‘‘ সংগঠনকে সংহত করি ’’-লেখক : শারমিন রেজা লোটাশ
- Update Time : ১০:০০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অক্টোবর ২০২২
- / ৬৭ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
বিশ্বে আছো যত নারী
জেগে উঠো ঘুম থেকে
আর কতকাল ঘুমিয়ে থাকবে
সময় এসেছে অধিকার আদায়ের
ভেঙ্গে দাও বাঁধা শৃঙ্খল যতো।
নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৭০ সালের ৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। নারীর মানবাধিকার আদায়ের সংগ্রামে একটি অসাম্প্রদয়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিকরাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যাঁরা নিরন্তর সাহসী ভূমিকা পালন করে গেছেন, যাঁদের উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা নারী আন্দোলনের এই পতাকা বহন করার শক্তি ও প্রেরণা পেয়েছি তাঁদের সকলের উদ্দেশ্যে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংগঠক, কর্মী ও সদস্যবৃন্দ যাঁদের স্বেচ্ছাশ্রম, মেধা ও মননের সমন্বয়ে দেশ ব্যাপী সংগঠন বিস্তৃতি লাভ করেছে। গণতান্ত্রিক দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। গণতন্ত্র নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সহনশীল, ধর্মীয় ও পরমত সহিষ্ণু করে তোলে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা দল-মত নির্বিশেষে সকল ব্যক্তি ও গোষ্ঠির প্রতি সহনশীল হবে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারী-পুরুষের সমতা, মর্যাদা এবং মানবাধিকারের প্রতিশ্রদ্ধাশীল হবে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কিছু সুনির্দিষ্ট কাঠামো থাকে। সাংবিধানিক কিছু প্রতিষ্ঠান।
যেমন:- ১। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, ২। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, ৩। পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ৪। মানবাধিকার কমিশন। একটি গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক সমতা ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজগঠনের প্রত্যয় নিয়েই সংগঠিত হয়েছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। এজন্যই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বস্তরেই প্রয়োজন জবাবদিহিতা মূলক দায়বদ্ধতা। প্রয়োজন নির্বাচিত কার্যকর সংসদ সংবিধান দায়িত্বশীল বিরোধী দল এবং নারী পুরুষ তথা জনগন ইত্যাদি বিষয় গুলো। এজন্যই প্রয়োজন নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।
সংগঠনকে বুঝতে হলে সকল কর্মী সংগঠকদের অবশ্যই গঠনতন্ত্র ও ঘোষনা পত্র পড়তে হবে। চর্চা করতে হবে অন্তরে ধারণ করতে হবে। সেই অনুযায়ী আদর্শ ভিত্তিক কাজ করতে হবে। একুশ শতকের নারী আন্দোলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন নারী উন্নয়ন নীতির বাস্তবায়ন নারীর বৈষম্য বিলোপ নীতির (সিডিও সনদ) বাস্তবায়ন। সকল ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক আইন গুলো সংস্কারের দাবীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জন্ম লগ্ন হতে আন্দোলন করে চলেছে। এই আন্দোলনের ফলে অনেক অধিকার ও আইন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সকল শ্রেণী পেশার নারী-পুরুষ তরুন তরুনীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। আরো দায়িত্বশীলও সচেতন ভাবে কাজ করতে হবে। তাহলে একদিন কাংক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এ পৃথিবী আমাদের তোমাদের বাতাহাদের না হয়ে সকলের হোক। নারী বা পুরুষের হোক। সমতা ও মানবিকতার হোক। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত জীবনে নারীর প্রতি সব রকম বৈষম্য ও অন্যায় অবিচারের অবসন ঘটিয়ে একটি সুখি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বিশ^ গড়ার কাজে পুরুষের পাশে নারীকেও সমান অবদান রাখার প্রত্যয়ন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
ধর্ম, বর্ণ, কাঠামো নিবিশেষে পুরুষ, নারী বা অন্য সব যোগ্যতার বিচারে সমাদৃত হোক। নারী নিজেকে উন্নয়ন ও মুক্তির পথে চলতে মেধা ও শ্রমদিয়ে এগিয়ে যাক।
