“জ্ঞানের বাতিঘর প্রফেসর ড. রশীদুল আলম”- লেখক- সালাম তাসির –
- Update Time : ০৫:২৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অগাস্ট ২০২১
- / ৫৭ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
জ্ঞানের বাতিঘর প্রফেসর ড. রশীদুল আলম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,বহু কাঙ্খিত ইচ্ছা পূরণে ১৯৮০-৮১ সেশনে দর্শন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো। যদিও ভর্তি পরীক্ষায় বাংলায় খুব ভালো করেছিলাম কিন্তু একজন সিনিয়র ভাই বাংলাভীতি মনে ঢুকিয়ে দিলে আমি দর্শনকেই আপন করে নিই। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমার বাংলা সাহিত্য পড়া হয়নি। তবে তাতে দুঃখ নেই আমার কারণ দর্শন পড়ার সুযোগে খ্যাতিমান শিক্ষকদের সান্নিধ্যে নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। রোমাঞ্চকর একটি দিন। ভালোবাসায় সিক্ত মতিহারের আম্রকানন। অনার্স প্রথম বর্ষের ক্লাস মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের দ্বিতীয় তলায়। সেখানেই দর্শন বিভাগের কার্যালয় ও শিক্ষক মিলনায়তন। অনাবিল আনন্দে উচ্ছ্বসিত হাজারো শিক্ষার্থীর ভিড় ঠেলে মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলাম। তারপর দর্শন বিভাগের সামনে অপরিচিত সহপাঠী বন্ধুদের জটলার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।
বারান্দায় শতাধিক নতুন শিক্ষার্থীর মাঝে পুরনো শিক্ষার্থী,বড় ভাই-বোনরা কোনঠাসা হয়ে আছে। ক্লাসের অপেক্ষায় অন্যরকম অনুভূতি মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছে। কোন শিক্ষকের সাথে পরিচয় হয়নি এমনকি সহপাঠী বন্ধু যারা তারা কেউ কাউকে চিনি না। কোন ক্লাস রুটিন পাইনি, ক্লাস কখন কোথায় হবে কিছুই জানা হয়নি তখনো। ঠিক সেই মুহূর্তে মধ্যবয়সী একজন মানুষ ভিড় ঠেলে সামনে এগুতে থাকে। সহজ সরল প্রকৃতির,বেশভূষায় চমৎকারিত্ব নেই অতি সাধারণ। আপাদ মস্তক একজন সাদা মনের মানুষ। তিনি ভিড় ঠেলে সামনে যেতে পারছেন না,আমরাও তাকে সহযোগিতা করছি না। অন্য সব অচেনা সাধারন মানুষের মতোই তাকে ভেবেছি সেদিন। এক সময় তিনি সব বাঁধা অতিক্রম করে শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করলেন। ভীরের মধ্য থেকে কে যেন চেঁচিয়ে বলে উঠলো প্রথম বর্ষের বন্ধুরা সবাই চলে এসো স্যার ক্লাসে ঢুকেছেন। আমরা কে কার আগে যাবো এই প্রতিযোগিতায় এক দৌঁড়ে ক্লাসে ঢুকেই দেখি সেই ব্যক্তি যাকে আমরা সাধারণ মানুষ ভেবেছিলাম। তখন নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়েছিলো কারণ স্যার আমাদের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন কিনা? যদি ক্ষমা করে না দেন। ক্লাস শেষে স্যারকে বলেছিলাম আমাদের ক্ষমা করবেন স্যার আমরা আপনাকে চিনতে পারি নাই। স্যার মৃদু হেসে সেদিন বলেছিলেন এমন বয়স আমারও ছিলো,আমিও তোমাদের মতো ছাত্র ছিলাম। তাছাড়া তোমরা আমার সন্তানের মতো। আমার মেয়ে ছবি তো তোমাদেরই সহপাঠী বন্ধু। এই মহৎ ব্যক্তি আর কেউ নন তিনি আমাদের প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর ড. রশীদুল আলম স্যার। একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার জন্য যা যা গুণ থাকা প্রয়োজন তার শতভাগ গুণই তিনি অর্জন করেছিলেন। বিরল প্রতিভার অধিকারী ড.রশীদুল আলম স্যারের জন্মঃ২৭ জানুয়ারি ১৯৩৫ খ্রি. মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলাধীন ধোয়াইল গ্রামে। পিতা মৃতঃ মোল্লা মোহাম্মদ আরমান উল্লাহ,মাতা মৃতঃ মোছাঃ তছিরন নেছা। শিক্ষা জীবনঃ তিনি তাঁর এলাকা ধোয়াইলের বড়রিয়া মাদরাসার অন্তর্গত একটি মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। তারপর ১৯৪৩ সালে মোহাম্মদপুর আর,কে,এইচ ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন এবং এই প্রতিষ্ঠান থেকেই তিনি ১৯৫০ সালে দ্বিতীয় বিভাগে মেট্টিক পাশ করেন।
