কাঁদো বাঙালি কাঁদো: ডাক্তার সুনীল কুমার বিশ্বাস –
- Update Time : ১০:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০
- / ৬৭ Time View
কাঁদো বাঙালি কাঁদো
সারা বিশ্বের তাবৎ বাঙালি আজ কাঁদো।
কেঁদে কেঁদে চোখের অশ্রুতে বন্যা বহায়ে দেই
চোখের জলের বন্যায় যদি নদী বহিয়া যায় ক্ষতি নেই।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অতি প্রিয় ধানমন্ডির ৩২নম্বরে আজিও,
লেগে আছে বঙ্গবন্ধু ও স্বজনদের রক্তের দাগ।
১৯৭৫ সনের,১৪ই আগস্টের মধ্যরাতে বন্দুক,কামান ট্যাংক বহর নিয়ে
সেনাবাহিনীর বেঈমান একদল দুর্বৃত্ত ধীরে ধীরে যায় এগিয়ে।
ঘাতকেরা আক্রমন করে বঙ্গবন্ধুর ৩২নম্বরের আবাস
লক্ষ একটাই বঙ্গবন্ধু ও তার স্বজনদের করিতে বিনাশ।
এ বাড়ীর বাসিন্দারা তখন গভীর ঘুমে অচেতন
বাড়ীতে তখন ঘাতক বাহিনী করিছে আক্রমন।
কামানের আক্রমন আর মুর্হুমুহু গর্জনে বঙ্গবন্ধু আতংকিত হন
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল শফিউল্লাকে করেন ফোন।
সেনাপ্রধান বঙ্গবন্ধুকে তার অসহায়ত্বের কথা জানান
ডেপুটি সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়া ও তার অপারগতার কথা কন।
রক্ষীবাহিনী বিশেষ বাহিনী তারাও এলো না এগিয়ে
বঙ্গবন্ধু আশা করেছিলেন তারা নিশ্চয়ই আসিবে এই দুঃসময়ে।
বঙ্গবন্ধুর ঋণ শোধ করিতে, ছুটে আসছিলেন বাংলার মোহন লাল কর্ণেল জামিল।
খুনীরা তাকে পথেই শেষ করে দেয় তিনি এই যুদ্ধে হতেই পারেননি শামিল।
শেখ কামাল নীচে নেমে যান, ব্যাপারটা ঠাহর করতে
তাঁকে দেখামাত্র ঘাতকেরা, গুলি করে তাঁকে মারতে।
রক্তাক্ত দেহ তাঁর লুটায়ে পড়ে মেঝের উপর,
বঙ্গবন্ধু তনয়কে মারতে হাত কাঁপিল না ঘাতকের।
এরপর সিঁড়ি বেয়ে বঙ্গবন্ধু নীচে নামছিলেন কি হলো ঘটনা জানতে,
পড়নে ছিল সফেদ পাঞ্জাবী,প্রিয় পাইপটি ছিল হাতে।
পেয়ে গেছি বলে তাঁর বুকটি ঝাঁঝরা করে দেয় ঘাতকেরা কিছু বুঝে উঠবার আগে,
লুটাইয়া পড়েন বঙ্গবন্ধু সিঁড়ির উপর,সেই চশমাটি ছিল চোখে।
বাংলার গৌরব রবি গেলেন অস্তাচলে
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি এই ছিল তাঁর ভালে।
পাকিস্তানের কারাগারে, বন্দী ছিলেন সাড়ে ৯ টি মাস প্রায়,
সামরিক আদালতে তার ফাঁসির হুকুম হয়।
বিশ্ব নেতৃবৃন্দের চাপে পড়ে পাকজান্তা তাকে ছেড়ে দেয়।
বাঙালির হাতে মরতে হবে,কল্পনা সেতো নয়।
সশস্ত্র ঘাতকেরা তখন একে একে, উপরে উঠিয়া যায়
একে একে মারতে থাকে,যাকে সামনে পায়।
বঙ্গবন্ধুর প্রিয় সন্তান শেখ জামালকে মারে,
বঙ্গবন্ধুর প্রিয়তমা স্ত্রী রেনুকেও মারে, গুলি করে।
শেখ কামাল ও শেখ জামালের নবপরিণীতা স্ত্রীদেরকেও মারে।
মেহেদীর রং তখনো শুকায়নি,হাতে চকচক করে।
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ ভ্রাতা, পঙ্গু শেখ নাসেরকেও মারে
বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের সকলের প্রিয়, দশ বছরের শেখ রাসেলকে ধরে
মায়ের কাছে যাবো বলে রাসেল কান্নাকাটি করে
মায়ের কাছে নিয়ে যাবার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে, শেষে তাকেও গুলি করে মারে।
দশ বছরের শিশুকে মারিতে, ঘাতকের মনে দয়া হয়না, সম্ভব কি করে?
