বালিয়াকান্দিতে এসি ল্যান্ডের উদ্যোগে ‘অধিকার দর্পণ’ স্থাপন –
- Update Time : ১০:২৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১
- / ৫৫ Time View
মাসুদ রানা, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
এবার অধিকার দর্পণে নিভূল হবে ই-নামজারীর খতিয়ান/পর্চা। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ই-নামজারী ত্রুটিমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৈরি করেছেন “অধিকার দপর্ণ” নামে একটি ৪০ইঞ্চি ডিসপ্লে স্ক্রিন। যে স্ক্রিনে সেবা গ্রহিতারা তাদের তথ্য দেখে নিতে পারবেন।
নিজ উদ্যোগে বালিাকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আবু দারদা এটি তৈরি করেছেন। স্ক্রিনটির নাম দেয়া হয়েছে “অধিকার দর্পণ”।
শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে উপজেলা ভূমি অফিসে ‘অধিকার দর্পণ’ এর শুভ উদ্বোধন করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম।
উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কক্ষে ৪০ইঞ্চির একটি ডিসপ্লের স্ক্রিন সেট করা হয়েছে। সেটির উপর লেখা হয়েছে “অধিকার দপর্ণ”। সেবা প্রত্যাশীরা বড় স্ক্রিনে তাদের খতিয়ান, তথ্য দেখে নেয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সেখানে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন, ২০৪১ বাস্তবায়নের একটি ছোট্ট পদক্ষেপ হিসেবে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের “যাদের জন্য, যাদের অর্থে আজকে দেশ চলছে তাদের যাতে কষ্ট না হয়, তার দিকে খেয়াল রাখুন” এই নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা এর সার্বিক তত্তাবধানে উপজেলা ভূমি অফিস, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী-এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারী কার্যক্রমে শুনানী গ্রহণের স্থানে ‘অধিকার দর্পন’ স্থাপন করেছেন।
ভূমি সংশ্লিষরা মনে করছেন, এটির মাধ্যমে শুনানীর সময় প্রস্তাবিত খতিয়ান প্রদর্শন করে সেবাগ্রহীতার নিকট স্বচ্ছ ও ভুলত্রুটিমুক্ত সেবা প্রদান সম্ভব হবে। সেই সাথে মিসকেস সৃজনের সংখ্যা হ্রাসের মাধ্যমে করণিক ভুল জাতীয় মামলাজট কমিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।
‘অধিকার দর্পণ’ এর উদ্যোক্তা বালিয়াকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আবু দারদা বলেন, যোগদানের পর থেকেই ই-নামজারী সেবা গ্রহিতাদের স্বচ্ছ খতিয়ান দিতে এমন কিছু ভাবছিলাম। অবশেষে সফল হয়েছি। আসলে ই-নামজারী কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নামজারী অনুমোদন শেষে অনুমোদিত পর্চা/খতিয়ান প্রদান। অনেক সময়ই দেখা যায় যে, অনুমোদিত পর্চা/খতিয়ানে ভুলত্রুটি থেকে যায় যা পরবর্তীতে সেবাগ্রহীতাকে ভোগান্তির মুখে ফেলে এবং মিসকেসের মাধ্যমে সংশোধন করতে বাধ্য করে ও মিসকেসের সংখ্যাও বেড়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে একটি সহজ উপায়- শুনানী গ্রহনকালে প্রস্তাবিত খতিয়ান/পর্চাটি অনুমোদনের পূর্বেই আবেদনকারীকে এবং দাতা/বিবাদীকে (যদি উপস্থিত থাকে) প্রদর্শন করে নিশ্চিত হয়ে নেয়া যাতে কোনরকম ভুল যেমন নামের বানান, ঠিকানা, অংশ, শ্রেণি, পরিমাণ, ইত্যাদি ঠিক আছে কিনা। আধুনিক ই-নামজারী প্রক্রিয়ায় সিস্টেমে প্রস্তুতকৃত খতিয়ান/পর্চাটি খুব সহজেই বড় পর্দায়/স্ক্রিনে প্রদর্শন করা সম্ভব। ফলে প্রস্তাবিত খতিয়ানটি প্রিন্ট না করেই সেবাগ্রহীতার দ্বারা চিহ্নিত কোন সংশোধন থাকলে আমি নিজেই তাৎক্ষণিক সংশোধন করে অনুমোদন দিতে পারবো। এর ফলে ভবিষ্যতে আবেদনকারীর হয়রানির শিকার হতে হবে না বা মিসকেস-এর মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করতে হবে না বলেও তিনি মনে করেন।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, ‘এটি খুব ভালো আইডিয়া। ই-নামজারীর খতিয়ান ভুল থাকলে পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়। নিজস্ব উদ্যোগে বালিয়াকান্দি ভূমি অফিস ‘অধিকার দপর্ণ’ নামক যে স্ক্রিনটি সেটা করা হয়েছে, সেখানে সেবাগ্রহিতারা শুনানীকালে তাদের তথ্য দেখে নিতে পারবেন। এটা থেকে সেবা প্রত্যাশীরা তাদের স্বচ্ছ ই-নামজারী খতিয়ান/পচার্ পাবেন। ফলে ভবিষ্যতে আবেদনকারীর হয়রানির শিকার হতে হবে না বা মিসকেস-এর মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করতে হবে না, অনেক ঝামেলা কমে যাবে বলেও তিনি মনে করেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়
















































































































