“মহান জনবাদী গৌতম বুদ্ধ” – আয়েশা শেলী –
- Update Time : ১০:২৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মে ২০২১
- / ৮১ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাহুল সাংকৃত্যায়নের “মহামানব বুদ্ধ” পাঠকালে জানা যায় সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্ম হয়েছিল খ্রি: পুর্ব ৫৬৩ এর কাছাকাছি সময়ে । পিতা শুদ্ধোধন শাক্যদের রাজা ছিলেন । সিদ্ধার্থের মা মায়াদেবী কপিলবস্তু থেকে কিছু দুরে লুম্বিনী নামক শালবনে তার জন্ম হয় এবং তার জন্মের এক সপ্তাহ পরে তার মা মারা যান । তার লালন পালনের দায়িত্ব নেন একাধারে মাসি ও বিমাতা গৌতমী । মহা প্রাচুর্য্য উপভোগ সামগ্রীর মাঝে বেড়ে ওঠা বুদ্ধ সুন্দরী রাজকন্যা যশোধরার সংগে পরিনয় সুত্রে আবদ্ধ হন এবং রাহুল নামক একজন পুত্রের জনক ছিলেন তিনি । রাজা সিদ্ধার্থ শুধু ভোগ বিলাসের মাঝেই মত্ত ছিলেননা তিনি যুদ্ধবিদ্যা এবং অস্ত্রচালনায় এতটা পারদর্শী ছিলেন যে তার জয়জয়কার চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে এবং তার অতিমানবিক প্রতিভা জনগনের মাঝে সাড়া ফেলে দেয়। সিদ্ধার্থের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যত কিন্তু বিধাতা তা চাননি ।
একদিন সিদ্ধার্থ বাগান ঘুরে দেখবেন রথে চড়ে সারথী নিয়ে এগিয়ে চললেন আর এই ভ্রমনের সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের আমুল পরিবর্তন যা তিনি কোনভাবেই বুঝতে পারেননি। তিনি দেখতে পেলেন একজন জ্বরাগ্রস্ত বৃদ্ধ লোক দন্তহীন মুখে কুঁজো হয়ে ভেঙ্গে পড়া শরীরে ধীরে ধীরে হেঁটে চলেছে এবং প্রতি পদক্ষেপে তার শরীর কাঁপছে । সিদ্ধার্থ এমনটি আগে কখনো দেখেননি। তিনি সারথী ছন্দককে প্রশ্ন করলেন – লোকটির কেন এমন অবস্হা – ? ছন্দক বলল এটা জীবনের অবশ্যম্ভাবী সত্য একে বার্ধক্য বলে । আজ যে যুবক , রুপবান , কালকেশী কাল সে এমনি পক্ককেশ অস্হিচর্মসার বৃদ্ধ হবে এবং এটিই কালের প্রবাহ ।
এ সত্যের আঘাত তার প্রানের মর্মমুলে এসে লাগল এবং চিন্তিত হয়ে প্রাসাদে ফিরে এলেন ।
এরপর আরেকদিন জরাগস্ত এক ব্যক্তিকে রোগে কাতর হয়ে আর্তনাদ করতে শুনলেন যা তার কোমল প্রানে আঘাত করলো । সারথী ছন্দককে আবার প্রশ্ন করলেন তার কি হয়েছে । ছন্দক উত্তর দিল এটি ব্যধি । রাজা , ভিখারী, ধনী , দরিদ্র সবারই ব্যধি হতে পারে । তিনি আবার হতবাক হলেন রুঢ় , নিষ্ঠুর নির্মম সত্যগুলি যেন তার সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে ।
এরপর দেখলেন একটি মৃতদেহ , একজন শান্ত চিত্ত ধীর স্হির সাধুকে দেখলেন । যাবতীয় কিছুতে তার মনের গভীরে এক ছাপ পড়ে গেল ।
তিনি প্রানের গভীরে এক মহাজীবনের আহ্ববান অনুভব করলেন । সংসারের প্রগাঢ় বন্ধন ছিন্ন করে সত্য অন্বেষণে তিনি গৃহত্যাগী হলেন ।
যিনি কোন ধর্ম নয় জ্ঞানকে প্রাধান্য দিয়ে মন্স্তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের আলোয় জাত প্রথাকে বিলুপ্ত করে গনতন্ত্র সংঘ, সমাজ ব্যবস্হা এবং রাজ্য গড়ে তোলার দর্শন গড়ে তুলেন । তিনি আধুনিক ভোটের প্রবর্তন করেন তার সময়ে । তিনি সেই সময়ের অনেক প্রতাপশালী রাজাদের তার মতে আকৃষ্ট করে জনকল্যাণের দিকে নিয়ে গেছেন ।
বুদ্ধ বলেছেন “ বহুজন হিতায় , বহুজন সুখায়” । তোমরা পৃথিবীতে বিচরন কর সবার কল্যানের জন্য , জগতের মঙ্গলে নিজেদের সমর্পিত কর।
বুদ্ধ – পৃথিবীতে নব ভাবনা , নব দর্শনের আলোকে বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবন যাপনের এক পথ নির্দেশক ।
তার জন্মদিনেই তিনি বোধি বা নির্বান লাভ করেছিলেন বলে ধারনা করা হয় ।
আমাদের প্রানের মাঝে তিনহাজার বছরের পুরনো মানুষটি আজও আলো ছড়ান অবিরাম। বুদ্ধ বেঁচে আছেন আমাদের প্রতিটি কর্মে , মননে । বুদ্ধের অনিত্য দর্শনের জয় হোক ।
শুভ বুদ্ধ পুর্নিমা।
লেখিকা – আয়েশা সিদ্দিকা শেলী, অতিরিক্ত কর কমিশনার, ঢাকা এবং প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান উপদেষ্টা, দি বলু স্কাই চ্যারিট্যাবল ফাউন্ডেশন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































