পাংশা : ৬ বছরের শিশু মুরছালিনকে হত্যা করে চাচাতো ভাই, আর লাশ গুম করেছে দাদা –
- Update Time : ১১:১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মে ২০২১
- / ৬৮ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
দেড় বছর বয়সী ছোট ভাইকে চর মারায় ছয় বছর বয়সী চাচাতো ভাই মুরছালিন মন্ডলকে হত্যা করে নবম শ্রেণীর ছাত্র ও কিশোর অপরাধী মোঃ শাকিল আহম্মেদ রনি (১৫)। তার সে মরদেহটি লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে ওই মরদেহ বাড়ীর অদুরের পাট ক্ষেতের মধ্যে রেখে আসে রনির দাদা মোঃ হাবিবুর রহমান (৬২)। শুক্রবার বিকালে রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শুধাংশ শেখর রায়ের আদালতে ১৬৪ ধারায় শিশু মুরছালিনকে নির্মম ভাবে হত্যা ও মরহেদ গুম করার ঘটনার স্বাকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রনি ও তার দাদা।
পাংশা থানার ওসি মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন বলেন, গত ১৯ মে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের সাজুরিয়া গ্রামের পাট ক্ষেত থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর সারের বস্তায় পাওয়া যায় স্থানীয় নবাব মন্ডলের ছেলে মুরসালিন মন্ডল (৬) এর মরদেহ। ওই ঘটনার পর তার শিশুটির বাবা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। এর পরই থানা পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্ত কালেই তারা হত্যাকারী হিসেবে শিশু মুরছালিনের চাচাতো ভাই মোঃ শাকিল আহম্মেদ রনি এবং তার দাদা মোঃ হাবিবুর রহমানকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে তারা হত্যা ও লাশ গুম করার দায় স্বীকার করে।
আদালতকে শাকিল আহম্মেদ রনি জানিয়েছে, গত ১৬ মে সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে দেখে মুরছালিন তাদের বাড়ীতে এসে দেড় বছর বয়সী ছোট ভাই আরিয়ান এর সাথে খেলা করছে। তখন সে মুখ মুছতে মুছতে বাড়ীর গিয়ে দাঁড়ায়। ওই মুরছালিনও তার সাথে বাইরে যায়। এমন সময় তার চাচা নবাব মাঠের জমি দেখে বাড়ী ফেরার পথে মুরছালিনকে নিয়ে যেতে চায়। তবে মুরছালিন নিজ বাড়ীতে যেতে রাজি না হওয়ায় চাচা একাই বাড়ীতে চলে যায়। তারপর মুরছালিন পুনরায় বাড়ীর মধ্যে যায় এবং আরিয়ানের সাথে খেলা শুরু করে। খেলার এক পর্যায়ে মুরছালিন চর মারে আরিয়ানকে। তা দেখে সেও মুরছালিনকে চর মারে। এতে মুরছালিন পাশে থাকা দেওয়ালের সাথে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জ্ঞান হারায়। তখন সে তারাতারি করে মুরছালিনকে পাশে থাকা হাফ পানি ভরা লাল রংয়ের প্লাষ্টিকের বালতির মধ্যে নিয়ে রাখে। তারপর মুরছালিনকে পানি থেকে তুলে সারের সাদা বস্তার ভরে তা পুনরায় বালতির ভিতর রাখে। বালতিটি সে দাদার টয়লেটের পিছনে হাউজের উপরে বাঁশের চাটাইয়ের উপরে ছেড়া জাল দিয়ে ঢেকে রাখে।
দাদা মোঃ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, গত ১৯ মে ভোরে তার স্ত্রী কাঞ্চন মালা বাথরুমের সামনে গেলে গন্ধ পান। তখন বিষয়টি কাঞ্চনমালা তাকে জানায়। তিনি বাথরুমের পেছনে গিয়ে দেখেন বালতির মধ্যে একটি বস্তা এবং ওই বস্তার ভেতরে মুরছালিনের লাশ। তখন তিনি তার স্ত্রীর অগোচরে মুরছালিনের লাশ বস্তাবন্দি অবস্থায় বাড়ীর উত্তর পার্শ্বে বছিরের পাট ক্ষেতে নিয়ে ফেলে আসে এবং পরে বালতি ভেঙ্গে তা পাশ্ববর্তী মাহাতাব খানের পাট ক্ষেতের ভেতরে রেখে আসে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান বলেন, ক্লুলেস মর্মান্তিক এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি তারা ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই উদঘাটন করতে সমর্থ হয়েছেন। আসা করছেন দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারা আদালতে চার্জশীট প্রদান করতে পারবেন।
ফেসবুক থেকে এ ভিডিওটি দেখা না গেলে TV Rajbari ( https://www.youtube.com/channel/UCuDGuIdq78amgxb4yhEJ55w ) লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলেও দেখা যাবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































