রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ৪২ ডাক্তারের পদের ২৫টি শূন্য, রোগীরা দূর্ভোগে –
- Update Time : ০৯:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
- / ৬১ Time View
জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
জেলার পাঁচটি উপজেলার ১২ লক্ষাধিক মানুষের প্রধান স্বাস্থ্য সেবার পাবার স্থল “রাজবাড়ী ১০০ শয্যার সদর হাসপাতাল”। তবে এ হাসপাতালটির চিকিৎসক সংকট এখন চরমে। ৪২টি পদের বীপরিতে ২৫ জন চিকিৎসকই নেই এখানে। যে ১৭ চিকিৎসক খাতা-কলমে রয়েছে তাদের মধ্যেও দুই জন রয়েছে মাতৃত্বকালিন ছুটিতে। অপর দিকে, জেলার প্রধান এই হাসপাতালে খাতা-কলমে নেই জরুরী বিভাগ। অবিবেচকেরমত কোন কারণ ছাড়াই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০৪ সালে এ হাসপাতালের জরুরী বিভাগটি বিলুপ্ত ঘোষনা করেছে। তার পর চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্ব-উদ্যোগে চালাচ্ছেন “জরুরী বিভাগ”। তবে সেখানে রয়েছে চিকিৎসক সংকট। জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে ৫ জন চিকিৎসক এনে সচল রাখা হয়েছে সেটি।
সরজমিনে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে গিয়ে দেখাযায়, রোগীরা দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে চিকিৎসককে দেখাচ্ছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাধ্যমত দিচ্ছেন ব্যবস্থাপত্র। তবে চোখের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীরা পরেন মহা বিপদে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেডিকেল অফিসাররা তাদের ফরিদপুর, ঢাকাসহ অন্যান্য হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
জেলার কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া থেকে আসা রোগী সাইদুল ইসলাম বলেন, বাঁশের আঘাত লেগে তার বাম চোখ ফুলে রক্ত জমাট হয়ে গেছে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে আসার পর তিনি জানতে পারেন এখানে কোন চোখের চিকিৎসক নেই। যে মেডিকেল অফিসার তার চোখ দেখেছে তিনি তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলেছেন। ফলে দারুর বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, এ হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী), সিনিয়র কনসালটেন্ট (ফরেনসিক মেডিসিন), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো সার্জারী), সিনিয়র কনসালটেন্ট (ই এন টি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি), মেডিকেল অফিসার এক জন, সহকারী সার্জন ও সমমান নয় জন, প্যাথলজিষ্ট এক জন, মেডিকেল অফিসার (হোমিও) -এর পদ শূন্য রয়েছে। সেই সাথে এ হাসপাতালে যোগদান করেই ডাঃ নার্গিস সুলতানা ও ডাঃ মাকসুদা আক্তার মাতৃত্বকালিন ছুটিতে রয়েছেন। এছাড়া প্রায় দেড় বছর আগে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট তাহমিনা আক্তার রাজবাড়ীতে যোগদান করলেনও তিনি ডেপুটেশনে কার্মরত আছেন সাভারে। যদিও মাস শেষে এখান থেকে নিয়মিত ভাবে নিচ্ছেন তিনি বেতন-ভাতা।
অপরদিকে, কর্মচারীর সংকটও রয়েছে প্রকট। এখানে নেই সেবাতত্বাবধায়ক, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, দুই জন সহ সেবক, ফার্মাসিষ্ট, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফিজিওলজিষ্ট), প্রধানসহকারী, উচ্চমান সহকারী, ক্যাশিয়ার, স্টেনোটাইপিস্ট, কম্পিউটার অপারেটর, ওয়ার্ড মাস্টার, রিসিপশনিস্ট, টিকেটক্লার্ক, রেকর্ড কিপার, লিলেনবিপার, স্টেরিলাইজার কাম মেকানিক, কার্ডওগ্রাফার,ইনস্টুমেন্ট কেয়ারটেকার, ডক রুম সহকারী, ল্যাবরেটরী এটেনডেন্ট, ডোম, পাম্প ও জেনারেটর অপারেটর, দুই জন স্ট্রেচার বেয়ারা এবং ওটিবয় এর পদও শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডাঃ দীপক কুমার বিশ^াস বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট। কোন কারণ ছাড়াই প্রায় ১৫ বছর আগে এ হাসপাতালের জরুরী বিভাগটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়েছে। তারপরও তারা জরুরী বিভাগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জরূরী বিভাগে ৫ জন চিকিৎসককে তারা জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডেপুটেশনে এনে কাজ করাচ্ছেন। ওই চিকিৎসকরা জরুরী বিভাগে কাজ করার পাশাপাশি পোষ্টমের্টেমেরও কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, চিকিৎসক সংকটের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে একের পর এক পত্র দিয়েও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। বিগত বছরের ১২ নভেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ হাসপাতালে চার জন চিকিৎসককে বদলী করা হয়। তারা আজ পর্যন্তও যোগদান করেননি। ফলে কোন ভাবেই তারা সংকট থেকে মুক্ত হতে পারছেন না। এতে করে রোগীরা দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়
















































































































