ঘাতকরা দাদা’র ভালবাসা থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছে- চৈতি –
- Update Time : ১০:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৮
- / ৫৫ Time View
জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
“যখন দেখি কোন শিশু তার দাদা’র হাত ধরে হাটছে, কোলে চড়ে ঘুরছে, দাদা’র সাথে করছে দুষ্টামি, করছে মাতামাতি আর আনন্দ। আমি তখন শিশুটির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি এবং তাদের ওই ভালবাসার দৃশ্য দেখে মনের অজান্তে নিজের চোখের অশ্রু মুছি।” তখন ভাবি- আমারওতো দাদার সাথে এমনটি করার কথা ছিলো। আমিওতো দাদার সাথে আনন্দ করতে পারতাম। ওই নর ঘাতকরা আমাকে আমার দাদার আদর থেকে বঞ্চিত করেছে। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে বছরের পর বছর ধরে এ কষ্ট বুকে বয়ে বেড়াচ্ছি। যদিও আমি এখন বুঝি আমার দাদা “সেরা” দাদা। তার মত মহৎ হৃদয়ের মানুষ আর একটিও হবে না। মহত্বের দিক দিয়ে তার ধারের কাছেও কেউ যেতে পারবে না।
সেদিন সহজ-সরল এক প্রবীণ ব্যক্তি আমার কাছে এগিয়ে এসে বললো “তুমি হিদি কাজী’র নাতনি”। তোমার দাদার ঋণ আমি কোনদিনই শোধ করতে পারবো না। আমি তোমাদের বাড়ীতে থেকে বছরের পর পড়েছি, খেয়েছি, পরীক্ষা দিয়েছি, পরীক্ষায় পাস করে পরবর্তীতে চাকুরীও করেছি। তোমার দাদা যদি আমাকে আশ্রয় না দিতেন আমার হয়তো কোন দিনই স্বপ্নই পূরণ হতো না। আমাকে হয়তো অন্যদের মত সাদামাঠা একজন মানুষ হিসেবে চলতে হতো। সুখের পরশ পাওয়া হতো না।”
আমি লোকটির মুখের দিকে কিছুটা সময় তাকিয়ে থাকলাম আর দাদার জন্য গর্বে আমার বুকটা ভরে উঠলো। বললাম আপনিতো আমার দাদার ¯েœহ পেয়েছেন, তাই দাদাকে মনে রেখেছেন। আমিতো শুধু দাদার ছবি দেখেছি, আমিতো তার আদর, ভালবাসা পাইনি। আপনী আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করুন, আমি যেন দাদার আদর্শ বুকে লালন করতে পারি। আমার বাবা যেন দাদার আদর্শে আরো এগিয়ে যেতে পারেন। লোকটি বললো, তোমাকে দোয়া চাইতে হবে না, হাজারো শিক্ষার্থী তোমাদের বাড়ীতে থেকে পরীক্ষা দিয়েছে, বিনামূল্যে খেয়েছে, তারা মানুষের মত মানুষ হয়েছে। খালি হাতে তোমার দাদার কাছ থেকে কেউ কখনো ফিরে যান নি। ঘাতকরা যদি তাকে হত্যা না করতো, তবে রাজবাড়ী জেলা হতো দেশের সব চেয়ে সুন্দরতম একটা জেলা। এ জেলার মানুষকে কখনোই পিছিয়ে থাকতে হতো না। রাজবাড়ীর গণমানুষ তোমাদের সাথে সাথে আছে, আছে তোমার দাদার দিক্ষায় দিক্ষিত হয়ে।
স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে এ কথা গুলো বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলীর একমাত্র সন্তান এবং বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধা, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রাক্তন গণপরিষদ সদস্য, রাজবাড়ী পৌরসভা সাবেক চেয়ারম্যান এবং আওয়ামীলীগের তৎকালীন রাজবাড়ী আঞ্চলিক জোনের সাধারন সম্পাদক কাজী হেদায়েত হোসেন-এর বড় নাতনি কানিজ ফাতেমা চৈতি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের জখন্যতম ওই হত্যাকান্ডের পর ঘাতকরা থেমে যায়নি। তারা বঙ্গবন্ধু’র সহযোদ্ধাদেরও খুজে বের করার পাশাপাশি তাদেরকে হত্যার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। যার ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাত্র তিন দিনের মাথায় ১৮ আগষ্ট প্রকাশ্য গুলি করে হত্যা করে কাজী হেদায়েত হোসেনকে।
কাজী হেদায়েত হোসেন ছিলেন, বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধা, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রাক্তন গণপরিষদ সদস্য, রাজবাড়ী পৌরসভা সাবেক চেয়ারম্যান এবং আওয়ামীলীগের তৎকালীন রাজবাড়ী আঞ্চলিক জোনের সাধারন সম্পাদক। শনিবার কাজী হেদায়েত হোসেন- এর ৪৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী।
কাজী হেদায়েত হোসেনের বড় ছেলে এবং শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী জানান, তার বাবার মৃত্যু বার্ষিকী পালন উপলক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে শোক র্যালী, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়
















































































































