কালুখালীর জান্নাত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪, এসপি’র ব্রিফিং
- Update Time : ০৮:২২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
- / ৭৮২ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীতে ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদ পেতে দেখা করার কথা বলে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় জান্নাতুল নেছার (১৯) নামে স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারীকে।
রোববার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ।
এ ঘটনা এখন পর্যন্ত পুলিশ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৭ জুলাই দুপুরে কালুখালীর পাতুরিয়া গ্রামের ফজলু মন্ডলের পাটক্ষেত থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহের মাথার খুলি, চুল ও হাড়সহ দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশে পড়ে থাকা ভ্যানেটি ব্যাগ, পায়ের স্যান্ডেল, পরিহিত জামা ও ওড়না দেখে পাতুরিয়া গ্রামের আবুল কাশেম ব্যাপারীর ছোট মেয়ে জান্নাতুল নেছা (১৯) বলে সনাক্ত করে তার পরিবারের সদস্যরা। এদিকে জান্নাতুল নেছা গত ৫ জুলাই দিবাগত রাতে নিখোঁজ হয়। লাশ সনাক্ত হওয়ায় এ ব্যাপারে কালুখালী থানায় গত ১৮ জুলাই একটি মামলা দায়ের হয়। তার প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে প্রযুক্তির ব্যবহার করে গত ৮ আগস্ট কালুখালীর সাওরাইল ইউনিয়নের বিকয়া গ্রামের পান্নু মন্ডলের ছেলে মোঃ মাহফুজ মন্ডল (২১) কে গ্রেফতার করে। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। সে প্রেক্ষিতে শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকয়া গ্রামের দুলাল খানের ছেলে রবিউল খান (২১), রমজান মন্ডলের ছেলে হাকিম মন্ডল (২০), আশুরহাট গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে হাসিব খান (২০) কে গ্রেফতার করা হয়। তারা সকলেই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, জান্নাতুল নেছা আবুল কাশেম ব্যাপারীর ৭জন মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তার ৪ বছর আগে বালিয়াকান্দির নারায়নপুর গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে কুদ্দুস বেপারীর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ বছর পর তাদের বিচ্ছেদ হলে সে তার সন্তানসহ তার বাবার বাড়ীতে বসবাস করতে থাকে । গত ৩ জুলাই মাহফুজ মন্ডলের সাথে জান্নাতুল নেছার ফেসবুকে পরিচয় হয় এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভনে তারা বাড়ির পাশের একটি নির্জনস্থানে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। গত ৫ জুলাই মধ্য রাতে দেখা করতে গেলে মাহফুজকে দেখে জান্নাতুলের পছন্দ হয় না। কারণ সে ছিল প্রতিবন্দী। তখন রবিউল জানায় যে, ম্যাসেঞ্জারে সে নিজে কথা বলেছে। বাকী সকলে তার বন্ধু এবং তাদের বিয়েতে সহায়তা করবে। এক পর্যায়ে তারা জান্নাতুলকে পাশের একটি পাটক্ষেতের মধ্য নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী দলবেধে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তখন সে বাধা দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কথা বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে জান্নাতুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এটি একটি কুফল। সকলকে ফেসবুক ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাহউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম, সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা, কালুখালী থানার ওসি প্রাণবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস সহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেক্টনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়


































































