১৯৫১ সালে দৌলতপুর বি.এল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন এবং ১৯৫৩ সালে অত্র কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আই.এ পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভর্তি হতে পারেন নি। অবশেষে তিনি বি.এল কলেজে স্নাতক(পাশ) শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৫৫ সালে উক্ত কলেজ থেকে ডিগ্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। ডিগ্রী পাশ করার পর ঐ বছরই তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এম. এ (দর্শন) প্রিলিমিনারীতে ভর্তি হন এবং ১৯৫৬ সালে অত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ শেষ পর্ব পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। বর্ণাঢ্য কর্ম জীবনঃ ড. রশীদুল আলম ১৯৫৬ সালে মৌলভীবাজার কলেজে দর্শনের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।সে কলেজে পাঁচ বছর শিক্ষকতা করার পর ১৯৬১ সালে নওগাঁ ডিগ্রী কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। শিক্ষকতার মহান পেশায় আত্মনিয়োগ করার পর তিনি আবার ছাত্র জীবনে ফিরে আসেন। বহিরাগত শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৬৮ সালে চূড়ান্ত পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ন হন। এতো কিছুর পরেও তাঁর যুদ্ধ থেমে থাকেনি, মনের অদম্য বাসনা ও ইচ্ছা শক্তির জোড়ে তিনি আবার ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭০ সালে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। একবার ভাবুন একজন মানুষের কতটা প্রাণশক্তি থাকলে এই বয়সেও নিজেকে ছাত্র ভাবতে পারেন। তাঁর এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে সকল বন্ধুর পথ অতিক্রম করে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও শান্তি নিকেতন পি এইচ ডি করার জন্য তাঁকে পত্র লেখেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানে তাঁকে বাংলা ভাষার উপর অর্থাৎ “রবীন্দ্রকাব্যে আমির ক্রমবিকাশ” এই বিষয়ের উপর পি এইচ ডি করার সুযোগ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন কলেজে অধ্যাপনা করে ১৯৭৪ সালের ৬ মার্চ নিজ যোগ্যতা বলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। এরপর ১৯৭৮ সালের ১০ জুলাই কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পি এইচ ডি’র প্রস্তাবটি গবেষণার বিষয় হিসেবে গৃহীত হয়। ১৯৭৯ সালের জানুয়ারি মাসে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনার কাজ শুরু করেন এবং ১৯৮০ সালে সেপ্টেম্বর মাসে তিনি তাঁর থিসিস পত্র জমা দেন। ১৯৮১ সালের নভেম্বর মাসে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে “রবীন্দ্রকাব্যে আমির ক্রমবিকাশ” গবেষনার উপর পি এইচ ডি ডিগ্রী প্রদান করেন। তারপরেও এই প্রতিভাধর মানুষ কখনো থেমে থাকেন নি। তিনি ১৯৮৪ সালে ভাষা দার্শনিক ব্যাট্টাণ্ড রাসেলস লজিক্যাল এটনিজম এর উপর গবেষনা শুরু করেন। একই বছর তিনি কোলকাতা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি.লিট করার জন্য থিসিস পত্র জমা দেন। অতঃপর ১৯৮৬ সালে তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব লিটারেচার (ডি.লিট) ডিগ্রী লাভ করেন।
