রাজবাড়ীতে কালবৈশাখি ঝড় গাছতলায় শিক্ষার্থীরা-
- Update Time : ০৬:০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০১৯
- / ৫১ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পূর্ব উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে খোলা আকাশের নিচে। ১২ দিন আগে হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তোড়ে ওই বিদ্যালয়ের একটি মাত্র ক্লাস রুমের টিনের চাল উড়ে যাওয়ায় তাদের এই দূর্ভোগ।
জানাগেছে, ১৯৭০ সালে ওই বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। সে সময় প্রমত্ত পদ্মা নদী কয়েক কিলোমিটার দুরে থাকলে এখন তার তা স্কুল ভবন লাগুয়া। বিদ্যালয়টিতে ১শ ৬৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৭ জন শিক্ষক থাকলেও গত ৩১ মার্চ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবার পর দুইজন শিক্ষককে অন্য স্কুলে বদলী করেছে কর্তৃপক্ষ। ঝড়ে বিদ্যালয়টির টিনের চাল উড়ে যায়। সেই সাথে বিদ্যালয়ের ভবনটির দেয়ালের ক্ষতি হয়। ফলে বিদ্যালয়টির অফিস কার্যক্রম ও পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিন পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার মান বজায় রাখতে বিদ্যালয়ের মাঠের গাছের নিচে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এতে রোদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী ব্রাঞ্চে ও কিছু শিক্ষার্থী মাটিতে পাটিতে বসে পড়ছে।
গাছের নিচে ক্লাস করা শিক্ষার্থীরা জানায়, দ্রুত সময়ে মধ্যে স্কুলের চাল ঠিক করে শ্রেনী কক্ষে ক্লাস নেওয়া হোক। গাছের নিচে রোদ বৃষ্টির মধ্যে ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা খাতুন আন্না বলেন, পদ্মার ভাঙ্গনে কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়টি ভাঙ্গন ঝুঁকিতে ছিলো। এবার ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। শ্রেনী কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো পরিবেশ না থাকায় গাছের নিচে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। এতে করে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয় কখন আবার বৃষ্টি আসে। এছাড়া রোদ ও গরম তো আছেই। তবে ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের মেরামত কাজ চলছে। দ্রুত সময়ে মধ্যে আবার শ্রেনী কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন মনে করছেন।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসজাদ হোসেন আরজু বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়টির মেরামত কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে শ্রেনী কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার ব্যবস্থা করবেন। পড়াশুনার মান বজায় রাখতে খোলা আকাশের নিচে এখন শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের সাবিক বিষয়ে সব সময় খোজ-খবর রাখছেন।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেই সাথে সংস্কার কাজও করা হচ্ছে। আশা করছেন দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান খান বলেন, ইতোমধ্যে ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দা প্রদান করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়টি পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কারণে অত্যান্ত ঝুকির মুখে। ফলে তারা চেষ্টা করছেন বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তরের।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়






































































































