ব্রেকিং নিউজঃ
ছোটগল্প “অভিযান” (শেষ অংশ) : লেখকঃ শিপন আলম –
নিজস্ব প্রতিবেদক
- Update Time : ০৫:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মে ২০২১
- / ৮১ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
প্রথম অংশে সিয়ামদের দ্বারা নির্জন চরে তিনটি কিশোর ছেলেমেয়েকে অপহরণকারী কিশোরগ্যাংকে ধাওয়া দিয়ে তাদের থেকে দুজনকে মুক্ত করার রোমাঞ্চকর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এরপরের কাহিনীটি দ্বিতীয় অংশে বর্ণনা করা হলো।
- আমি তো বিকেলে তিনজনকে দেখেছি, আরেকটি ছেলে কোথায়?
জোরে শ্বাস নিতে নিতে সিয়াম জিজ্ঞেস করলো। উদ্ধারকৃত ছেলে আর মেয়েটি ভয় আর আতঙ্কে প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলো। তারা অনেক চেষ্টা করেও গোঙানি ছাড়া কোন কথা বলতে পারলো না। কিছুক্ষণ বাদে আরেকটি ছেলে কাঁপতে কাঁপতে দৌড়ে এসে বললো - আপনাদের শব্দে ওরা ভয় পেয়ে আমাকে ওরা জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। আমি জোড়াজুড়ি করাতে ওরা আমাকে চড়, থাপড়, লাথি মেরেছে কিন্তু আপনারা অতি দ্রুত চলে আসায় কিছুদূর নেওয়ার পরে আমাকে রেখেই দৌড়ে পালিয়েছে।
আবছা চাঁদের আলোয় খালের ওই পাড়ে পাবনা যাওয়ার পথটির দিকে তাকিয়ে সিয়াম দেখতে পেলো কিছু ছেলে শিকার হারানো শিকারীর ন্যায় ব্যর্থ মনোরথে তাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে আর অস্ফুট স্বরে কিছু বলার চেষ্টা করছে।
ছেলে দুটি আর মেয়েটিকে অনেক অভয় বাণী দিলো সবাই। সিয়াম বললো - ভয় নেই, আমরা তোমাদের উদ্ধার করতেই এসেছিলাম।
একজনের কাছে থাকা পানি আর ড্রিংকস এর বোতল দিলো তাদের। পানি পান করে তারা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো। এই ফাঁকে সিয়াম চারপাশটা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখে নিলো। জায়গাটা নিচু এবং ঢালু। কাছে না এলে দূর থেকে কিছুই বুঝার উপায় নেই। এটি বড় খালের পাড়ের অংশ। তবে কিছু দূরে পশ্চিম পাশে আরো একটি ছোট শুকনো খাল আছে। তার পাড়ে দূর থেকে উড়ে আসা জমাটবদ্ধ বালি চাঁদের আলোয় চিকচিক করছিলো। বড় খালটিও প্রায় শুকনো হতে চলেছে। ভিতরের গভীর অংশ বাদে পাড় ঘেঁষা দক্ষিণের অংশটির বেলে কাদা মাটিতে কৃষকেরা ধানের চারা রোপন করেছে। চারাগুলো কিছুদিন আগেই রোপন করা হয়েছে বলে মনে হলো। কৃষকদের পায়ের ছাপ এখনো দৃশ্যমান আর চারাগুলোও অনেক ছোট।
ছেলে-মেয়ে তিনটি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় সিয়াম তাদের জিজ্ঞেস করলো - তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করেছে নাকি?
