বালিয়াকান্দি : বিনামূল্যের ঘর থেকে টাকা গ্রহণের অভিযোগ, পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন –
- Update Time : ১০:১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২০
- / ৫৩ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ৫টি আদিবাসী পল্লীর হতদরিদ্র ১৫টি পরিবারকে দু’দফায় সরকারী ভাবে বিনামূল্যে পাকা ঘর তৈরী করে দেয়া হচ্ছে। তবে ঘরপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই সব আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি জানাজানি হবার পর গত সোমবার বিকালে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের পক্ষ থেকে দুই টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে ওই কমিটি গুলো কাজ শুরু করেছে। আগামী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। অর্থ গ্রহণের বিষয়টি তদন্ত করবেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু দারদার নেতৃত্বে হওয়া ৩ সদস্য এবং ঘর নির্মাণ মান যথাযথ রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করবেন উপজেলা প্রকৌশলীর নেতৃত্বে হওয়া ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত) শীর্ষক কর্মসূচীর অধীনে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১ম কিস্তিতে ঘর প্রতি ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় ২ কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেড ঘর ১০টি এবং ২য় কিস্তিতে ১ লক্ষ ৯১ হাজার টাকায় ২ কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেড ঘর, রান্নার স্থান ও টয়লেট সংযুক্তসহ ৫টি ঘর বরাদ্দ আসে। এ প্রকল্পে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই পূর্বক নৃ-গোষ্ঠীর ৫টি সমিতিকে ৩টি করে ১৫টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।
ঘর গুলো বরাদ্দ পেয়েছেন, উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রশান্ত সরকার, ঝড়ু সরকার, চায়না রাণী সরকার, জামালপুর ইউনিয়নের কার্তিক সরকার, সুশান্ত সরকার, উজ্জল সরকার, বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের অনন্ত সরকার, গনেশ সরকার, অখিল সরকার, মদন সরকার, মিলন কুমার দাস, সূর্য রাণী, জোসনা রাণী, পরিতোষ সরকার এবং ইসলামপুর ইউনিয়নের নিরঞ্জন সরকার। ঘর বরাদ্দ পাওয়া অধিকাংশ পরিবার দিন মজুর ও হতদরিদ্র। তাদের ভিটে মাটি ছাড়া আর কিছু নাই।
ঘর পাওয়া নিরঞ্জন সরকার জানান, তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক। দুই সন্তানসহ ৪জনের পরিবার তার। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া একটি ঘর তিনি পেয়েছেন। কিন্তু ওই ঘর পেতে তাদের সমিতির সভাপতি প্রদীপ ৪০ হাজার টাকা দাবী করেন। থাকার ঘর না থাকায় ওই প্রস্তাবে তিনি রাজি হন। এছাড়া ঘরের কাজ শুরু হওয়ার পর টয়লেট, টিউবওয়েল দেয়ার প্রলোভনে আরও ৩ কিস্তিতে ৪০ হাজারসহ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন সভাপতি। আশা ও স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ এবং শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার করে এ টাকা দিয়েছেন। তারপর আবার ঘরের কাজ শেষ করতে বকশিসসহ বিভিন্ন কাজে আরও ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ঘরের কাজ শেষ হলেও মান ভাল হয়নি। ঘরে না উঠতেই ফ্লোরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী ঘর দেবার নামে তার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি সভাপতি প্রদীপের শাস্তিসহ ক্ষতি পূরন দাবি করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘর পাওয়া ১৫ জনকেই স্ব-স্ব গ্রামের সভাপতিদের নগদ ৪০ হাজারের উপরে টাকা দিতে হয়েছে।
অভিযুক্ত সমিতির সভাপতি হলেন, পূর্বমৌকুড়ী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি সুশান্ত সরকার, বহরপুর আদিবাসী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি সমীর কুমার দাস, হাড়িখালি আদিবাসী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি বিধান সরকার, জামালপুর ইউনিয়ন আদিবাসী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি বিনোদ সরকার এবং বালিয়াকান্দি দলিত নৃ-গোষ্ঠী উৎপাদনমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি প্রদীপ দাস।
বালিয়াকান্দি দলিত নৃ-গোষ্ঠী উৎপাদনমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি প্রদীপ দাস জানান, তিনি তার মেয়ের বিয়ের জন্য নিরঞ্জনের থেকে ২০ হাজার টাকা ধার হিসেবে নিয়েছিলেন। কিন্তু ঘর দেবার কথা বলে কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেননি। নিরঞ্জনের ঘরের ফ্লোর একটু খারাপ হয়েছে বলে এসব কথা বার্তা বলছে। তাছাড়া ভাড়া, বকসিসের বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।
জামালপুর ইউনিয়ন আদিবাসী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি বিনোদ সরকার জানান, তিনি কার্তিক সরকারের থেকে সমিতির জন্য ৪০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। যে টাকা গত সোমবার তিনি ফেরত দিয়েছেন। এছাড়া কোন টাকা নেননি।
বহরপুর আদিবাসী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি সমীর কুমার দাস জানান, তাদের সমিতি ৩ টি ঘর পেয়েছেন। যার মধ্যে সমিতির উন্নয়নের জন্য রেজুলেশন করে ঝড়ু সরকারের থেকে ৫৫ হাজার টাকা নিয়েছে । যা সমিতির ব্যাংক একাউন্টে আছে। এছাড়া অন্য দুই জনের থেকে কোন টাকা নেন নাই।
পূর্বমৌকুড়ী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি সুশান্ত সরকার জানান, তার সমিতির মাধ্যমে পরিতোষ, অনন্ত ও গণেশ সরকার নামে ৩ জনকে ঘর দিয়েছেন। প্রথম থেকে তিনি দেখা শুনা করছেন, যার দরুন তিনি খরচ খরচা বাবদ প্রত্যেকের থেকে ৫ থেকে ৬ হাজার করে প্রায় ১৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া করো কাছ থেকে বাড়তি কোন টাকা নেননি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা জানান, সমিতির সভাপতিরা যে টাকা নিয়েছেন, তা তিনি জানেন না, কেউ অভিযোগও করেনি। ঘরের কাজ ভাল হচ্ছে এবং নিয়মিত তিনি তা তদারকি করছেন। যেহেতু ঘর গুলো এখনও বুঝিয়ে দেন নাই, সেহেতু কাজের কোন ক্রটি ধরা পড়লে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেবার সুযোগ আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম হেদায়েতুল ইসলাম জানান, যাছাই বাছাই করে তিনি দুই দফায় আসা ঘর গুলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অসহায়দের মধ্যে দিয়েছেন। আসলে কমিটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রতিনিধি থাকে এবং তাদের ৫টি সমিতি আছে। সমিতির নেতারা ঘরের কথা বলে ঘর প্রাপ্তদের থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন বলে শুনেছেন। যে কারণে পৃথক দ্ইুটি তদন্ত কমিটি করেছেন। তদন্তে কেউ দোষী প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































