বাংলার অগ্নিযুগের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেরের আজ আত্মহুতি দিবস – লেখক : শারমীন রেজা লোটাস
- Update Time : ০৮:১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
- / ৪৬ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
প্রীতিলতা ।প্রতিলতা ওয়াদ্দেদা নামে পরিচিত।
জন্ম: ৫ মে ১৯১১ সালে।
মৃত্যু : ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ সালে।
প্রীতিলতার ডাক নাম‘‘রানী’’ (ছদ্ম নাম ফুল তাঁরা)
স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী শহীদ ব্যক্তিত্ব
নামের আগে প্রীতি মাখা, এই মেয়েটি প্রাণ দিয়েছে
নামের শেষে লতা,আনতে স্বাধীনতা।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন অন্যতম বাঙালি নারী বিপ্লবী। তৎকালীন পূর্ববঙ্গে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবী সূর্য সেনের নেতৃত্বে তখনকার ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশ নেন এবং জীবন বিসর্জন দেন।
১৯৩২ সালে চট্রগ্রামের পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব দখলের সময় তিনি ১৫ জনের একটি বিপ্লবী দল পরিচালনা করেন। ওই ক্লাবে একটি সাইন বোর্ড লাগানো ছিল, যাতে লেখাছিল (কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ) প্রীতিলতার দলটি, ক্লাবটিকে আক্রমণ করে এবং পরে পুলিশের হাতে আটক এড়াতে প্রীতিলতা সায়ানাইডগলাধ: করন করে আত্মতহ্যা করেন।
প্রীতিলতার পড়াশোনার হাতে খড়ি বাবা-মায়ের কাছে। অসাধারণ মেধা থাকায় তার বাবা তাকে চট্রগ্রামের ডাঃ খান্তাগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সরাসরি তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করেন। অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তিপান তিনি। ওই স্কুল থেকে ১৯২৭ সালে প্রথম বিভাগে এস.এস.সি পাশ করেন। তারপর ভর্তি হন ঢাকা ইডেন কলেজে। ১৯২৭ সালে প্রীতিলতা দিপালী সংঘের সদস্য হন।
সেখানে তিনি লিখে ছিলেন নারীরা আজ কঠোর সংকল্প নিয়েছে যে, আমার দেশের বোনেরা আজ নিজেকে দুর্বল মনে করবেন না। সশস্ত্র ভারতীয় নারী সহ¯্র বিপদ ও বাধাকে চূর্ণ করে এই বিদ্রোহ ও সশস্ত্র মুক্তি আন্দোলনে যোগদান করবেন- এই আশা নিয়ে আমি আজ আত্মদানে অগ্রসর হলাম।
২৪ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতার আত্মহুতি দিবস।
আত্মহুতির আগের রাতে প্রীতিলতা মায়ের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে ছিলেন। মৃত্যুর পর মাষ্টারদা সূর্য সেন (ব্রিটিশ ভারতের প্রখ্যাত বিপ্লবী সূর্যকুমার সেন) চিঠিটি তার মায়ের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
মাগো, তুমি আমায় ডাক ছিলে? আমার যেন মনে হলো তুমি আমার শিয়রে বসে কেবলি আমার নাম ধরে ডাকছো, আর তোমার অশ্রুজলে আমার বক্ষ ভেসে যাচ্ছে। মা, সত্যিই কি তুমি এত কাঁদছো? আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারলাম না- তুমি আমায় ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে চলে গেলে।
স্বপ্নে একবার তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম- তুমি তোমার আদরের মেয়ের আবদার রক্ষা করতে এসেছিলে! কিন্তু মা, আমি তোমার সঙ্গে একটি কথাও বললাম না। দুচোখ মেলে কেবল তোমার অশ্রুজলই দেখলাম। তোমার চোখের জল মোছাতে এতটুকু চেষ্টা করলাম না।
আমি যে তোমায় বড় ব্যাথা দিয়ে এসেছি মা। ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি। তুমি আদর করে আমাকে বুকে টেনে নিতে চাইছো, আমি তোমার হাত ছিনিয়ে চলে এসেছি। খাবারের থালা নিয়ে আমায় কত সাধাসাধিইনা করেছো। আমি পিছন ফিরে চলে গেছি। না, আর পারছি না। ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আমার আর উপায় নেই। আমি তোমাকে দু’দিন ধরে সমানে কাঁদিয়েছি। তোমার ক্রন্দন আমাকে এত টুকুটলাতে পারেনি। কি আশ্চর্য মা! তোমার রানী এত নিষ্ঠুর হতে পারলো কি করে? ক্ষমা করো মা;
মা, আমায় তুমি ক্ষমা করো- তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে গেলাম। তোমাকে এতো টুকু ব্যথা দিতেও তো চিরদিন বুকে বেজেছে। তোমাকে দুঃখ দেওয়া আমার ইচ্ছে নয়। আমি স্বদেশ-জননীর চোখের জল মোছাবার জন্য বুকের রক্ত দিতে এসেছি। তুমি আমায় আশীর্বাদ কর, নইলে আমার মনোবাঞ্ছাপূর্ন হবে না।
একটি বার তোমায় দেখে যেতে পারলাম না। সে জন্য আমার হৃদয়কে ভূল বুঝনো তুমি! তোমার কথা আমি এক মুহূর্তের জন্যও ভূলিনি মা। প্রতিনিয়তই তোমার আর্শীবাদ প্রার্থনা করি। আমার অভাব যে তোমাকে পাগল করে তুলেছে, তা আমি জানি। মগো, আমি শুনেছি, তুমি ঘরের দরজায় বসে সবাইকে ডেকে বলছো- ওগো তোমরা আমার রানী শূন্য রাজ্য দেখে যাও।
তুমি অমন করে কোঁদো না। আমি যে সত্যের আর স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাওনা? কি করবো মা? দেশ যে পরাধীন। দেশবাসী যে বিদেশীর অত্যাচারে জর্জরিত! দেশ মাতৃকা যে শৃঙ্খলা ভাবে অবনতা, লাঞ্ছিতা! তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না ? তুমি কি কেবলই কাঁদবে? আর কেঁদোনা মা। যাবার আগে আর একবার তুমি আমায় স্বপ্নে দেখাদিও। আমি তোমার কাছে জান পেতে ক্ষমা চাইবো। আমি যে তোমায় বড় ব্যাথা দিয়ে এসেছি মা। ইচ্ছা করে ছুটে গিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি। তুমি আদর করে আমাকে বুকে টেনে নিতে চাইছো, আমি তোমার হাত ছিনিয়ে চলে এসেছি। খাবারের থালা নিয়ে আমায় কত সাধাসাধিইনা করেছো আমি পিছন ফিরে চলে গেছি।
বীর বাঙালির প্রথম নারী, শহিদ প্রীতিলতা
মুক্ত দেশে বদ্ধ বুকে, তাদের স্মৃতিকথা।
লেখক – শারমীন রেজা লোটাস, সংগঠন সদস্য,রাজবাড়ী মহিলা পরিষদ, রাজবাড়ী জেলা শাখা।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়






































































































