকল নথিপত্র তার দপ্তরে জমা রয়েছে। চেয়ারম্যান যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শনকালে রুপবান বেগম নামের এক মহিলা বলেন, চেয়ারম্যান আমার কার্ড জব্দ করে নিয়ে সেখানে আকলিমা নামের এক মহিলার নাম বসিয়ে দিয়েছে। আমি চাল আনতে পরিষদে গিয়ে ফিরে এসেছি।
হাসিনা বেগম নামের অপর এক মহিলা বলেন,আমার কার্ড বাড়িতে চৌকিদার গিয়ে নিয়ে আসে। চাল দেয়ার খবর শুনে পরিষদে এসেছি। আমার কার্ড ও চাল কোনটাই দেয়নি।উল্টো গালমন্দ করেছে।
এভাবে তাদের মতো আরো অনেকেই অভিযোগ করে বলেন,কয়েক মাস আগে তারা অনলাইনে আবেদন করার পর ইউনিয়ন পরিষদে উম্মুক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।সে অনুযায়ী তাদের নামে কার্ড হয়। চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে কার্ডগুলো আমাদের হাতে তুলে দেন।আবার প্রায় ১মাস পর চৌকিদারের মাধ্যমে আমাদের কর্ডগুলো বাড়ি থেকে নিয়ে যান।এখন শুনছি তিনি নাকি আমাদের কার্ডগুলো অন্যদের দিয়ে দিচ্ছেন। আমরা গরিব মানুষ। তাহলে আমাদের এখন কি হবে। কার্ডগুলো পেতে তাদের কোথাও কোন টাকা-পয়সা দিতে হয়নি বলে তারা জানান।
চেয়ারম্যান তাদের মতো দুঃস্থ্য নারীদের ভিজিডির কার্ড নিয়ে ভোটের রাজনীতি শুরু করেছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন,চেয়ারম্যান ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে উপকারভোগী ৩৭২ জনের নাম চূড়ান্ত করে দিয়েছেন। আমি তারসহ কমিটির সকলের সিল-স্বাক্ষর দেখে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছি। অনুমোদিত কার্ড জব্দ করা বা সেগুলো প্রকৃত দুঃস্থ্য নারীর পরিবর্তে অন্যকে দেয়ার আইনত কোন সুযোগ নেই এবং তা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ১৫ জন নারী তার নিকটও অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়
















































































































