তরুনীকে বিয়ের প্রলোভনে এনে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি –
- Update Time : ০৯:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৮
- / ৪২ Time View
আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
২৫ বছর বয়সী এক তরুনীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে এনে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ২২ দিন পর ওই তরুনীকে ৩য় দফা বিক্রির সময় গোয়ালন্দ উপজেলার কাটাখালী এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় প্রতারক মিঠু বিশ^াস (৩৩) কে গ্রেফতার করা হয়। সে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত ইলাম বিশ^াসের ছেলে।
উদ্ধার হওয়া তরুনী জানায়, স্বামী পরিত্যাক্তা দরিদ্র পরিবারের মেয়ে তিনি। তার বাবা ইটভাটায় কাজ করেন। মিঠু বিশ^াস তার বাবার সাথে একই ইটভাটায় কাজ করার সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে মিঠু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তিনি স্বামী পরিত্যাক্তা জানালেও মিঠু তাতে আপত্তি করে না। মিঠু তাকে বলে, ‘মোমেনা বেগম নামে তার এক খালা রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাটে থাকেন। তার বাড়িতে গিয়ে আমরা বিয়ে করব।’ তার কথামত গত ২ নভেম্বর রাতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে কথিত খালা মোমেনার বাড়িতে নিয়ে আসে। এখানে আসার পর সে বুঝতে পারে সে প্রতারিত হয়েছে। এরপর তাকে আটক রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও শারীরিক নির্যাতন করে যৌন পেশায় লিপ্ত করে মিঠু ও মোমেনা। এরপর গত ১০ নভেম্বর মোমেনা ও মিঠু তাকে খলিল শেখ নামে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর আরেক বাড়িওয়ালার কাছে বিক্রি করে দেয়। খলিল শেখ ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার একই ভাবে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি করায়। গত শনিবার বিকেলে তাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে খলিলসহ অন্যরা উপজেলা কাটাখালী এলাকায় এনে আরেক দফা বিক্রির চেষ্টা করে। বিষয়টি সে (উদ্ধার হওয়া তরুনী) টের পেয়ে চিৎকার-চেচামেটি করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। এসময় মোমেনা, খলিল ও সুমি পালিয়ে গেলেও মিঠুকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুনীকে উদ্ধার ও মিঠুকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া তরুনী বাদি হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেছে। মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































