ঘটনাস্থল ঃ দৌলতদিয়া পতিতাপল্লী, দেড় বছরে ২০ যৌনকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার –
- Update Time : ০৯:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
- / ৪৪ Time View
গণেশ পাল, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর সাধারণ যৌনকর্মীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে অভিমান, বাড়িওয়ালীদের অত্যাচার, মোটা অঙ্কের টাকার ঋণের বোঝা, বিভিন্ন মাদকে নেশাগ্রস্থসহ নানা কারণে তাদের অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। গত শুক্রবার রাতে ওই পল্লীতে সাথী আক্তার নামে এক যৌনকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে শহিদ বাড়িওয়ালার একজন ভাড়াটিয়া যৌনকর্মী ছিলেন। এ নিয়ে গত দেড় বছরের বিভিন্ন সময়ে ওই পল্লীর ২০ নারী যৌনকর্মী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে প্রায় দুই হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক শিশু-কিশোরী রয়েছে। সেখানে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে অভিমান, বাড়িওয়ালীদের অত্যাচার, মোটা অঙ্কের টাকার ঋণের বোঝা, বিভিন্ন মাদকদ্রব্যে নেশাগ্রস্থতাসহ নানা কারণে তাদের অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এদিকে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর যৌনকর্মী সাথী আক্তার (২৪)। কয়েক মাস যাবত সেখানে তিনি শহিদ বাড়িওয়ালার বাড়িতে ভাড়াটিয়া ছিলেন। ঘটনার দিন গত শুক্রবার সন্ধায় যৌনকর্মী সাথী আক্তার তার বসত ঘরের ভিতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে রাখেন। পরে রাত ১০টার দিকে সাথী তাঁর বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝোলেন। এসময় বিষয়টি জেনে পল্লীর পাহারাদাররা স্থানীয় থানাপুলিশে খবর পাঠান। খবর পেয়ে ওই রাতেই গোয়ালন্দ ঘাট থানাপুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে যৌনকর্মী সাথী আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন গতকাল শনিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, যৌনকর্মী সাথী আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে। এদিকে স্থানীয় অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত দেড় বছরের বিভিন্ন সময়ে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে মোট ২০ জন নারী যৌনকর্মী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। তাঁরা হলেন সাথী আক্তার, লতা আক্তার, সুমী আক্তার, লিপি বেগম, শারমীন আক্তার, লাবনী আক্তার, বৃষ্টি আক্তার, হালিমা বেগম, শিমলা বেগম, কাজলী আক্তার, প্রিয়া আক্তার, জয়গন বেগম, মিতু আক্তার, লিপি আক্তার, রাশিদা বেগম, সেতু আক্তার, নিলু বেগম, শরিফা বেগম, মনোয়ারা বেগম ও রহিমা আক্তার। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি পারভিন সুলতানা বলেন, ‘গত দেড় বছরের বিভিন্ন সময়ে এই পল্লীর ২০ জন নারী যৌনকর্মী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে।’ তবে প্রশাসনিক ভাবে পল্লীর বিভিন্ন অনিয়ম দূর করার পাশাপাশি নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে অবহেলিত যৌনকর্মীদের রক্ষা করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু নাসার উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































