“দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মানদীর ভাঙন” নদীর বুকে স্বপ্নের বসত ঘর –
- Update Time : ১০:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১
- / ৪৫ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
হঠাৎ পদ্মা নদীর ভাঙন। চোখের পলকে ১০টি ঘর নদীর বুকে। ৩০টি ঘর সরিয়ে নেওয়া হয়। ঝুঁকিতে প্রায় ২শত ঘর। আতংকে রয়েছে লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এবং বাস টার্মিনাল। এমনি অবস্থা বিরাজ করছে দক্ষিনপশ্চিঞ্চলের গুরুত্বপূর্ন দৌলতদিয়া ঘাট।
নদী ভাঙন কবলিত ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ পদ্মানদীর ভাঙন শুরু হয়। কিছু বুঝে উঠার আগে ১০টি বসত ঘর নদীর বুকে চলে যায়। ঘর থেকে কেউ কিছু বের করতেও পারেনি। এসময় প্রায় ৩০টি স্বপ্নের বসত ঘর সরিয়ে নিয়েছে এলাকাবাসী।
নদী ভাঙন কবলিত পল্লী চিকিৎসক বেনজীর আহমেদ বিলাস বেপারী বলেন, প্রতিদিনের মত সকালে বাড়ী থেকে বের হয়ে দোকানে আসি। দোকান থেকে সংবাদ পেলাম নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। বাড়ীতে যাওয়ার আগেই, বাড়ী চলে গেল নদীতে। আর কখনও বাড়ীতে যেতে পারবো না। তিনি কাঁন্না জরীত কণ্ঠে বলেন, এবার দিয়ে তিন বার নদী ভাঙনের শিকার হলাম। প্রতিবার ঘর-দড়জা নিয়ে আসতে পারি। এবার কিছু আনতে পারি নাই। এখন আমি পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় বসবাস করবো।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার উজ্জল হোসেন বাবু বলেন, শেষ, আমার সব শেষ। এখন দাঁড়ানোর মত কোন জায়গা নেই আমার। এতগুলো মানুষ নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো। সর্বনাশা নদী আমার সব কিছু শেষ করে নিয়েছে। বাড়ী থেকেও কিছু বের করতে পারি নাই। তিনি দুঃখ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তাগন শুকনো মৌসুমে ভাঙন প্রতিরোধ করলে আজ আমাদের এতগুলো মানুষের গৃহহীন হতো না।
হাউ-মাউ করে কাঁন্না জরীত ভাষায় মোঃ আক্কাস বেপারী বলেন, লকডাউনের কারণে আয়-রোজগার বন্ধ। এখন বাড়ী চলে গেল নদীতে। আমাদের মত গরীব মানুষের কি উপায় হবে। আমরা কোথায় যাবো।
ভাঙন কবলিত বদিউজ্জামান টোকন বলেন, আজ হঠাৎ ১০টি বাড়ী চলে গেল নদীতে। ৩০টি বাড়ী সরিয়ে নিয়ে গেল। এখন ভাঙন আতংকে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও বাস টার্মিনাল। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিরোধ না করলে যে কোন সময় দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও বাস টার্মিনাল। ভেঙ্গে যেতে পারে প্রায় ২শতাধিক পরিবার। বন্ধ হয়ে যেতে পারে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুল হক খান মামুন জানান, হঠাৎ নদী ভাঙনের কারণে কয়েকটি পরিবার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের সংবাদ শুনতে পেয়ে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন কবলিতদের জরুরী ভিপ্তিতে কিছু খাদ্য সহযোগিতা করা হবে। পর্যায়ক্রমে তাদের বসবাসের জন্য ঘর তৈরি করে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সি জানান, জরুরী ভাবে নদী ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে দৌলতদিয়া ঘাট মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। সুতরাং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করি ঘাট রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































