রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ বীজের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় চাষীরা –
- Update Time : ০৯:২০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২
- / ৪৯ Time View
রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
মসলা জাতীয় ফসল হিসাবে পেঁয়াজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের তৃতীয় স্থানে রাজবাড়ীর অবস্থান। এবং দেশের প্রায় ১৪ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় এ জেলায়। পেঁয়াজের পাশাপশি বীজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে রাজবাড়ীর।
এবছর রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ বাড়লেও অতিবৃষ্টি ও মৌমাছির অভাবে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় রয়েছেন চাষীরা। তারপরও চাষীদের প্রত্যাশা যে ফলন হয়েছে, তা ভাল ভাবে ঘরে তুলতে পারলে এবং বাজার দর ভাল পেলে তারা লাভবান হবেন। এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলছেন, গতবছরের চেয়ে এবছর জেলায় বীজের আবাদ বেড়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ৫শ কেজি ফলন হবে। ফলন ভালর জন্য মৌমাছি তেমন ভূমিকা রাখে না। এলামেলা বাসাস কুয়াশা ও বৃষ্টিতে ফলনের ক্ষতি হয়।
রাজবাড়ীতে কলো সোনা বলে ক্ষ্যাতি রয়েছে পেঁয়াজ বীজের। আবার কদম বলেও পরিচিতি রয়েছে। ফরিদপুরি ও তাহেরপুরি জাতের বীজ আবাদ হয় এ জেলায়। রাজবাড়ীর ৫ উপজেলায় কম বেশি বীজের আবাদ হয়ে থাকে। এরমধ্যে রাজবাড়ী সদর, পাংশা ও কালুখালীতে বেশি আবাদ হয়।
এখন পর্যন্ত বীজের ফলন ভাল থাকলেও ফলন তোলা পর্যন্ত কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে খরচ খরচা বাদ দিয়ে কিছুটা হলেও লাভবান হবার প্রত্যাশায় চাষীরা। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শ না পাবার অভিযোগ করছেন চাষীরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, এ বছর রাজবাড়ীতে ২শ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ১৯৫ হেক্টর জমিতে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৭৭ হেক্টর জমিতে। এবং প্রতি হেক্টর জমিতে ফলন হয়েছিল প্রায় ৫ থেকে ৬শ কেজি। এবারও তেমনটিই আশা করছেন কৃষি অধিদপ্তর।
পেঁয়াজ বীজ চাষী জামাল মন্ডল বলেন, প্রতি বছর তিনি পেঁয়াজের পাশাপাশি বীজের চাষ করেন। এবার তিনি ৪৮ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করেছেন । এতে প্রায় তার সব মিলিয়ে দেড় লক্ষ টাকার মতো খরচ হবে। এ বছর অতিবৃষ্টি ও মৌমাছি না থাকায় ফুল শুকিয়ে কালো হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে ফলন কম হবে। তবে বর্তমান মাঠের যে অবস্থায় এরকম থাকলেও তাদের লোকসান হবে না। ৪৮ শতাংশ জমি থেকে ৮০ কেজি বীজ ও বীজের বাজার মূল্য ৫ হাজার টাকা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন। এরকম থাকলে তারা কিছুটা হলেও লাভবান হবেন।
আরেক চাষী হালিম মন্ডল বলেন, ১২ শতাংশ জমিতে বীজ চাষে তার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এবছর ফুল ভালো হয়েছে কিন্তু মৌমাছি না থাকায় ফলন কম হবে।এই অবস্থায় কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে দ্বারা উপকৃত হবে।
শাবানা নামের এক কৃষাণী বলেন, জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, দিন মজুর ও ফসল উত্তলন করা পর্যন্ত তাদের অনেক খরচ। এবার অতিবৃষ্টি ও মৌমাছি না থাকার কারণে ফলন কম হবে। তারপর আবার বৃষ্টি হলে তারা আরও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তখন কৃষকের মরা ছাড়া বাঁচার উপায় নাই।
রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম সহীদ নূর আকবর বলেন, গতবছরের চেয়ে এবছর রাজবাড়ী জেলায় পেঁয়াজ বীজের আবাদ বেড়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবছর প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ৫শ কেজি ফলন হবে। ফলন ভালর জন্য মৌমাছি তেমন কোন ভূমিকা রাখে না। তবে এলামেলা বাতাস, কুয়াশা ও বৃষ্টিতে ফলনের ক্ষতি হয়।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































