“নারীর প্রতি সহিংসতা নারীর জন্য আইন”- আয়েশা শেলী-
- Update Time : ০৭:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০২১
- / ৮০ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
অল্প কিছুদিন আগের খবরের শিরোনামে একজন ডাক্তার নারীকে ধর্ষনের বিষয়টি কোনো সংবেদনশীল মানুষের নজর না কেড়ে পারেনা । আমাদের সমাজে এবং রাস্ট্রে নারী ধর্ষণ আর খুন যেন নিত্য দিনের ঘটনা। কিন্তু কারো কোন বিচার হয়না , কিংবা বিচার প্রক্রিয়া এত প্রহসন মুলক এবং বিলম্বিত যে তখন সেটি ধর্ষিতা নারী এবং তার পরিবারের জন্য একটি গলার ফাঁসে পরিনত হয়।
ঘরের বাইরে নারী বের হতে পারবেনা , তাকে বন্দী অবস্হায় থাকলেও কি তার মুক্তি আছে ? ঘরের মাঝেও সহিংসতার শিকার হয় নারী , তবে এই সহিংসতার হাত থেকে নারীদের উত্তরণের উপায় কি ? আমরা কি ভাবছি – আমরা কি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার নাকি বিক্ষিপ্ত ভাবে শুধু প্রতিবাদ করে যাচ্ছি , সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ কেন হয়না , নারী নেত্রীরা কি শুধু সভা সেমিনারে নিজেদের আবদ্ধ রাখবেন , স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন নারীদের সুরক্ষার জন্য নারীবান্ধব আইন তৈরী হলোনা, কোন ধর্ষকের ফাঁসির আদেশ হয়েছে বলে শুনিনি , বরং পুলিশ ও আইনের কালো দরজা দিয়ে তাদের সমাজে শুদ্ধ করা হয় । কিন্তু এভাবে চলতে দেয়া যায়না। নারীর সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের এই রাস্ট্রটিকে নিতেই হবে , প্রতিটি নারীর নিজ নিজ নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি নারীর বৈধ অস্ত্র রাখার অধিকার দেয়া হোক , সম্পত্তির সমান অধিকার আর বিবাহ আইনে নারীকে অধিক ক্ষমতা প্রদান আর নারী নির্যাতন কারীদের কঠিন শাস্তির আওতায় না আনলে ডাক্তার , আইনজীবি , পুলিশ কোন নারীই রেহাই পাবেনা এই পুরুষ নামক নর পশুদের লালসা থেকে ।
নারীর প্রতি প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রত্যক নারীকে জ্বলে উঠতে হবে একসাথে , আমাদের সকলের বজ্রকন্ঠে উচ্চারিত হোক সকল অন্যায় আর জিঘাংসার বিরুদ্ধে ঘৃণার অগ্নি। জেগে ওঠো , নারী জেগে ওঠো , তোমার মুক্তির পথ তোমার হাতেই রচিত হোক।
“নৈতিকতার স্খলন দেখেও
মানবতার পতন দেখেও
নির্লজ্জ অলস ভাবে বইছ কেন
সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে
লক্ষ জনেরে সবল সংগ্রামী
আর অগ্রগামী করে তোলনা কেন
জ্ঞান বিহীন নিরক্ষরের
খাদ্য বিহীন নাগরিকের
নেতৃবিহীনতায় মৌন কেন
সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে
লক্ষ জনেরে সবল সংগ্রামী
আর অগ্রগামী করে তোলনা কেন
ব্যক্তি যদি ব্যক্তি কেন্দ্রিক
সমষ্টি যদি ব্যক্তিত্বরোহী
তবে শিথিল সমাজকে ভাঙ না কেন
সহস্র বরষার উন্মাদনার মন্ত্র দিয়ে
লক্ষ জনেরে সবল সংগ্রামী
আর অগ্রগামী করে তোলনা কেন”
ভূপেন হাজারিকার এই আকুতি কেন সহস্র মানুষের হ্রদয়ে মন্ত্রনা দেয়না , পৃথিবীকি অন্ধকারে তলিয়ে যাবে , নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ হবেনা , সকলে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে – কি বিচিত্র এই সমাজ , এই সভ্যতা – আমাদের কি বলতে হবে দাও ফিরিয়ে সে অরন্য , লও হে নগর । বাঙ্গালী নারী আর কত ধর্ষিতা হবে , যুদ্ধ শেষ , যুদ্ধ তো থেমে গেছে সেই কবে তবে বাঙ্গালী নারীরা আজও কেন ধর্ষিত হয় , আজও কেন বাঙ্গালী নারীর লাশের গন্ধে ভরে যায় আকাশ বাতাস । আজ একবিংশ শতাব্দীর দ্বার প্রান্ত থেকে এই হতাশার আবহ গুলো রচনা করতে