- আমার মোবাইল কেড়ে নিয়েছে আর মোবাইল দিতে না চাওয়ায় একটি চড় মেরেছে।
সুঠাম শরীর আর লম্বা চুলের অধিকারী ছেলেটি জানালো। - আর আমার ঘটনা তো বললামই। আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। আপনারা দ্রুত এসে পড়ায় রক্ষা পেয়েছি। আমার ঠোঁটের বাম পাশে উপরের দিকে চড়ের আঘাতে কিছুটা কেটে গিয়েছে।
হালকা পাতলা গড়নের লম্বা ছেলেটি বললো।
সিয়াম মোবাইলের টর্চলাইটের আলোয় দেখতে পেলো সত্যিই সেখানে খানিকটা রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়ে গিয়েছে।
মেয়েটিকে কিছু জিজ্ঞেস করার পূর্বে সিয়াম সবার উদ্দেশ্যে বললো - আর দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই বাকি কথা যেতে যেতে শুনা যাবে।
আধো চাঁদের আধো আলোয় আর মোবাইলের টর্চলাইটে পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চরে উঁচু নিচু বালির স্তূপ মাড়িয়ে ঘাটের দিকে তারা রওনা দিলো। অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েগুলোকে ভয়ঙ্কর বিপদের হাত থেকে বাঁচানোর অপরিমেয় তৃপ্তির চিহ্ন এখন সিয়ামদের চোখে মুখে। ছেলে দুটোর যাইহোক মেয়েটির যে সর্বনাশ হয়ে যেতো তা প্রায় নিশ্চিতই ছিলো। সব কিছু কি আশ্চর্যজনকভাবে ঘটে গেলো। পুরো বিষয়টি সিয়ামের কাছে ইউরেকা ইউরেকা মনে হতে লাগলো। মেয়েটি সিয়ামের পাশেই হাঁটছিলো।
সিয়াম তাকে জিজ্ঞেস করলো - তোমার কোন ক্ষতি করে নি তো ছেলেগুলো।
না ক্ষতি করেনি, হয়তো করতো। - কিছু জিজ্ঞেস করেছে?
- হ্যাঁ, করেছে। বলেছে ছেলে দুইটার সাথে তোর কি সম্পর্ক? নদীতে কেন আসছিস ইত্যাদি।
- মাথার উপর থেকে কান আর ঘাড়ের উপর দিয়ে নেমে আসা সাদা আর লাল রঙের ওড়নার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসা ফরসা লাজুক আর ভীত গালটি সিয়ামের নিকট চাঁদের আলোতে বড়ই সৌন্দর্যমণ্ডিত মনে হচ্ছিলো। এতক্ষণ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সে কিছুই ঠিকমতো খেয়াল করতে পারে নি। এখন যেহেতু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে তাই আকাশ থেকে ঠিকরে পড়া চাঁদের আলোয় ছেলেমেয়ে তিনটির গায়ের পোশাক, পায়ের শব্দ সব কিছুই সে নিবিড়ভাবে খেয়াল করতে পারছে। সব কিছুই তার কাছে স্বপ্নের মত মনে হতে লাগলো। মনে হলো বিধাতা যেন তাদের দ্বারা অসম্ভব একটি কাজকে সম্ভব করেছেন। এরকম ভয়ানক পরিস্থিতিতে তার মধ্যে সাহস ও শক্তির সঞ্চার ঘটিয়েছেন। তাকে জগদ্বিখ্যাত সেনাপতিদের মতোই রাতের অন্ধকারে ঢাল তলোয়ার আর অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াই একটি সফল অভিযান পরিচালনার সীমাহীন তেজ, প্রজ্ঞা, মেধা দান করেছেন। নিজে একনিষ্ঠভাবে স্রষ্টার পুজারী না হলেও স্রষ্টার প্রতি তার বিশ্বাসের কমতি নেই। বিপদে আপদে তার নিকটই আশ্রয় গ্রহণ করে সে। এ বিশ্বাস থেকেই স্রষ্টার প্রতি শত সহস্রবার স্তুতি প্রকাশ করতে লাগলো সে।
