দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির চেষ্টাকালে রক্ষাপেল পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী –
- Update Time : ০৯:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৯
- / ৪৩ Time View
আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
জীবনের অর্থ বোঝার আগেই নারী পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে যৌনপল্লীতে বিক্রি হয়ে যাচ্ছিল পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী। সে কুষ্টিয়ার দরিদ্র এক অটোরিক্সা চালকের মেয়ে।
গত শনিবার দিনগত রাতে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির চেষ্টাকালে ওই শিশুকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে পুলিশ। রবিবার দুপুরে ওই শিশুটিকে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া আপন বড় ভাইয়ের সাথে উদ্ধার হওয়া ছাত্রীর ঝগড়া হয়। তখন বাবা আসছেন জেনে ভয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে মেয়েটি পাশের রাস্তায় গিয়ে লুকিয়ে কান্না করতে থাকে। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবক সেখানে এসে মেয়েটির কাছে কান্নার কারণ জানতে চায়। কিছুক্ষণ পর সুযোগ বুঝে ওই যুবক চেতনানাশক ওষুধ মিশ্রিত রুমাল দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরলে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞাত ওই যুবক সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় শিশুকে বাসে তুলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ে আসে। পরে রাত আড়াইটার দিকে অজ্ঞাত ওই যুবক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মেয়েটিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির চেষ্টা চালায়। কিন্তু ততোক্ষণে জ্ঞান ফিরে পেয়ে শিশুটি চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। এসময় দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত ঘাটশ্রমিকসহ আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানা পুলিশে খবর দেয়। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্ট দালাল যুবক দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ছেড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের একটি দল দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনাল এলাকা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং মেয়েটির পরিবারকে খবর দেয় এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) লিপিবদ্ধ করা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির হাত থেকে অল্পতে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলছাত্রী। রবিবার দুপুরে মেয়েটিকে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনায় জড়িত পলাতক থাকা অজ্ঞাত ওই দালালকে দ্রুত খুজে বের করে তাকে আইনের আওয়ায় আনার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































