গোয়ালন্দে আনছার ক্লাবে ছাগলের ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে গরুর হাট –
- Update Time : ০৯:২৮:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০২২
- / ৭১ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে ১৯৭১ সালের রনাঙ্গণে প্রান দেওয়া বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফকীর মহিউদ্দিন আনছার ক্লাবের সামনেই বসছে ছাগলের হাট আর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে তৈরি করা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে বসছে গরুর হাট। নানা অব্যবস্থাপনার কারণে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সাথেই চলছে মাদকের অবাধ ব্যবহার। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, বারংবার পত্র দিয়েও সরানো যাচ্ছে না হাট দুটি আর পৌর মেয়র বলছেন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানাগেছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রনাঙ্গণে প্রান দেন তৎকালীন আনছার কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফকীর মহিউদ্দিন তার স্মৃতি ধরে রাখতে গোয়ালন্দ বাজারের প্রানকেন্দ্রে গড়ে তোলা হয় আনছার ক্লাব সাথেই উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যেখানে জাতীয় দিবসগুলো ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আনছার ক্লাব ও শহীদ মিনারকে ঘিরে এখন সেখানে বসছে ছাগলের হাট। এ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের যেন শেষ নেই।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সর্¤§ানে কোটি কোটি ব্যয়ে তৈরি করা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে বসছে গরুর হাট। সপ্তাহে দুই দিন হাট বসায় গরুর ময়লা আর্বজনায় কমপ্লেক্সে যেন যাওয়ার উপায় নেই। এমনকি তদারকির অভাবে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সাথেই বসছে মাদকের আসর যার প্রমানও মিলেছে ক্যামেরায়। গরুর হাটটি অপসারণের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
গোয়ালন্দ উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ মোল্লা বলেন, মহান মুক্তিযোদ্ধাদের বলা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, যদি শ্রেষ্ঠই হয় তবে তারা থাকবে আগে। আমরা কেন জানি পিছিয়ে পরেছি, আমাদের কমপ্লেক্সটি গরুর হাটের পিছনে। আবার দোকানগুলো বরাদ্দ না হওয়ায় তার পিছনে বিকেল থেকেই মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের আড্ডা বসছে। এর থেকে রেহাই পেতে ও গরুর হাটটি স্থানান্তর করতে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল হক খান মামুন জানান, বিষয়টির সাথে রেলওয়ে বিভাগ ও পৌরসভার সংষিøষ্টতা রয়েছে। হাট দুটি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য বার বার জেলা প্রশাসনসহ সকল কর্মকর্তাকে পত্র পাঠানো হয়েছে, এখনও তেমন কোন সাড়া মেলেনি। আমরা চেষ্টা করছি হাট দুটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার।
গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র মোঃ নজরুল ইসলাম মন্ডল জানান, ২ কোটি ৩৭ লক্ষ ৬২ হাজার ৫৬১ টাকা ব্যয়ে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে গোয়ালন্দ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন তৈরি করা হয়। তিন বছর আগে যেখানে বরাদ্দ দেওয়ার মতো ১০ টি দোকান থাকলেও অব্যাবস্থাপনা ও গরুর হাটের কারণে একটি দোকানও বরাদ্দ হয়নি। এমনকি ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে পুরো ভবন। বিষয়টি জানার পর দুটি হাটই পরিদর্শন করা হয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে দ্রুত হাট দুটিকে অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































