রাজবাড়ীতে তামাক চাষ বাড়ছে কমছে ফসলি জমির উর্বরা শক্তি-
- Update Time : ০৭:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০১৯
- / ৫০ Time View

ইমরান হোসেন মনিম, আতিয়ার রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
তামাক একটি ক্ষতিকারক পণ্য। বিভিন্ন ধরনের সিগারেট কিংবা নেশাজাতীয় পণ্য তৈরীতে তামাক ব্যাপক ভাবে ব্যাবহার হয়। তামাকে প্রচুর পরিমানে নিকোটিন থাকে আর এই নিকোটিন সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি করে থাকে। তামাক জাতীয় দ্রব্য পান করে মানুষ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এর ফলে ফুসফুস, লিভার ও বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের মতরোগ ব্যাধিতে হয়ে থাকে তামাক সেবনকারীদের। রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলার, সদর, বালিয়াকান্দি, কালুখালী, গোয়ালন্দ ও পাংশার বিভিন্ন এলাকায় তামাক চাষ হচ্ছে। অধিক লাভ ও বিভিন্ন কাম্পানি প্রলোভন দেখিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করে তুলছেন। চাষিদের দিচ্ছেন অগ্রিম তামাক চাষের বিভিন্ন ধরনের প্রনোদনা। আর অধিক লাভের আশায় কৃষকেরা লোভে পরে তামাক চাষ বেশি করছেন। তামাকের ক্ষতিকারক নিকোটিন পদার্থ তামাক শুকানোর সময় মানুষের দেহের ও শরীরের ক্ষতি করে থাকে,হতে পারে বিভিন্ন রোগ।
মিজানপুর ইউনিয়নের চর নারায়নপুর ও কালিতলা এলাকায় দেখা গেছে প্রচুর পরিমানে তামাক ক্ষেত থেকে তুলে বাড়ির আঙ্গিনা ও বিভিন্ন বাগানে শুকাতে দেওয়া হচ্ছে এতে করে যারা এই তামাক পরিচর্যা করছেন তাদের মারাত্বক ভাবে স্বাস্থ্যের ঝুকিতে পড়তে হচ্ছে। তারপরও অধিক লাভের আশায় তারা তামাক চাষ করছেন । তবে তারা জানেন না তামাকের করানে তাদের স্বাস্থ্যে কি ক্ষতি হচ্ছে।
মিজানপুর ইউনিয়নের ধাওয়াপাড়া গ্রামের তামাক চাষি মুক্তার সরদার তার ফসলি জমিতে এবছর ৪ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন। অতি মুনাফার আশায় এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রলোভনে পরে তিনি এই তামাক চাষ করেছেন। তামাক চাষে তিনি ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানি থেকে তিনি অগ্রিম মোটা অংকের টাকা, সার বীজসহ বিভিন্ন সহায়তা পেয়ে ফসলি জমিতে এই তামাক চাষ করেছেন বলে জানান। অন্যান্য ফসলের চাইতে তামাক চাষে কয়েকগুন লাভ পাওয়ায় তিনি দিন দিন এর চাষ বাড়াচ্ছেন এবং প্রতিবছরই আবাদ করবেন বলে জানান।
এলাকাবাসিরা বলেন, আগে যে সব জমিতে খাদ্য শশ্য জাতীয় ফসল উৎপাদন হত, এখন সেসব জমিতে তামাক চাষ করা হচ্ছে। তবে তামাক কোম্পানির প্রলোভনে পরে কৃষকেরা জমিতে খাদ্য ফসল চাষ না করে তামাক চাষে ঝুকে পড়ছে। যার কারনে খাদ্য শশ্য চরম হুমকিতে পরেছে।
অনেক চাষি আবার বলছেন, তারা তামাক চাষ করছেন অধিক লাভের আশায়। তাদের দাবি, অন্য ফসলের চাইতে তামাক চাষে লাভ বেশি।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকমোঃ ফজলুর রহমান বলছে, তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে পরামর্শ প্রদান করে থাকেন তারপরও চাষিরা অধিক লাভের আশায় ক্ষতি সত্বেও তামাকের আবাদ করছেন। চাষিরা বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার কারনে তামাকের আবাদ বেশি করছেন। তামাক যারা চাষাবাদ ও পরিচর্যা করছেন তারা এতে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছেন বেশি। তারপরও কৃষকদের অন্যান্য ফসল ও লাভজনক ও উচ্চ মূল্যের ফসল চাষে পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান তিনি। তবে কোম্পানির প্রলোভনে পরে চাষিরা বেশি লাভের কারনে এর আবাদ করছেন যার কারনে ফসলি জমি তার উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। এবছর তামাকের আবাদ হয়েছে ৩১ হেক্টরের কিছু বেশি যা গত বছরের তুলনায় ২ হেক্টর কম। জেলার কালুখালী ও গোয়ালন্দে সবচেয়ে বেশি তামাক আবাদ হয়ে থাকে।
জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেন, জেলায় এবছর প্রচুর তামাক চাষ তিনি দেখেছেন। তিনি উন্নয়ন সমন্বয় সভায় কৃষি উপ-পরিচালকে তামাক চাষ কমাতে এবং নিরুৎসাহিত করতে পদক্ষেপ গ্রহনের কথা বলেছেন। তামাক একদিকে যেমনি জনসাধারনের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে অন্যদিকে তামাক চাষের ফলেসেই জমিটি তার উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। ফলে কৃষকরা যাতে এই ক্ষতিকারক ফসলটি আর উৎপাদন না করেসেই বিষয়ে সার্বিক ব্যাবস্থ্য গ্রহন করতে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকে অনুরোধ করেছেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়






































































































