রাজবাড়ীর সুলতানপুরের সাবেক চেয়ারম্যান আন্জু’র ১৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী শুক্রবার –
- Update Time : ০৯:৪০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অগাস্ট ২০১৮
- / ৫৫ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর সুলতানপুর ইউনিয়নের আধুনিক রুপকার ও সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আন্জু –এর ১৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী শুক্রবার। সন্ত্রাসীরা ১৬ বছর আগে আজকের এই দিনে রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল আন্জুকে।
আন্জুর ছোট ভাই ইমরুল ইসলাম বাবুল জানান, শুক্রবার বিকালে সুলতানপুরে স্থাপিত আনিসুর রহমান আন্জু –স্মৃতি যব সংঘে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
আন্জুর স্মৃতি চারণ করে ইমরুল আরো জানান, দেখতে দেখতে ১৬টি বছর পার হয়ে গেল। তোমাদের প্রানের মানুষ, হ্নদয়ের গহীনে প্রতিনিয়ত দগ্ধিভুত হচ্ছো যাকে হারিয়ে । সুলতানপুর ইউনিয়নের আধুনিক রুপকার সেই মানুষ আনিসুর রহমান আন্জু (ভাই) এর মৃত্যু বার্ষিকী। কি নির্দয় নৃশংস নির্মমভাবে রাতের অন্ধকারে সেদিন হত্যা করেছিল । তোমরা সেইদিন থেকে কান্না শুরু করেছো আজও কেঁদেই চলেছো। আর আমরা কাঁদছি বুকের পাঁজর ভেঙে। তপ্ত লাভার স্রোত বুকের ভিতরে কালো শক্ত পাথরে রূপান্তরিত। তোমাদের কান্না কি দিয়ে থামাবো বলো ? চোখের সামনে ভেসে উঠে। ঢাকা থেকে রাতের মধ্য প্রহরে ছুটে গেলাম ভাই এর রক্তাক্ত খবর শুনে । কেউ বলে নি ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আহত এটুকুই বলে সান্তনা দিয়েছে সবাই। সারা পথ ভেবেছি। ভাবনার শেষ হয় না পথের দুরত্ব অনেক লম্বা মনে হচ্ছে। ভায়ের উপর হামলা হলে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে না। গোয়ালন্দ মোড় গিয়ে সঠিক খবর জানলাম। সরাসরি থানায় ঢুকালাম গাড়ী । গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে ভিতরে প্রবেশ করলাম । দুর থেকে তখন ফজরের আজানের ধ্বনি আসছে, যেনো কান্নার সুর । থানার বারান্দাতে চাদরে ঢাকা একটা খাটিয়া । আর এক ভাই পাশে অসহায়ের মতো সংগী কজন নিয়ে নিরব নিস্তব্ধ খাটিয়ার পাশে বসে আছে। আমাকে দেখে জরিয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকলো। আমি কাঁদছি না তখনো। আলতো করে চাদর সরালাম। বুলেটে ঝাঁঝরা ক্ষত বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পরছে । কাঁপা কাঁপা হাত দিয়ে রক্ত স্পর্শ করলাম। সমস্ত শরীর কেঁপে উঠলো। আমার চোয়াল, শরীরের সমস্ত মাংসপেশি গুলো ইস্পাত কঠিন শক্ত হয়ে গেলো। না কাঁদছি না তখনো। খাটিয়ার পাশে বসে পারলাম। চোখ দুটো বন্ধ করে গোটা পৃথিবীটা একবার দেখে নিলাম। ঘারের উপর হাতের স্পর্শ। চোখ মেলে দেখি আমার চোখ ছাপিয়ে কান্নার লোনা জলে গাল গড়িয়ে স্রোতের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সেই থেকে কাঁদছি। আমাদের কান্না থামাবার কেউ আসে নি। পুরা সুলতানপুর ছাপিয়ে রাজবাড়ী বাসীর কান্নাকে থামাবে। তারপর যা হবার নয় তাই হলো। আমরা অসহায় । কিছু বুঝে ওঠার আগেই , লাস দাফন-কফনের আগে আমাদের হাতে পেয়ে গেলাম রাজনৈতিক প্রহসনের মামলার স্লিপ। সেদিনের সেই প্রহসনের স্লিপ ১৭৫৭ সালের পলাশীর সেনাপতি মিরজাফরের প্রহসনের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় নবাবের পরাজয়ের মত, আন্জু ভায়ের হত্যার বিচারের শেষ সেদিনই নির্ধারিত হয়ে গেলো। সেদিনের সেই প্রহসনের মামলার স্লিপটাই সুলতানপুর বাসীকে আজ ১৬টি বছর শুধু কাঁদাচ্ছে। অপেক্ষা করো সুলতানপুর বাসী, তোমাদের কান্নার দিন শেষ হবে একদিন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়
















































































































