সেবা না পেয়ে ফেরত যায় অনেক রোগী, গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০ পদের ৬টিই শূন্য –
- Update Time : ০৭:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
- / ৪৬ Time View
গণেশ পাল, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১০টি পদের মধ্যে ছয়টিই শূন্য। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারও (ওটি) কয়েক বছর ধরে বন্ধ আছে। পাশাপাশি এক্স-রে মেশিনও বিকল হয়ে আছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে রোগীরা। সরকারি ওই হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেকেই দূরের বিভিন্ন ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ওই হাসপাতাল ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। স্বাস্থ্যসেবা পেতে উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের ভরসা এই হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক রোগী এখানে সেবা নিতে আসে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীই ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এদিকে সরকারি ওই হাসপাতালে অনুমোদিত তিনজন মেডিক্যাল অফিসারের পাশাপাশি মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, চক্ষু, কার্ডিওলজি, ইএনটি, শিশু, চর্ম ও যৌন, অর্থোপেডিকস ও অ্যানেসথেসিয়ায় একজন করে জুনিয়র কনসালট্যান্ট থাকার কথা। কিন্তু গাইনি, শিশু, কার্ডিওলজি ও অর্থোপেডিকস ছাড়া অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ছয়টি পদ শূন্য। তবে গাইনি বিশেষজ্ঞ ফারজানা ইসলামকে ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল এ হাসপাতালে পদায়ন করা হলেও প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি ডেপুটেশনে (প্রেষণে) ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে আছেন। গত বছরের ৮ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাঁর প্রেষণ আদেশ বাতিল করে। এরপর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত (গত বৃহস্পতিবার) তিনি ওই হাসপাতালে যোগ দেননি।
এদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ আলাউদ্দিন গত বছরের ২০ অক্টোবর ওই হাসপাতালে যোগ দেন। কিন্তু যোগ দেওয়ার পর ওই হাসপাতালে মাত্র তিন দিন উপস্থিত ছিলেন তিনি। পরে একই বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে অননুমোদিতভাবে এখনো তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এদিকে ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল ওই হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার পদে যোগ দেন ডা. শুভংকর দাস। কিন্তু ওই দিনই তিনি প্রেষণে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবনের আপন বিভাগে (পারসোনাল ডিভিশন) যোগ দেন।
এ ছাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সেখানে কর্মরত আরো চার মেডিক্যাল অফিসারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারীদের ওপর ‘ভর করে’ কোনো রকমে চলছে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ, ইনডোর, আউটডোর, মেডিক্যাল টিম, ফিল্ড ভিজিটসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।
এদিকে সরকারি ওই হাসপাতালে অত্যাধুনিক ওটি থাকলেও প্রয়োজনীয় সার্জন ও অ্যানেসথেটিস্টের অভাবে এই ওটি কয়েক বছর ধরে বন্ধ আছে। পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক্স-রে মেশিনটিও বিকল হয়ে আছে।
উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সদস্য মো. আলাউদ্দিন ফকির বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ আউটডোর ও ইনডোরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা মেডিক্যাল অফিসারদের। কিন্তু তা না করে উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসকরা ওই হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা করছেন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষ সুচিকিৎসার সামান্যতম সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ বলেন, ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