ড. রশীদুল আলম অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ছাত্র জীবনে অধ্যাবসায় ছিলো তার জ্ঞান-ধ্যান। তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি একই সাথে ছাত্র এবং শিক্ষক দুই-ই ছিলেন। প্রচণ্ড ইচ্ছা শক্তি এবং অসীম ধৈর্য তাকে নিয়ে গেছে এভারেস্টের চূড়ায়। আমি এমন মেধাবী ও গুণি শিক্ষকের ছাত্র হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। বরেণ্য লেখক সত্তাঃ ড. রশীদুল আলম ১৯৬২ সালে নওগাঁ কলেজে অধ্যাপনা সময়ে লেখা-লেখি শুরু করেন।তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহঃ মুসলিম দর্শনের ভূমিকা ১৯৬৯, দর্শনের ভূমিকা ১৯৭২, কোরানের দর্শন ১৯৮৬, সমাজ দর্শনের ভূমিকা ১৯৮৬,সুফী সাধনার ভূমিকা ১৯৮৬, ইতিহাস কথা কয়,নোঙ্গর বিহীন ( কাব্যগ্রন্থ) ১৩৯৬ বাং, সহজ যুক্তিবিদ্যা পরিচয়, সহজ মনোবিজ্ঞান পরিচয় (১৯৬৬-৬৭) নীতিশাস্ত্র পরিচয় ১৯৬৮, আমির চিন্তাধারার ক্রমবিকাশ(Bartand Russell’s Logical Atonism) ১৯৯০, স্যার সৈয়দ আমীর আলী The Sprit of Islam অনুবাদ গ্রন্থ -২০০২ এ ছাড়াও পি এইচ ডি থিসিস রবীন্দ্রকাব্যে “আমির ক্রমবিকাশ” বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। আমি (কাব্যগ্রন্থ),দার্শনিক প্রবন্ধাবলী,কোরানের বুদ্ধির মুক্তি ইত্যাদি। এ পর্যন্ত তিনি দর্শন বিষয়ের উপর পঁচিশ খানা গ্রন্থ রচনা করেছেন। কর্ম জীবনে ড.রশীদুল আলম ছিলেন দর্শনের একজন খ্যাতিমান শিক্ষক। তিনি তাঁর অধ্যাপনা জীবন কলেজ থেকে শুরু করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সমাপ্তি টানেন। এই সুদীর্ঘ জীবন তিনি উৎসর্গ করেছেন পড়া, লেখা আর অগনিত শিক্ষার্থীদের মানুষ গড়ার যোদ্ধা হিসেবে। সৎ, নীতিবান, একজন আদর্শ শিক্ষক ও বহু গ্রন্থের প্রণেতা হিসেবে তিনি স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল। ড. রশীদুল আলম নিজ যোগ্যতা বলে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীজনের অন্তরে সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক হিসেবে আবাস গড়ে তুলেছেন। তাঁর লেখার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ধর্ম, দর্শন,নীতি ও নৈতিকতা,সাহিত্য এবং সমাজ জীবনের বিভিন্ন বিষয়। জীবন,জগৎ, নীতি ও নৈতিক শিক্ষা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন তার চিন্তাপ্রসূত নিজস্ব দৃষ্টভঙ্গি। তাঁর উপলদ্ধির বিষয় জীবন ও জগতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা আমাদের মননশীল চিন্তার ব্যাপ্তি ঘটায় বলে তিনি অভিমত পোষণ করেন। সাহিত্যের ভূবনে তাঁর পদচারণা লক্ষ্যনীয়। কবিতা লেখার প্রতি সুপ্ত বাসনা দীর্ঘ দিনের।