এমন একটি রোমাঞ্চকর ঘটনা সিয়ামের জীবনে ঘটবে তা ছিল তার নিকট রীতিমতো অভাবনীয় ব্যাপার। অথচ তাই এখন ধ্রুবতারার ন্যায় সত্য হয়ে ধরা দিলো। তার মনে হলো এই তো কিছু সময় আগে বসন্তের মৃদু প্রবাহিত বাতাস খেতে খেতে, আকাশে হালকা সাদা মেঘের অপরূপ সৌন্দর্যে চোখ বুলাতে বুলাতে, ঘাটে বাঁধা ডিঙি নৌকায় চেপে, স্বচ্ছ নির্মল পানিতে হাত-পা ভিজাতে ভিজাতে পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চরে ঘুরতে এসেছিল সে এবং নাজির ভাই। চরে এসে সন্ধ্যা দ্রুত ঘনিয়ে আসায় এই সুন্দর বিকেলের কিছু মুহুর্ত মোবাইলের ক্যামেরায় ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। সন্ধ্যার ঠিক আগ মূহুর্তে পশ্চিমাকাশ যখন লালচে বর্ণ ধারণ করছিলো, চরের বুকে খাবার খুঁজতে থাকা পাখিরা যখন ডানা মেলে কিচিরমিচির কিচিরমিচির করতে করতে নীড়ে ফিরে যাচ্ছিলো, বেড়াতে আসা সব বয়সী মানুষেরা যখন চরে ভেড়ানো নৌকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো ঠিক তখনই সিয়াম হঠাৎ লক্ষ্য করলো সবাই ফিরে চললেও ৭-৮ জন উঠতি বয়সী ছেলে একটি কিশোরী মেয়েকে নিয়ে জোরে শব্দ করতে করতে চরের ভেতরের দিকে যাচ্ছে। বিপরীতমুখী এ দৃশ্য তাদের দুজনকে বেশ অবাক করলো। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে লাঠি ছিলো এবং তাদের কথাবার্তা ও আচরণ ছিলো আক্রমণাত্মক। কিছুক্ষণ দূর থেকে পর্যবেক্ষণের পরে সিয়ামের নিকট মনে হলো তারা দুভাগে বিভক্ত। মেয়েটি এবং পাশে থাকা দুটি ছেলের ওপর চড়াও হয়েছে বাকি ছেলেগুলো। তাদের হাতেই ছিলো লাঠি।
কিশোর ছেলেমেয়েগুলোর এমন আচরণ দেখে সিয়ামের শঙ্কা হলো হয়তো খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই দুজনে একটু কাছে গিয়ে দূর থেকে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে তাদের মধ্যে। আকস্মিক এ জিজ্ঞাসায় তারা একটু অবাক হলো। তাদের মধ্যে ফর্সা চেহারার প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার নেতা গোছের এক কিশোর বললো-- ভাই, কোন সমস্যা নেই। এমনিই কথা বলতেছি।
- মনে তো হচ্ছে তোমাদের মধ্যে কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে।
- ভাই, বললাম তো কিছু হয় নাই।
- যাইহোক, চরের মধ্যে ঝামেলা করো না।
সিয়াম আশা করেছিলো, যে তিন জনের উপর বাকিরা চড়াও হয়েছে তারা এ ব্যাপারে তাদের কিছু বলবে। কিন্তু তাদের দিক থেকে কেউ কোন কথা না বলায় তারা ভেবে নিলো এই কিশোরেরা সবাই একসাথেই এসেছে। তাই তারাও আর কোন উচ্চবাক্য না করে দুজনই নৌকায় উঠার জন্য পা বাড়ায়। কিশোরেরাও ধীরে ধীরে চরের ভেতরে চলে যায়।