ব্রাহ্মসমাজ নারী শিক্ষার প্রসার ও লৈঙ্গিক সমতার জন্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। উনিশ শতকের শুরুতে যারা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস পর্যালোচনা করে দেখতে চাচ্ছিলেন তাঁদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সমাজ উনিশ শতকের ষাটের দশক নাগাদ জনসমাবেশ, ধর্মীয় শিক্ষা ও নারীদের জন্য সেলাই শিক্ষার আয়োজন করে। এক দশকের মধ্যে সমাজ-এর সদস্য বৃন্দের মাঝে নারী শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের প্রশ্নে মতবিরোধ দেখা দেয়। ১৮৭৮ সালে ‘নারী-মুক্তি’-র প্রশ্নে এটি বিভক্ত হয়ে যায় এবং সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ-এর প্রগতিশীল শাখাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বেথুন কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৮৩ সালে কাদম্বিনী গা্গংুলী (১৮৬১-১৯২৩) ও চন্দ্রমুখী বসু বেথুন কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি লাভ করেন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রথম নারী-পুরুষের সমতা ভিত্তিক দেশ ও সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এক সূত্রে গ্রথিত করে স্বাধীনতা সংগ্রামের আগেই ১৯৭০ সালের ৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। যা সাবেক পাকিস্তানে সৃষ্ট মহিলা সংগ্রাম পরিষদ এর পরবর্তী রূপ। আইন, সংবিধান ও বাস্তব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমঅধিকার সংরক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাসহ একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন পরিবার ও সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এর সূচনা। উপমহাদেশের নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃত বেগম রোকেয়ার উত্তর সূরি কবি বেগম সুফিয়া কামালের উদ্যোগে ১৯৭০ সালের ৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তানে মহিলা পরিষদ। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় পাকিস্তানে সৃষ্ট মহিলা সংগ্রাম পরিষদ আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে রূপান্তরিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান মহিলা পরিষদ এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সব সদস্য সংগঠক হিসেবে কাজ করেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।
সামাজিক মূল্যবোধ: শ্রেণ শিক্ষণে অংশগ্রহণ মূলক পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা, বন্ধুভাবাপন্ন মনোভাব গড়ে তোলা যায়। নৈতিক মূল্যবোধ: আপনি শ্রেণি শিক্ষণে বিভিন্ন অংশ গ্রহণমূলক কাজে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেবেন। নিজের নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে সে আত্মসচেতন হবে এবং এভাবে তার মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হবে। নান্দনিক মূল্যবোধ: শিক্ষাক্রমে সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, চিত্রকলা ইত্যাদি বিষয় অর্ভুক্ত করে এবং এসব সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিয়ে শিক্ষার্থীর সুস্থ ও স্বাভাবিক মন গড়ে তোলা যায়। সুন্দর মনন চর্চা নান্দনিক মূল্য বোধ সৃষ্টি করে। বৌদ্ধিক মূল্যবোধ: শিক্ষক যখন উপযুক্ত শিক্ষণ কৌশল প্রয়োগ করেন শিক্ষার্থী বিষয় বস্তু থেকে সত্যের অনুসন্ধান করতে শেখে, ফলে তার বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। উন্নত বুদ্ধি, আধুনিক জ্ঞান, সত্য ও বিজ্ঞানের প্রতি সে শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক মূল্য বোধ: জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব গড়ে তোলার জন্য লোক সাহিত্য, নৃত্য, কলা, দেশীয় কৃষ্টি, খাদ্য, পোশাক, বিশ্বাস ইত্যাদি সবকিছুর প্রতি ফলন শিক্ষাক্রমে থাকতে হবে এবং সেই সাথে শিক্ষক হিসেবে আপনার মনোভাব এসবের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
লেখক : শারমিন রেজা লোটাশ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রাজবাড়ী জেলা শাখা, রাজবাড়ী।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়






































































































