ফেরি সংকট, তীব্র স্রোত ও বাড়তি যানবাহনের চাপ, দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মমুখী মানুষের ঢল –
- Update Time : ০৯:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৮
- / ৪৯ Time View
আজু সিকদার/শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে আরো আগেই। এর সাথে অনেকের কাটানো বাড়তি ছুটিও শেষ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার অসংখ্য মানুষের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মস্থলে ফেরা অব্যাহত রয়েছে। দৌলতদিয়া ঘাট জুড়ে যেন মানুষের ঢল। তাদেরকে বয়ে আনা বাড়তি যানবাহনের চাপে গত কয়েকদিন ধরে মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ যানবাহনের সারি ফেরিঘাট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পদ্মার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিমি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। নদী পারের অপেক্ষায় আটক পড়ে ছোট-বড় শত শত যানবাহন।
বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে ফের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে নাব্যতা সংকটে রোরো (বড়) ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতেকরে ওই রুটের যানবাহনগুলো নদী পার হতে দৌলতদিয়ায় আসছে। আবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকটের পাশাপাশি নদীতে তীব্র ¯্রােতের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারছে না। প্রতিটি ফেরির ট্রিপ দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে সময় বেশী লাগছে। এ সব কারণে ঘাট এলাকায় যানবাহনগুলো আটকা পড়ছে। ঈদের দিন পর্যন্ত ২০টি ফেরি নৌরুটে যানবাহন পারাপার করলেও সোমবার ১৮টি ফেরি চলাচল করে। সোমবার সকালে এ রুটের রো রো ফেরি শাহ জালালের প্রপেলশান সিস্টেমে বড় ধরণের ত্রুটি দেখা দিলে কতৃপক্ষ ফেরিটিকে বন্ধ রেখে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার যানবাহন নদী পার হয়। যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। যানবাহনের এ বাড়তি চাপ সামাল দিতে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌরুটে অলস বসে থাকা রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ট জাহাঙ্গীর ও শাহ পরাণকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে নিয়ে আসার ব্যাপারে কেউ কেউ মতামত দেন।
বিআইডব্লিটিসির আরিচার সহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক অপু জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে সোমবার ৯টি রোরো (বড়), ৮টি ইউটিলিটি ও ১টি কে-টাইপ ফেরি সচল ছিল। এ রুটের বাড়তি যানবাহন ও যাত্রীর চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ অপর রুটে বসে থাকা ২টি রোরো ফেরিকে এখানে নিয়ে আসার বিষয়টি ভাবতে পারেন। তবে ¯্রােতের বিপরীত দিকে হওয়ায় আসতে বেশ সময় দরকার বলে তিনি জানান।
সরেজমিন সোমবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ পদ্মার মোড় পর্যন্ত অন্তত ৬ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যাক্তিগত গাড়িসহ সহ¯্রাধিক যানবাহন ফেরির অপেক্ষায় আটকে আছে। এ ছাড়া ট্রাক টার্মিনাল ও ফোরলেন মহাসড়কের পশ্চিম লেনের এক সারিতে ২/৩ দিন ধরে আটকে আছে অন্তত ৩শ অপচনশীল পণ্যবাহী যানবাহন।
এদিকে দীর্ঘ যানজটের কারণে লঞ্চ পারাপার পরিবহনের অনেক যাত্রীকে ৪/৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে লঞ্চঘাটের দিকে যেতে দেখা যায়। লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভীর সৃষ্টি হয়। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ বেগ পোহাতে হয়। ঘাট এলাকা ও মহাসড়ক জুড়ে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা।
দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত রাজবাড়ীর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন জানান, যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ কমাতে তারা ছোট গাড়িগুলোকে বাইপাস সড়ক দিয়ে এবং অন্যান্য গাড়িগুলোকে ফোরলেন সড়ক দিয়ে দুই সাড়িতে ঘাটে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। এ অবস্থায় অপচনশীল পন্যবাহি ট্রাক পারাপার একেবারেই সীমিত করা হয়েছে।
বিআইডব্লিটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ জানান, নৌরুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। একযোগে অনেক যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য চলে আসাতে ঘাট এলাকায় দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তীব্র ¯্রােতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে যাওয়ায় সমস্যা সহসা কমছে না। তবে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