এ পর্যন্ত ভাবা মাত্রই তারা হাঁটতে হাঁটতে যখন চরের মাঝামাঝি চলে এসেছে ঠিক তখনই সহসা ঘাটের দিক থেকে কয়েকজন লোক হাতে কাস্তে দা, লাঠি নিয়ে জোরে চিৎকার করতে করতে তাদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে তেড়ে এলো। রাতের নির্জনতায় তা ছিলো খুবই ভয়ঙ্কর ব্যাপার। তবে সিয়ামরা ছিল ভয়ডরহীন। তাদের মধ্যে খুব একটা প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেলো না। কারণ তারা অনুমান করতে পেরেছিল যেহেতু লোকগুলো তাদের ঘাটের দিক থেকে আসছে তাই তারা তাদেরই লোক হবে। তাছাড়া তারা যাত্রার শুরুতেই তীরমুখী নৌকার যাত্রীদের বলেছিলো তারা যেন ঘাটে গিয়ে সবাইকে তাদের কথা বলে এবং তাদের নিতে নৌকা পাঠায়। কিন্তু আগন্তুক লোকসকল সিয়ামদের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলো না। তাই রাত্রির নির্জনতাকে ভেদ করে ক্ষিপ্রগতিতে তেড়ে আসলেও সিয়ামদের দিক থেকে কোন প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় আর তাদের দিকেই আসতে থাকায় তারাও অনেকটা আশ্বস্ত হলো তাদের টার্গেট সিয়ামরা নয়, অন্য কেউ। আগন্তুকদের মধ্যে বড় দা হাতে লুঙ্গি পরা কালো লোকটা পুরো চেহারায় ভয়ানক রাগ চেপে ধরে চিৎকার করে বলতে লাগলো - এতো বড় সায়োস শালাদের, আজ দশ বচর দরে নৌকা চালাই, কোনদিন কোনো দুর্গটনা গটলো না। আর আজ পদ্মাপাড় শালারা আমারে ছাওয়ালপল দরে নিয়ে যায়। এতোবড় সায়োস শালাদের।
- টেনশনের কোন কারণ নাই বড় ভাই। এখন আর কোন সমস্যা নাই। আমরা ছেলেমেয়েগুলো উদ্ধার করেছি। ওরা পালিয়ে গেছে।
সিয়াম মাঝিকে আশ্বস্ত করলো। কিন্তু মাঝি সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ না করে হিংস্র পশুর ন্যায় রাগে গদগদ করতে করতে দা উঁচিয়ে সামনের দিকে তেড়ে গেলো। কিছু সময় আপন মনে বকাঝকা করে আবার সিয়ামদের নিকট ফিরে এলো। - বলেন বাই, আজ দশ বচর মাজিগিরি করি কোন সমস্যা অয় নাই। আর আজ ঐ চ্যাংড়া পোলাপান আমার সর্বনাশ করে ছাড়লো। যদি এই খবর সবাই জানে তালি কি মেয়ে ছাওয়ালপল চরে গুরতে আসবিনি আর। তারা না আসলি আমার ইনকাম কমে যাবি না?
- আপনার সমস্যা বুঝতে পারছি। যেহেতু আমরা ছেলেমেয়েগুলো উদ্ধার করেছি। আশা করি কোন সমস্যা হবে না। চলেন যাই এবার।
নাজির ভাই অনেক সময় পরে মুখ খুললেন। তার আশ্বাসে মাঝি ও তার লোকজন শান্ত হলো। সবাই নৌকার দিকে এগোতে লাগলো। - ইতোমধ্যে বাতাসের গতি বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝিঁঝিঁ পোকাদের দল পরম নিশ্চিন্তে ঝিঁ ঝিঁ ডাকে পুরো চর মাতিয়ে রেখেছে। চাঁদের আলো মলিনভাব ঝেড়ে অনেকটাই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। হালকা ঠান্ডাও শুরু হয়েছে। নির্জন চরে এতোক্ষণ উত্তেজনায় কিছু বুঝতে না পারলেও ক্রমে তা প্রশমন হয়ে যেতেই সিয়ামের নিকট অন্যরকম মনে হতে লাগলো।
পাশে থাকা উদ্ধারকৃত ছেলেমেয়েদের নিকট জানতে চাইলো - আচ্ছা, তোমাদের যখন ওরা ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো আমি আর নাজির ভাই গিয়ে জানতে চেয়েছিলাম তোমাদের মধ্যে কোন ঝামেলা হয়েছে কিনা। তোমরা তখন কোন কথা বলো নাই কেন?
- আসলে ভাই, ওরা আমাদেরকে এমনভাবে থ্রেট করেছিলো যে, আমরা ভয়ে কিছু বলি নাই।
হালকা পাতলা লম্বা গড়নের ছেলেটি জবাব দিলো। - কি থ্রেট করেছিলো তোমাদের?
