নদী পাড়ের অপেক্ষায় হাজারো যানবাহন, দৌলতদিয়ায় কর্মস্থলগামী মানুষের চরম দূর্ভোগ –
- Update Time : ০৯:১৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৮
- / ৫৭ Time View
আসজাদ হোসেন আজু, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষকে বয়ে আনা বাড়তি যানবাহনের চাপে গোয়ালন্দে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতেকরে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন কর্মস্থলগামী হাজার হাজার মানুষ।
কর্তৃপক্ষ বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজধানীর সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট। এরমধ্যে শুক্রবার থেকে আবারো শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে নাব্যতা সংকটে রোরো (বড়) ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। এতেকরে ওই রুটের পারাপার হওয়া যানবাহনগুলো এক যোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে পারাপার হতে ঘাটে এসেছে বলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সরেজমিন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদ অনুষ্ঠিত হয়েছে দুইদিন আগে। ঈদের ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় শনিবার সকাল থেকে কর্মজীবি মানুষকে ফিরতে হচ্ছে কর্মস্থলে। সকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যানবাহন সরাসরি ফেরির নাগাল পেয়েছে। তবে দুপুরের পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। সময় বাড়ার সাথে সাথে ¯্রােতের মত যাত্রীবাহি যানবাহন আসতে থাকায় বিকেলের পর থেকে মহাসড়কে যানবাহনের সারি সৃষ্টি হতে থাকে। ঘন্টা খানেকের মধ্যে যানবাহনের সারি গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অন্তত ৮ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। সময় বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিরিয়ালে আটকে পড়া গাড়ির সংখ্যা।
এদিকে বরাবরের মত ব্যাক্তিগত যানবাহনগুলো সিরিয়ালের ডান পাশ দিয়ে ঘাটে পৌঁছাতে গিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন আসা-যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ফেরিতে নদী পাড় হয়ে আসা যানবাহনগুলোও ওই এলাকা থেকে বের হতে পারছে না। তীব্র গরমে আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীরা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে লঞ্চ পারাপার বাসগুলো তাদের যাত্রীদের ঘাট থেকে ৭/৮ কিলোমিটার দুরে মহাসড়কে নামিয়ে দিচ্ছে। এই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে সেই সকল যাত্রীদেরকে লঞ্চঘাটে পৌঁছাতে হচ্ছে। শিশু, বয়বৃদ্ধ ও তাদের ব্যাগ বোঝা নিয়ে তারা এসময় মহাবিপাকে পড়েন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া অফিস সূত্র জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি বহরে কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে ছোট-বড় মোট ২০টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছিল। কিন্তু শনিবার দুইটি রোরো (বড়) ফেরি কমে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। এরমধ্যে গত ২২ আগস্ট রোরো (বড়) ফেরি শাহ পরান দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট থেকে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর রোরো ফেরি শাহ আলী যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামত করা হচ্ছে।
এক দিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ অপর দিকে ফেরি সংকটের কারণে দৌলতদিয়ায় শনিবার বিকেল নাগাদ ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয় গাড়ির দীর্ঘ সারি। আটকে থাকা যানবাহনের মধ্যে যাত্রীবাহি বাস, ব্যাক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ এম্বুলেন্সও রয়েছে।
দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমান এই নৌরুটে মোট ১৮টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। তারপরও বাড়তি যানবাহনের কারণে ঘাট এলাকায় যানবাহন আটকা পড়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটিতে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতে থাকা রোরো ফেরি শাহ আলী আজ (শনিবার) রাতের মধ্যে রুটের ফেরি বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়






































































































