সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গোয়ালন্দ উপজেলার ২০ প্রকল্প পরিদর্শন করলের জেলা প্রশাসক –
- Update Time : ০৯:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮
- / ৫৫ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শওকত আলী আজ শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কর্মব্যস্ত সময় অতিক্রম করেন। তিনি গতকাল সকাল থেকে বিকেল অবধি গোয়ালন্দ উপজেলায় তার ব্যবহারের সরকারি গাড়ী একটি স্থানে রেখে পায়ে হেটে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে যান গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন প্রকল্প দেখতে।
তিনি গোয়ালন্দ উপজেলায় উজানচর ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা), গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) এবং অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসুচির ২০টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু নাসারউদ্দিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাঈদ মন্ডল, উজানচর ও ছোটভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক সকালে প্রথমে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে গাড়ী রেখে উজানচর ইউনিয়নের নবুওছিমদ্দিন পাড়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া জামে মসজিদ পাকা রাস্তা হতে ছাত্তারের বাড়ী হয়ে জালাল মেম্বরের বাড়ী অভিমুখী রাস্তা সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিখা) এর আওতায় ২য় পর্যায়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এ রাস্তা সংস্কারের কাজ গত ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ হতে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে আংশিক কাজ বাকী রয়েছে। এ রাস্তায় মসজিদের অদূরেই একটি বাড়ীর সামনে রাস্তা কর্দমাক্ত দেখতে পেয়ে সেখানে এর কারণ জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, রাস্তা সংলগ্ন বাড়ীর বর্জ্য পানি রাস্তার উপরে দিয়ে পার্শ্ববর্তী খালে যাওয়ায় রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যায়। এ সময়ে জেলা প্রশাসক উক্ত বাড়ী হতে পাইপ সংযোজনের মাধ্যমে বর্জ্য পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নির্দেশ দেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এ রাস্তার কয়েকটি স্থানে মাটি ধ্বসে গেছে। ধ্বসে যাওয়া স্থানে নতুন করে মাটি দেয়ার জন্যও তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন। এ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৯০% বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান।
উক্ত প্রকল্পটি পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক একই ইউনিয়নে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) এর আওতায় ১ম পর্যায়ে ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দে রিয়াজউদ্দিনপাড়া বাঁধ হতে ফজলু শেখের বাড়ী অভিমুখী রাস্তার সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন। এ প্রকল্পের কাজ ১০০% বাস্তবায়িত হয়েছে।
এর পর তিনি একই ইউনিয়নের দক্ষিণ চর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার গর্ত ভরাট প্রকল্প সরেজমিনে দেখেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিখা) এর আওতায় ২য় পর্যায়ে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ১০০%।
এর পর একই ইউনিয়নের জৈনন্দিন সরদারের পাড়া সিরাজের বাড়ী সংলগ্ন পাকা রাস্তা হতে মোহাম্মদ মোল¬ার বাড়ী অভিমুখী রাস্তা সংস্কার কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক।এ প্রকল্পে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিখা) এর আওতায় ২য় পর্যায়ে ১৭ দশমিক ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ১০০% হলেও সাম্প্রতিক বর্ষণের কারণে রাস্তার কয়েকটি স্থানে মাটি ধ্বসে গেছে। ধ্বসে যাওয়া অংশে মাটির ভরাটের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
এ প্রকল্পটি পরিদর্শন শেষে তিনি মাল¬া পট্টি ব্রীজ সংলগ্ন বিনোদন কেন্দ্রের সাথে স্থাপিত সোলার স্ট্রীট লাইট স্থাপনের কাজ পরিদর্শন করেন। ব্রীজের এক পাশে মাটি ধ্বসে যাওতায় সেখানে জরুরী ভিত্তিতে মাটি ভরাটের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
এরপর তিনি উজানচর ইউনিয়নের নতুনপাড়া আব্দুর বাড়ী হতে পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্প পরিদর্শন করেন। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২৯১৭-১৮ অর্থ বছরে ২য় পর্যায়ে ৮০ হাজার ৩১৪ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এ প্রকল্পের কাজ ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে শুরু হয়েছে। কাজের অগ্রগতি ৮০%বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান।
উক্ত প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি একই ইউনিয়নের নতুনপাড়া আক্কাসের বাড়ী হতে বাবু মৃধার বাড়ী অভিমুখী রাস্তা সংস্কার প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ প্রকল্পে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২৯১৭-১৮ অর্থ বছরে ২য় পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ ১০০% হয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান। নতুন মাটির এ রাস্তায় অটো রিক্সা চলাচলের কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সময়ে তিনি সরদার এন্টারপ্রাইজের একটি অটোরিক্সাকে দাঁড় করিয়ে নতুন মাটির রাস্তায় অটো রিক্সা চলাচলে চালককে নিষেধ করেন এবং নতুন রাস্তার ক্ষতি করা হতে বিরত থাকার পরামর্শ প্রদান করেন।
এ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি একই ইউনিয়নের ফকিরাবাদ হায়দারের বাড়ীর পাশ থেকে নর্থ চ্যানেল সীমানা অভিমুখী রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিখা) এর আওতায় ২য় পর্যায়ে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ১০০%।তবে নতুন মাটির রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ী চলাচলের কারণে কয়েকটি স্থানে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ প্রকল্পের পাশে ফকিরাবাদ রাস্তায় গর্ত ভরাট ও পাইপ কালভার্ট স্থাপন প্রকল্প পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২৯১৭-১৮ অর্থ বছরে ২য় পর্যায়ে ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। প্রকল্পের একটি স্থানে পাইপ কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছে । তবে কালভার্টের উপরে মাটি দ্বারা ভরাটের কাজ চলমান আছে।
উজানচর ইউনিয়নের প্রকল্প সমূহ পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক মহোদয় বিকেলে ছোটভাকলা ইউনিয়নের ২টি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি প্রথমে ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড কেউটিল কাজীপাড়া জামে মসজিদের সামনে মাটি ভরাটের কাজ পরিদর্শন করেন। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এ প্রকল্পে ৩২ হাজার ২০০ ঘনফুট মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের অগ্রগতি ১০০%। এ প্রকল্প পরিদর্শনের সময় সম্মানিত জেলা প্রশাসক মসজিদের ইমাম ও মুসল¬ীদের সাথে কথা বলেন এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মুসল¬ীগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ প্রকল্প পরিদর্শনের পর তিনি একই ইউনিয়নের চরবরাট শিশু বিদ্যালয় হতে ছামাদের বাড়ী অভিমুখী রাস্তায় ইটের গাইডওয়াল নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ প্রকল্পে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিখা) এর আওতায় ২য় পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫৮৫৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ১০০%।
প্রকল্পসমূহ পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী গ্রামীণ জনপদের মানুষদের সাথে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলেন এবং এলাকার ফসলের উৎপাদনের খোঁজখবর নেন। প্রকল্পসমূহের সফল বাস্তবায়নে এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং জেলা প্রশাসককে এভাবে ছুটির দিনে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় এসে প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য ধন্যবাদ জানান। বর্ণিত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হওয়ায় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধিত হয়েছে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য স্বল্প সময়ে পরিবহন করতে পারছে।
জেলা প্রশাসক গোয়ালন্দ উপজেলার ১২ টি প্রকল্প পরিদর্শন শেষে বিকেল ৪ টায় রাজবাড়ী প্রত্যাবর্তন করেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































