দৌলতদিয়া ঘাটে ভাড়ার নামে প্রকাশ্য অতিরিক্ত টাকা আদায়, দেখার কেউ নেই –
- Update Time : ০৬:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২
- / ৮২ Time View
ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বাড় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ব্যাবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নদী পার হয়ে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় যান।সাধারন যাত্রীদের আসা যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী ইজারা কতৃপক্ষ টিকেট মূল্যের অতিরিক্ত ফেরি ও লঞ্চ ভাড়া আদায় করছেন। অনিয়ম ও নৈরাজ্যে পরিনত হয়েছে প্রতিটি ফেরি ও লঞ্চ ঘাট। কর্তৃপক্ষের বেধে দেওয়া মূল্য তালিকার তোয়াক্কাই করছেননা ইজারদার কর্তৃপক্ষ। হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চে গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার লোকাল যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে।কিন্তু এসব যাত্রীদের কাছ থেকে প্রভাবশালী ইজারাদ্বার কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের উপর জোর পূর্বক টিকিট মূল্যের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ফেরি ভাড়া না বাড়ালেও প্রত্যেকের কাছ থেকে টিকেট মূল্যের চাইতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। আগে মোটর সাইকেল ও যাত্রীসহ ৫০ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে তা ৪০ বাড়িয়ে ৯০ টাকা আদায় করছেন।
এদিকে, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের বেঁধে দেওয়া কিলোমিটার অনুযায়ী লঞ্চ ভাড়া ৬০ পয়সা বাড়ানো হলেও ৪ কিলোমিটারে বর্ধিত ৩ টাকা সহ ভাড়া হওয়ার কথা ২৮ টাকা।অথচ ইজারাদার ও তার প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করে লঞ্চ ঘাট প্রবেশ ফি ৫ টাকা সহ ২৫ টাকার ভাড়া ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত আদায় কছেন যাত্রীদের থেকে। এক প্রকার জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাত্রীরা নদী পারাপার হচ্ছেন।ভাড়া নৈরাজ্যের এমন পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ জানান ভুক্তভোগী সাধারন যাত্রীরা। ফেরি ও লঞ্চ ইজারাদার কতৃপক্ষ সুবহানা ও কিরন এন্টার প্রাইজ আদায় করছেন এসব ভাড়া। সংবাদ সংগ্রহ কালে বেশি ভাড়া আদায়ের সময় সাংবাদিকের কাছে এক যাত্রী বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করা হলে ইজারা কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীকে তখনই অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলেন, আগে লঞ্চ ও ফেরি ভাড়া ২৫ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে লঞ্চে ও ফেরিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা মোটর সাইকেল পারাপারে ৫০ টাকার স্থলে তা নেওয়া হচ্ছে ৯০ টাকা। ভাড়া নিয়ে এমন নৈরাজ বন্ধে প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিএ’কতৃপক্ষ লঞ্চ ঘাটের ভাড়া বৃদ্ধি জনিত বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।লঞ্চ ঘাট মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিম ’র মুঠোফোনে বার বার ফোন করে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।তবে লঞ্চ ঘাট ইজারাদার কতৃপক্ষের প্রতিনিধি মোফাজ্জেল হোসেন বলেন,ভাড়া বৃদ্ধি বিষয়ে মালিক এবং বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষই ভালো বলতৈ পারবে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানে না।
সুবহানা নামে ফেরি ঘাট ইজারাদার কতৃপক্ষর পরিচালক মোঃ রফিক মন্ডল বলেন, তাদের কোন প্রতিনিধি বা সদস্য টিকেটের বাইরে কোন ধরনের অতিরিক্ত টাকা গ্রহন করেন না যাত্রীদের কাছ থেকে। বেশি টাকা নেওয়ার প্রমান পাওয়া গেলে ব্যাস্থা নেওয়ার কথা জানান।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল হক খান মামুন বলেন তাদের কাছে ভাড়া বেশি নেওয়া অভিযোগ কেউ করেনি। ভাড়া বৃদ্ধি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, ঘাটের অনিয়ম দূর করতে বিভিন্ন সময়ে তারা কাজ করেছেন। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন। তবে নিজস্ব কতৃপক্ষের মাধ্যমে অনিয়ম দূর করতে যেটুকু সমন্বয় করার তা তিনি করবেন বলে জানান।
দৌলতদিয়া,পাটুরিয়া ও আরিচা অঞ্চলের বিআইডব্লিউটিসি’র ডিজিএম খালেদ নেওয়াজ,তিনি বলেন, টিকেটের নির্ধারিত মূল্য ব্যাতিত অনিয়ম ও নিয়মের পরিপন্থি যদি পাওয়া যায় তাহলে ইজারদার কতৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা করা হবে এবং ঢাকা হেড কোয়ার্টারকে অবহিত করা হবে। প্রতি মাসে ৮ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫০ টাকা বিআইডব্লিউটিসিকে জমা দেয় ইজারাদার কর্তৃপক্ষ।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