একই সময় প্রিয় ভাগ্নে শেখ মনি আর আব্দুর রব
সেরনিবাতের বাসায় চলছিল হত্যার মহোৎসব,
একে একে সবাইকে নিধন করে ঘাতকেরা, এমনকি শিশু সুকান্ত বাবুও বাদ পড়েনি – এভাবেই সাঙ্গ করে এ জঙ্গীউৎসব।
বঙ্গবন্ধুর আদরের দুহিতা শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানা বিদেশে পড়ে রয়,
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন ইন্দিরা গান্ধী, দিলেন তাদের অভয়।
বিধাতার আর্শীবাদে তারা এ যাত্রায় রক্ষা পান
তাঁরা দীর্ঘজীবী হোন,তারা যে পূণ্যবান।
ঘাতকেরা যখন হত্যাযজ্ঞ চালায়, পদ্মা,মেঘনা,যমুনা,ধলেশ্বরী,করতোয়ার জল প্রতিবাদ জানায় উথাল পাতাল করে
সকালের সূর্য মুখ দেখালো না শোকে,
আকাশটা কালো মেঘে ঢেকে যায়,প্রকৃতি মায়ের কান্না বুঝি বৃষ্টি হয়ে ঝরে।
সকালের গোলাপ বিবর্ন হয় ছড়ালোনা সৌরভ অন্যদিনের ন্যায়,
পাখিরা সকালে শোকসঙ্গীত গায়,গাহিল না গান যেমনটি তারা গায়।
কুচক্রী খুনী মোশতাক রাত জেগে,পায়চারী করেন সুর্বন সংকেত আসিবে কখন?
তার ইচ্ছে পূরণ হয়েছিল অবশ্য, প্রেসিডেন্ট হওয়া যে তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপন।
তখ্তে বসেই কলমের খোঁচায় আনিলেন,সংবিধানের পরিবর্তন,
চার মূলনীতির দুইটা, সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতা করিলেন কর্তন।
পলাশী যুদ্ধের বিশ্বাস ঘাতকদের কি হয়েছিল পরিনতি?
মীর জাফরের কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল তিনি ছিলেন প্রধান সেনাপতি।
জগৎ শেঠ মরেন নৌকাডুবিতে,উমিচাঁদ হয়েছিলেন উন্মাদ, মীরকাসিম মরেন বজ্রাঘাতে।
লর্ড ক্লাইভ আত্নহত্যা করেন মনের জ্বালা জুড়াতে,
আর যতসব বেঈমান ছিলেন মরেন অপঘাতে,
স্বাভাবিক মৃত্যু, কাহারো হয়নি,ছিল না তাদের নিয়তিতে।
বঙ্গবন্ধুর খুনী কর্নেল ফারুকসহ অনেকেরই হয়েছে ফাঁসি,
যারা বেঁচে আছেন তাদের মুখে নেইকো কোন হাসি।
এখনো অনেকে লুকিয়ে আছেন দেশে কিংবা বিদেশে,
ক্ষমতার স্বাদ পাইনি তারা ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে।
মাত্র আড়াই মাস ক্ষমতায় ছিলেন, নরাধম মোস্তাক আর তার সঙ্গীগণ,
৩রা নভেম্বর, তাদের হটিয়ে দেন জেনারেল খালেদ মোশারফ বাংলার মীরমদন।
বেঈমানদের কেউই দেশে থাকতে পারেনি, পালিয়ে বেড়ায় দেশ দেশান্তরে,
ইতিহাসের রায় এমনি হয় চিরটা কাল ধরে।
খুনী কর্নেল রশীদ, কুচক্রী মোশতাকের নিকট আত্নীয় হয়
তিনি এখন পলাতক আছেন সুদূর লিবিয়ায়।
আরেক খুনী মেজর ডালিম পালিয়ে আছেন, পেয়ারের পাকিস্তানে,
দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেইকো তার রয়ে যাবেন সেখানে।
এক খুনি আছেন সুদূর কানাডায়
তাকে দেশে আনা যাচ্ছেনা, আইনী জটিলতায়।
কাঁদো বাঙালি কাঁদো
সারা বিশ্বের তাবৎ বাঙালি আজ কাঁদো।
চোখের জলের বন্যায়, নদী হয়ে যেন টুঙ্গিপাড়া যায়
শান্ত হবে শীতল হবে বঙ্গবন্ধুর তাপিত হৃদয়।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়
















































































