- আপনাদের আসা দেখেই ওরা আমাদের বলেছিলো যদি কিছু বলিস তাহলে খবর আছে। তাই ভয়ে কিছু বলিনি।
সিয়াম ভাবলো তিনটি কিশোর বয়সী ছেলেমেয়ে। তাদের দ্বারা পরিস্থিতি অনুমান করা কঠিন। ভবিষ্যৎ অনুমান করা তো আরও কঠিন। তাই কিঞ্চিৎ ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে তাদের দ্বারা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক।
কথা বলতে বলতে তারা এতোক্ষণে চরে ভিড়ানো নৌকার নিকট চলে আসলো। একে একে সবাই নৌকায় উঠে বসে পড়লো। আধাঘন্টার মধ্যে নৌকা চাঁদের আলোয় পথ চলতে চলতে ঘাটে এসে ভিড়ে গেলো। নৌকা থেকে নেমে উঁচু পথ পাড়ি দিয়ে পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধের উপর এসে পৌছাতেই সিয়াম লক্ষ্য করলো দুজন পুলিশ সদস্য তাদের অপেক্ষাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কাছে গিয়ে হ্যান্ডশেক করে সিয়াম তাদের জানালো সেই-ই ওসি সাহেবকে ফোর্স পাঠানোর জন্য কল দিয়েছিলো। কিন্তু চরটি পাবনা জেলার কার্যাধীন হওয়ায় ফোর্স সেখানে অভিযানে যেতে পারবে না বলে তিনি জানান। ঘাট পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম। - উদ্ধারকৃত ছেলেমেয়ে তিনটিকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে সিয়াম ও নাজির ভাই সাথে থাকা ছাত্রদের ধন্যবাদ জানিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলো। সিয়ামের একবার মনে হলো থানায় গিয়ে ওসি সাহেবের সাথে দেখা করে ছেলেমেয়ে তিনটির ব্যাপারে চূড়ান্ত খোঁজ খবর নিয়ে আসি। প্রয়োজনে ওদের বাবা মা-কে কল দিক, সাংবাদিক ডেকে পুরো ঘটনা ব্রিফ করুক। পরক্ষণে মনে হলো এতো উদার ও দায়িত্ববান হয়ে লাভ কি! বাকি কাজ পুলিশই করুক না।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে পত্রিকাটি হাতে নিয়ে পৃষ্ঠা উল্টাতেই বড় বড় অক্ষরে একটি শিরোনাম চোখে পড়লো তার- পদ্মার চরে রাতভর পুলিশি অভিযানে অপহৃত তিন তরুণ তরুণী উদ্ধার। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি টেনে অস্ফুটস্বরে সিয়াম অকস্মাৎ বলে উঠলো- হুম, রাতভর অভিযান! (সমাপ্ত)।
লেখকঃ শিপন আলম
প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়
রাজবাড়ীতে বিএনপি’র খৈয়ম গ্রুপের সাথে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া: ভাংচুর,গুলি, আটক
২৮০
পাংশায় স্কুল শিক্ষককে গুলি করে হত্যায় অংশ নেয়া ৩ আসামি গ্রেপ্তার, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা উদ্ধার
৩৩৮
ঈদ উপলক্ষে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের দলীয় নেতাদের মাঝে ২৬ লাখ টাকা বিতরণ করলেন এমপি কাজী কেরামত আলী
৪২৩
প্রথম আলো’র সাংবাদিকের মুক্তি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন
৫০০
বালিয়াকান্দিতে মাধব বাহিনীর চাঁদাবাজির ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা
৫৩২
বরাট দেওয়ান মোহাম্মদ ইসহাক হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও নূরানী কিন্ডারগার্টেন বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
৬৩৬
চাঁদার দাবীতে গোয়ালন্দে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে মারধর, ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল গ্রেপ্তার
৭৬৯
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্ষেত্রে দুর্ণীতি বন্ধ করা হলে উচ্চ মূল্য কিনতে হতো না – রাজবাড়ীতে রাশেদ খান মেনন
৮৭৭
মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রির দায়ে সোনাপুর বাজারের দু’ব্যবসায়ীর জরিমানা
১০৫১
শ্রীপুর স: প্রা: বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মেলার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ
১১৯৩
Lévolution numérique rapide inclut désormais le jeton rouge et ses perspectives davenir prometteuses
১৩৮১



































































































