“টিকা নিন, নিরাপদ থাকুন, অন্যকে ভাল থাকতে সহায়তা করুন” – আয়েশা শেলী –
- Update Time : ০৮:১৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মে ২০২১
- / ৭৭ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
করোনার টিকা নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমদিকে একটি উদ্বেগ ছড়াতে শুরু করেছিল তা হলো করোনার টিকা নিলে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি আছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার তেমন কিছু ঘটে নাই আমাদের দেশে। ইউরোপে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যেও রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে খুবই নগণ্য বলে জানা যায়। ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকার ক্ষেত্রেও মোটামুটি একই হারে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটে বলে প্রতীয়মান হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি জানিয়েছে, গবেষণায় এখন পর্যন্ত করোনার টিকার সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায় নি। কাজেই যতই গুজব রটুক, তাতে কান না দিয়ে টিকা নিন। কিন্তু আমাদের দেশে অনেকেই প্রথম ডোজ টিকা নেবার পর করোনা আক্রান্ত হয়েছেন যার ফলে অনেকে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু পরিসংখ্যান বলে প্রথম ডোজ টিকা যারা নিয়েছে তারা করোনা আক্রান্ত হলেও কম ঝুকির মধ্যে ছিল যারা নেয়নি তাদের তুলনায়।
তাছাড়া টিকা নেওয়ার পরপরই শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না। এর জন্য কিছুদিন সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে কিংবা টিকা নেওয়ার আগমুহূর্তে কেউ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে থাকলে সে ক্ষেত্রে টিকা তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারে না। আর করোনার টিকার সর্বোচ্চ সুরক্ষা পেতে দুই ডোজ টিকা নিতে হয়। কাজেই প্রথম ডোজের পরই পূর্ণ নিরাপত্তা পাওয়া সম্ভব নয়। আবার করোনার যেসব টিকা বিভিন্ন দেশে দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর কোনোটাই শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। কাজেই টিকা নিয়েই নিজেকে সুরক্ষিত ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
করোনার টিকার প্রথম ডোজ কিম্বা দ্বিতীয় ডোজ নিয়েই স্বাস্থ্যবিধি মানা ছেড়ে দিলে চলবেনা। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন মেনে চলা, কিছুক্ষণ পরপর সাবান–পানি দিয়ে হাত ধোয়ায় শিথিলতা আনা যাবেনা। গত ডিসেম্বর জানুয়ারী মাসে বিপুলসংখ্যক মানুষ পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে ঘুরে বেড়ে হয়েছেন, সামাজিক অনুষ্ঠান বা উৎসব পালন করেছেন। এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি বলেই এখন বাংলাদেশে দ্বিতীয় ধাক্কা চলছে। তাই ভবিষ্যতে এমনটা করা চলবে না কিছুতেই। প্রয়োজনের বাইরে কোন কাজ করা ঠিক হবেনা যা জনস্বার্থ এবং জনস্বাস্হ্য পরিপন্হী। কতদিন আমাদের বাচ্চাগুলো স্কুলে যায়না, স্বাভাবিক চলাফেরা করেনা, আমরা অনেক কাছে থাকার পরও কাছের মানুষ গুলোর সাথে দেখা করতে যাইনা। কত উন্নয়ন প্রকল্প , সামাজিক কাজ বন্ধ হয়ে আছে। আমাদের জীবন থাকলে আনন্দ ফুর্তি অনেক করা যাবে। কিন্তু এটাই সাধারন জনগন বুঝতে পারেনা।
আসলে সবকিছুর প্রায়োরিটি ঠিক করা প্রয়োজন। এই সময় যত অধিক সংখ্যায় জনগন টিকার আওতায় আসবে তত হার্ড ইমিউনিটি তৈরী হবে এবং সংক্রমনের সংখ্যা কমবে। আমরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারব। এজন্য আপনার চারপাশে যারা আছে তাদের সবাইকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যারা লেখাপড়া জানেনা কিম্বা স্বাস্হ্য সচেতন নয় তাদের বোঝাতে হবে টিকার উপকারিতা কতটুকু। যে যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেহেতু সরকার টিকা নেবার একটি সুন্দর ব্যবস্হাপনা করেছেন এবং তা অনলাইন ভিত্তিক যা অনেকের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা দুরুহ। আপনার পাশে এমন যারা আছে তাদের সাহায্য করুন। আমরা দি ব্লু স্কাই চ্যারিটযাবল ফাউন্ডেশন থেকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করা সহ রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে সহায়তা করে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত প্রায় বিশজনকে টিকা রেজিস্টেশন করতে সহায়তা করা হয়েছে। আমরা আমাদের অফিস সহকারী, কাজের মানুষ, দারেয়ান, ড্রাইভার থেকে শুরু করে সবাইকে টিকা গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করেছি এবং আমি মনে করি সবাইকে এই কাজটিকরতে হবে যার ফলে দেশের আপামর জনগন টিকার আওতাভুক্ত হবে এবং দেশ করোনা মুক্ত হবে।
আমরা মনে করি বাংলাদেশে বর্তমানে চীন এবং রাশিয়া থেকে যে টীকা আসছে সেটিও সমানভাবে কার্যকরী হবে। তাই জনগনকে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন নিজে টীকা নিতে এবং অন্যদের টীকা নিতে সহায়তা করতে। আসুন সকলে টীকা নিয়ে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
সবাই টিকা নিয়ও মাস্ক পড়ি, সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করি, জনসংযোগের ক্ষেত্রে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখি।
একটি অনাবিল সুস্হ পৃথিবীর প্রত্যাশা এবং আশা, শক্তি, ভালবাসা নিয়ে দি ব্লু স্কাই চ্যারিট্যাবল ফাউন্ডেশন মানুষের সেবা এবং দিন বদলের স্বপ্ন নিয়ে পথ চলছে। সবাই সুস্হ থাকুন, ভাল থাকুন।
লেখিকা – আয়েশা শেলী, প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান উপদেস্টা, দি ব্লু স্কাই চ্যারিট্যাবল ফাউন্ডেশন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































