ব্যস্ততা নেই দৌলতদিয়া ঘাটে : লকডাউনে দিশেহারা খেটেখাওয়া হাজারো পরিবার –
- Update Time : ০৭:৩০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুলাই ২০২১
- / ৭১ Time View
শামীম শেখ , রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
মহামারী করোনার সংক্রমন রোধে চলমান লকডাউনে চরমভাবে বিপাকে পড়েছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার অসংখ্য সাধারন মানুষ। এদের মধ্যে রিক্সা -অটোরিক্সা চালক, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল ব্যাবসায়ী, শ্রমিক, হকার্স,সেলুন মালিক ও শ্রমিক, কুলি,মজুর, প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শ্রমজীবী মানুষ বেশি বেকায়দায় রয়েছেন। চলমান সর্বাত্মক লকডাউন প্রভাবে সংকুচিত হয়েছে শ্রমজীবী মানুষের কাজের সুযোগ।
দক্ষিনবঙ্গের প্রবেশদ্বার সদা ব্যস্ত দৌলতদিয়া ঘাটে শূনশান নিরবতা বিরাজ করছে। অতি জরুরি কিছু যানবাহন ছাড়া ফেরিতে তেমন কোন পারাপার নেই। ঘাটের লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও নিকটস্হ বাজারে নেই মানুষের আনাগোনা।ঘাটে নেই হকারদের হাকডাক
কাজকর্ম ও ব্যাবসা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দূর্বিসহ সময় পার করছে হাজারো পরিবার। অনেকেরই সংসার চলছে অর্ধাহার-অনাহারে। কেউবা জমানো টাকা, আবার কেউ কেউ ভেঙে খাচ্ছেন ব্যবসার মূলধন।
বিশেষ করে ঘাটের উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার পরিবার চরম দূর্দশার মধ্যে পড়েছে।এছাড়া চরম অনিশ্চিয়তার মধ্যে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর কয়েক হাজার বাসিন্দা।
তবে পরিস্হিতি মোকাবিলায় সরকারি -বেসরকারিভাবে ত্রান কার্যক্রমও চলছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানান।
দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকার চা দোকানদার মিন্টু মিয়া বলেন, “এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই চা দোকানটা করেছি। এ দোকানটাই আমার আয়ের একমাত্র উৎস। কিন্তু লকডাউনে দোকানটি বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আমার না খেয়ে থাকার অবস্থা হয়েছে। কিস্তির চিন্তা তো রয়েছেই।”
দৌলতদিয়া রেল স্টেশন এলাকার হোটেল কর্মচারি ফজলু মৃধা বলেন, “লকডাউনে সব বন্ধ খাকলেও পেট তো আর বন্ধ থাকে না। হোটেলে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে সংসার চালানো দায়। তার উপর আবার লকডাউনে সব বন্ধ। শুনি সরকার কত কিছু দেয়, কিন্তু আমরা তো কিছুই পাই না।”
গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ক্ষুদ্র পার্স ব্যবসায়ী মো. নবু সরদার বলেন, গত বছরের মার্চে করোনা শুরুর পর থেকেই ব্যাবসায় মন্দা চলছে। তারপর একের পর এক লকডাউন।এ অবস্হায় সংসার চালাতে পুঁজি ভেঙ্গে খাচ্ছি। মুলধনও শেষ হয়ে আসছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। তার উপর আছে কিস্তির জ্বালা। এমতাবস্হায় সরকারের সহযোগিতা ছাড়া বেঁচে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক খান মামুন বলেন, সরকারের ভিজিডি-ভিজিএফের মতো নিয়মিত খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চলমান আছে। পাশাপাশি করোনার কারনে আমরা স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা করে বিভিন্ন শ্রেনী -পেশার মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। এছাড়া ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে কেউ সহায়তা চাইলে সেখানেও দ্রুত সহায়তা পৌছে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন ত্রান কার্যক্রম চালাচ্ছে।এরপরও যদি কেউ কষ্টে থাকে সেক্ষেত্রে তাকে তথ্য দিয়ে জানানোর জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ জানান।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































