গোয়ালন্দে অভিনব প্রতিবাদে রক্ষা পেল অর্ধশত বছরের প্রাচীন পাকুড় গাছ –
- Update Time : ০৮:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৯
- / ৭৩ Time View

শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
মাত্র ২৫ মিটার রাস্তা নির্মানের জন্য কাটা হচ্ছিল প্রায় অর্ধ শত বছরের প্রাচীন একটি পাকুড় গাছ। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়ান স্থানীয় প্রকৃতি প্রেমী কিছু যুবক ও সাধারণ জনতা।
তারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দিলে সেখানে ছুটে যান প্রশাসনিক কর্মকর্তরা। পরে সিদ্ধান্ত হয় গাছটিকে রক্ষা করেই রাস্তা নির্মানের কাজ করা হবে। রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্ত্বরে সোমবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উজানচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জন্য ভবন নির্মান কাজের সাথে ভবনে যাতায়াতের জন্য ২৫ মিটার দূরত্বের একটি রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা। কিন্তু রাস্তাটি সোজা ভাবে করতে গেলে মাঝ খানে পড়ে প্রাচীন ওই পাকুড় গাছটি। ভুমি অফিসে কাজের জন্য আসা দূর-দুরান্ত থেকে আগতদের ছাঁয়াদান সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সু-শীতল স্থান এই পাকুড় গাছের তলা।
এ দিকে গাছটি কেটে ফেলার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একজ জাগরণের কর্মীরা ছাড়াও সেখানে সমবেত হন স্থানীয় অনেকেই। তারা শ্রমিকদের গাছ কাটায় বাঁধা প্রদান করেন। ততক্ষণে অবশ্য গাছটির নিচ থেকে বেশ কয়েকটি মোটা শিকড় ও বড় ডাল কেটে ফেলা হয়। ততক্ষণাৎ বিক্ষুদ্ধরা বৃক্ষকে ঘিরে মানববন্ধন রচনা করেন। সেই সাথে গাছের কাটা অংশে প্রতীকি রক্ত মেখে ও ব্যান্ডেজ মুড়ে দেন। সেই সাথে ছোট ছোট সাইন বোর্ডে লেখেন “আমারও কিন্তু প্রাণ আছে, এই হত্যার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করুন, আমাকে বাঁচান”।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সেখানে ছুটে যান। তিনি সেখানে আন্দোলনরত বৃক্ষ প্রেমীদের দাবী মেনে নিয়ে পাকুড় গাছটি রক্ষার ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গাছটির সাথে এলাকার মানুষের বহু আবেগ ও অনুভূতি জড়িত। যে কারণে গাছটি রক্ষা করেই রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এর জন্য বাড়তি কিছু অর্থ ব্যয় হবে। এটা আমি নিজে ও বৃক্ষ প্রেমীরা মিলে বহন করবো।
এ প্রসঙ্গে একজ জাগরণের আহবায়ক সুজন সরোয়ার বলেন, বৃক্ষকে কেটে ফেলে উন্নয়ন কাজ করা কোন ভালো কাজ হতে পারে না। স্বয়ং সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষ রোপনের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়ে আসছেন। অথচ স্থানীয় প্রশাসন বা এলজিইডি বিভাগ কীভাবে প্রচীন এই পাকুড় গাছটি কেটে ফেলে সামান্য একটু রাস্তা করতে যাচ্ছিল তা আমাদের বোধে আসে না। আমরা ভারপ্রাপ্ত ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি আমাদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গাছটি রক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়


































































































