সংস্কৃতির সেকাল ও একাল – লেখক : রাজ্জাকুল আলম –
- Update Time : ১০:১৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০
- / ৬৩ Time View
এমন একটা সময় ছিলো যখন সমাজ জীবনে বিণোদণের ক্ষেত্রে প্রযুত্তির কোন ছোয়া ছিলনা। মানুষ কানামাছি, বৌছি, দাড়িয়াবান্দা, গোল্লাছুট, লাঠিবাড়ী খেলা, বাণর নাচ, সাপ খেলা, মারবেল খেলার সাথে জড়িত ছিলো। জাতীয় খেলা কাবাডি, হাডুডু ও ফুটবল খেলা ছিলো বাঙালীর অণ্যতম প্রিয় খেলা।
মেয়েরা সাধারনত লুডু খেলতে পছন্দ করত। রাতে কোন কোন বাড়িতে ধারাবাহিক গল্প বলা, বিচার গান, গাজির গান, পুথি পাঠের আসর বসত। কৃষকেরামাঠে জারি, সারিও ভাটিয়ারি গান পরিবেশন করত। ছেলেমেয়েরা মাঝে মাঝে বনভোজন বা জোলামুনির আয়োজন করত। সকলের সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লাব বা সমিতিতে সামাজিক নাটক,যাত্রা প্রদর্শন হতো। পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে কলের গান বাজত। শহুরে মানুষ কেরাম, ভলিবল, দাবা ,ব্যাটমিন্টন, টেবিল টেনিস খেলার সাথে পরিচিত ছিল।
এছাড়া মন্চ নাটকের সাথে কেউ কেউ জড়িত থাকত। কালের বিবর্তনে সেই চিরাচরিত সংস্কৃতির ধরণ পরিবর্তিত হয়ে জায়গা দখল করেছে টেলিভিশণ, ভিসিআর, কম্পিউটার, ল্যাপটব, মোবাইল। তখনকার কলের গান এর জায়গা দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উচ্চসরে সাউণ্ড সিস্টেমের সংগে উদ্ভট নাচ। বিশ্বায়নের এই যুগে মোবাইলের কল্যানে ভধপবনড়ড়শ নিয়ে মগ্ন। এছাড়া কালের সংস্কৃতির আরেক সংযোজন আকাশ সংস্কৃতির কারনে এখন সিনেমা হলের যবনিকাপাত ঘটেছে এবং এর ছোয়ায় সমাজের মধ্যে বিভৎসতা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, খুন খারাবী, নারী নির্যাতন সহ নানাবিধ অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন প্রচলিত সেই খেলাধুলা হারিয়ে গিয়ে প্রযুক্তি নির্ভর খেলার নবধারা সৃষ্টি হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বায়ণের এই সময়েও আমরা পুরাতন সংস্কৃতি লালনের চেষ্টা করব এটাই হোক কাংখিত প্রত্যাশা।
লেখক- রাজ্জাকুল আলম , সহকারি অধ্যাপক, মীর মশাররফ হোসেন কলেজ, রাজবাড়ী।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