চাইনা । নারী দিবস উদযাপিত হবে পৃথিবী ব্যাপী কিন্তু নারী নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে কবে তা আমরা কেউ জানিনা । নারীর সমানাধিকার্র আইন পাশ না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছুই হবেনা। সিঙ্গাপুরের আইনে কোন আবাসন বুকিং কিংবা যে কোন মুল্যবান স্হাবর , অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর যৌথ মালিকানা থাকে সমান সমান কিন্তু বিবাহ বিচ্ছেদের সময় নারী পায় ৬০% । সন্তানের ভরন পোষনের ক্ষেত্রেও পুরুষকে সকল দায়িত্ব বহন করতে হয় । আর আমাদের দেশে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে প্রতিটি নারীকে পথে নামতে হয় , শত গন্জনা সহ্য করে সংসার করতে বলা হয় কারন দেনমোহর এত কম থাকে এবং অনেক সময় আদায় করা এত দুরুহ যে নারীটিকে পরিবার গলগ্রহ বলে মনে করে । কাজেই আপোষের জীবন বেছে নিতে নিতে অধিকাংশ নারীর ব্যক্তিত্ব বলে কিছু থাকেনা তাই নারীরা ভাল কিছু করার তাগিদও অনুভব করেনা। পরাশ্রয়ী পরমুখাপেক্ষী হয়ে পরিবারে এবং সমাজে কোন ভুমিকা রাখার যোগ্যতা তারা রাখেনাএবং অনেক সময় তারা পুরুষদের তন্ত্রের প্রতিনিধি হিসাবে ভুমিকা পালন করে। কিছুদিন আগে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় একটি বাসাতে গৃহকত্রী কতৃক একটি কাজের মেয়ে খুন হয় । এক্ষেত্রে খুনী একজন নারী এবং নিজের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের লালসা থেকে কাজের মেয়েটিকে বাচানোর যোগ্যতা অর্জন না করলেও তাকে খুন করার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। পুরুষ তন্ত্রের অন্ধকার গহ্ববরে তলিয়ে গেলে নারীর মুক্তি আসতে পারেনা ।
আমার বনধু সালমা কোহিনুর লুসির বলেছে “আমরা শুধু একান্তই টিকে থাকার জন্য যার যেটুকু ক্ষমতা আছে তার দ্বারা বিক্ষিপ্ত ভাবে প্রতিবাদ করে যাচ্ছি মাত্র!!!! এর দ্বারা আমাদের আসল উদ্দেশ্য কখনই হাসিল হবে না!!! পুরুষশাসিত সমাজে আমরা কখনই ওদের সেচ্ছাচারিতার হাত থেকে রেহাই পাব না যদি না আমরা সমাজে নারী অধিকারে বড় ধরনের পরিবর্তন না আনতে পারি। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে বাবা মায়ের ভুমিকা সবার আগে নিতে হবে। এর প্রেক্ষিতে পরবর্তিতে ডিটেইল লেখার ইচ্ছে আছে। আমাদের সম্পত্তিতে সম অধিকার আনতেই হবে এবং এবং বাবা মা ভাই যাতে মেয়েকে ফাঁকি দিতে না পারে তার জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই কাজটা করতে পারলেই মেয়েরা অনেকটা পায়ের নিচে মাটি পাবে। একটা পুরুষ একটা মেয়েকে দেখলেই ভাবতে পারবে যে তার জন্মের পর তার যেটুকু অধিকার আছে তদ্রুপ একটা মেয়েরও আছে। তখন তারা আর মেয়েটাকে অসহায় ভাবার অবকাশ পাবে না।” আমরা হতাশা পেরিয়ে আসতে পারি যখন একজন কিংবা দুজন নই এমনিভাবে শত শত নারী প্রতিবাদ করবে এবং নারীর সত্যিকার অধিকারের স্বীকৃতি আদায় করবে ।
নারী দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে প্রতিটি বাংগালি নারীর চৈতন্যদোয় হোক । নারী মুক্তির আন্দোলনে বাঙ্গালী নারীরা গর্জে উঠুক ,এইসব অনিয়ম ভেঙ্গেই একদিন নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আমাদের দেশের নারীরা অধিকার পাবে উন্নত বিশ্বের নারীদের মতই ।
লেখিকা – আয়েশা সিদ্দিকা শেলী, অতিরিক্ত কর কমিশনার, ঢাকা এবং প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান উপদেষ্টা, দি বলু স্কাই চ্যারিট্যাবল ফাউন্ডেশন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































