চাঁদায় চলে দু’শত ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-আরিচা-কাজীরহাট নৌপথ –
- Update Time : ০৯:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৮
- / ৮৪ Time View
গণেশ পাল, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াসহ বিভিন্ন নৌপথে অবাধে চলছে যাত্রীবাহী দুই শতাধিক অবৈধ ট্রলার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়াঘাট, অন্তারমোড়, পাটুরিয়া, আরিচা, ঝিটকা, পাবনার নগরবাড়ী, কাজীরহাট নৌপথে ছোট-বড় দুই শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলার চলে। এর মধ্যে ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার যাত্রী ট্রলারে নদী পার হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডাবি¬উটিসি) দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ব্যস্ততম নৌপথ। প্রতিদিন সেখানে লঞ্চ, ফেরি, মালবাহী কার্গো জাহাজসহ বড় বড় বিভিন্ন নৌযান সার্বক্ষণিক চলাচল করে। এরই মাঝে যাত্রী নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় না এনে দিন-রাত চলাচল করছে স্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ ট্রলার। এতে চলাচলকারী কোনো ফেরি, লঞ্চসহ কার্গো জাহাজের সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগলে যাত্রীবোঝাই ট্রলার উল্টে যেতে পারে। পাশাপাশি আবহাওয়া পরিস্থিতিসহ সব নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করায় মারাত্মক ঝুঁকির পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার সকালে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার আলোকদিয়াচর এলাকায় যমুনা নদীতে মালবাহী এক কার্গোর সঙ্গে এক ট্রলারের ধাক্কা লাগে। সঙ্গে সঙ্গে ট্রলারটি উল্টে নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা অধিকাংশ যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেলেও শিশুসহ তিন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এরা হলেন পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ গ্রামের মুকুল মিয়ার মেয়ে মেঘলা আক্তার (৮), একই উপজেলার রামনগর গ্রামের খোকন শেখের ছেলে মাসুম শেখ (২৫) এবং পাবনার আতাইকুলা উপজেলার কদমতলা গ্রামের মোহাম্মদ নূর বক্স (৪৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুসহ নিখোঁজ তিনজনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
এদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী এক ট্রলারের চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোনো আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে নদীতে ট্রলার চালানো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে অনেক মাঝি যাত্রী নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে তারা রাতের অন্ধকারে টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে সম্পূর্ণ চোখের ধারণায় ট্রলার চালায়। তবে গত মঙ্গলবারের পর থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ট্রলার মালিক মো. লতিফ মাঝি জানান, অধিকাংশ ট্রলারের মালিক মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার পাটুরিয়া ও আরিচা এলাকার। প্রতিটি বড় ট্রলারে ৮০ থেকে ১০০ এবং ছোট ট্রলারে ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী বহন করা হয়। তবে যাত্রী পারাপারে ট্রলারগুলোর কোনো রেজিস্ট্রেশন লাগে না। তিনি বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে প্রতি যাত্রীর ট্রলার ভাড়া মাত্র ১৫ টাকা, যা লঞ্চ ও ফেরির চেয়ে ১০ টাকা কম। পাশাপাশি নৌপথ পাড়ি দিতে সময় অনেকটা কম লাগায় যাত্রীদের অনেকেই ট্রলারে পারাপার হয়।’
এদিকে ঘাটসংশি¬ষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটের একদল প্রভাবশালী লোক রয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের (বিআইডাবি¬উটিএ) আরিচা অফিসের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ উভয় ঘাটের নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে যোগসাজশ করেছে। এরা দীর্ঘদিন ধরে নৌপথে অবৈধ ট্রলারে যাত্রী পারাপার করে। এ জন্য মালিকদের কাছ থেকে তারা প্রতিদিন ট্রলারপ্রতি (চলাচলকারী) ১০০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে থাকে। চাঁদার টাকা থেকে তারা বিআইডাবি¬উটিএর আরিচা অফিস ও উভয় ঘাটের নৌ পুলিশ ফাঁড়ির লোকজনকে ভাগ দেয়। এ কারণে কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে।
অভিযোগ অস্বীকার করে দৌলতদিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান মোল¬া বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে অবৈধ ট্রলার চলাচলের বিষয়টি নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ নৌ পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় গত ঈদের আগে থেকে অবৈধ ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিআইডাবি¬উটিএ আরিচা নদীবন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌপথে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে যাত্রী পারাপার সম্পূর্ণ আইন নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিআইডাবি¬উটিএর পক্ষ থেকে নৌ পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।’ অবৈধ ট্রলার চলাচলে বিআইডাবি¬উটিএর লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