তাই প্রথম জীবনেই তিনি কবিতা লেখায় মনোযোগী হন। তাঁর একটা কবিতার শিরোনাম “ভেজাল” এই কবিতা থেকে কয়েকটি লাইন ভেজাল শুধু একটি শব্দ হলে ভালো হতো অথচ ভেজাল আজ এক বিরাট মহীরুহ সেখানে জালিয়াতের সাথে ঠাই নিয়েছে জ্ঞানী-গুণি হাসি-খুশি সবাই ভেজালের শান্তি ছায়ায় আড্ডা জমিয়েছে চমৎকার কত রসিকতা কত বস্তা পঁচা চানাচুরের চর্বন তার সঙ্গে ছিড়ছিড়ে, কী যে হাসি; গড়িয়ে পড়ে। মেধা ও মননে ঋদ্ধ এই মানুষ নীতি ও নৈতিকতার আদর্শে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মানবতাবাদী দার্শনিক হিসেবে। অস্তিত্ববাদ ও মরমীবাদে তার গভীর মমত্ববোধে আমি মুগ্ধ হয়েছি বহুবার। তিনি জীবনকে গভীরভাবে উপলদ্ধি করেছেন তাঁর আদর্শিক চিন্তার প্রবনতা থেকে। বাঙালির দর্শন চিন্তা সম্পর্কে তাঁর গবেষনাধর্মী কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৭ সালে উত্তরা সাহিত্য মজলিস,রাজশাহী কর্তৃক পুরস্কার লাভ করেন। পারিবারিক জীবনঃ প্রফেসর ড. রশীদুল আলম একজন দায়িত্বশীল স্বামী এবং আদর্শ পিতা। তার রত্নগর্ভা স্ত্রী লুৎফন আরা বেগম এম.এ বি.এড( প্রয়াত) তিনি একটা কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি স্বামী,সংসার ও সন্তান নিয়ে তিনি একজন পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন। সন্তানঃ প্রফেসর ড. রশীদুল আলম পাঁচ কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। বড় মেয়ে প্রফেসর ড. রেজিনা আখতার আলম,অধ্যাপক,দর্শন, আনন্দ মোহন কলেজ,ময়মনসিংহ, দ্বিতীয় মেয়ে সাহানা আখতার আলম, সহকারী অ্যাপ ক,রসায়ন,তৃতীয় মেয়ে সেলিনা আখতার আলম,সহকারী অধ্যাপক,সমাজ বিজ্ঞান।চতুর্থ মেয়ে মেরিনা আখতার আলম, বিএসসি সম্মান এম এ সমাজ বিজ্ঞান। পঞ্চম মেয়ে শারমিন আখতার আলম কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যায়নরত সিডনিতে বসবাস। একমাত্র ছেলে লুৎফর রশীদ রাসেল,কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার,দুবাই প্রবাসী।
প্রফেসর ড. রশীদুল আলম একজন সফল অধ্যাপক,একজন বন্ধু বৎসল স্বামী,একজন গর্বিত পিতা এবং পৃথিবীর সকল ভালো মানুষের আদর্শ। মানুষ গড়ার শ্রেষ্ঠ কারিগর হিসেবে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে। এদিকে শিল্প সাহিত্যের উঠোনে তার ঋদ্ধ পদচারণায় সমৃদ্ধ হয়েছে গোটা দেশ।তাঁর দার্শনিক চেতনাবোধ লেখক সত্ত্বায় সাহিত্যর সহস্র শুভ্র পালক জুড়ে দিয়েছে। একজন প্রতিভাবান মানুষ যিনি সুদীর্ঘ সময় দর্শন শাস্ত্র, বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যে নিজের প্রজ্ঞালব্ধ জ্ঞানের বিকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি নিজেকে ছাত্র ভাবতেই বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করতেন। এখনো তিনি পড়েন ও লেখেন নিয়মিত তাঁর পড়ার টেবিলে বইয়ের ছড়াছড়ি। তাঁর লেখা পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের মনে সহজ,সরল ও প্রাঞ্জল ভাষাগুণে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। তিনি সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আন্তরাকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন এবং থাকবেন। আমার প্রিয় স্যার প্রফেসর ড.রশীদুল আলম বয়সের ভারে প্রায়শই অসুস্থ থাকেন। তাঁর সুযোগ্য সন্তানেরা তাকে চোখের আড়াল করে না কখনোই। নিয়মিত ডাক্তার,ওষুধ, সেবা দিয়ে যাচ্ছে। স্যারকে মানসিক ভাবে সুস্থ রাখার জন্য মাঝে মাঝে ভালোবাসার বন্ধু আড্ডায় (রাবি) সংযুক্ত করে তাঁর বড় মেয়ে প্রফেসর ড. রেজিনা আখতার আলম। ১৯৮০-৮১ সেশনের পুরনো ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বললে স্যার মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রিয় স্যার আপনার সর্বাঙ্গীন সুস্থতা কামনা করি আপনি দীর্ঘজীবী হোন।
লেখকঃ সালাম তাসির কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































