কাজে আসছে না দৌলতদিয়া ঘাটে দু’কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিআইডব্লিউটিএ’র ২টি পন্টুন –
- Update Time : ০৯:৩২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
- / ৭৬ Time View
আজু শিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে প্রায় ২ কোটিরও বেশী টাকা খরচ করে স্থাপন করা বিআইডব্লিউটিএ’র দুটি পন্টুন কার্যত অলস পড়ে আছে। অপর চারটি পন্টুনে রীতিমত ফেরির জট লেগে থাকলেও ওই দু’টি পন্টুনে ফেরি ভেড়ে না বললেই চলে। যে কারণে পন্টুনের দায়িত্বরত কর্মীদেরও তেমন একটা পন্টুনে দেখা যায় না।
ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, দৌলতদিয়ার ৬টি ফেরি ঘাটের মধ্যে চারটি বিআইডব্লিউটিসি’র এবং দুইটি বিআইডব্লিউটিএ’র। বিআইডব্লিউটিসি’র ঘাট গুলি বেশীর ভাগ সময় অত্যন্ত ব্যাস্ত থাকে। অনেক সময় দেখা যায় পাটুরিয়া থেকে যানবাহন বোঝাই করে আসা একটি ফেরি যখন আনলোড হচ্ছে, তখন আরেকটি ফেরি তার পেছনে চ্যানেলের মধ্যে অপেক্ষা করছে। অথচ বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট দু’টি অলস পড়ে আছে।
ফেরি না ভেড়ার ব্যাপারে পন্টুনের সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই পন্টুন দুটি বিআইডব্লিউটিএ’র বলে তাদের পন্টুনে ফেরি দেয়া হয় না। এখানকার ফেরি নিয়ন্ত্রণ করে বিআইডব্লিউটিসি কর্র্তৃপক্ষ। তারা তাদের নির্ধারিত অপর ৪টি পন্টুন দিয়েই মূলত ফেরি সার্ভিস চালাচ্ছে। তবে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পন্টুন দুটি সাইজে একেবারে ছোট এবং তাদের অবস্থানগত কারণে সেখানে ফেরি যায় না। তাছাড়া পন্টুনের কর্মীরাও ঠিকমতো পন্টুনে থাকেন না। নিজেরা অন্য কাজে ব্যাস্ত থেকে পন্টুনে বাইরের লোককে বদলী হিসেবে রেখে যান।
জানা যায়, প্রায় ৮ মাস আগে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের আবেদনের প্রেক্ষিতে যানবাহন পারাপারে গতিশীলতা আনতে নৌ মন্ত্রণালয় দৌলতদিয়া ঘাটে ছোট ফেরি ভেড়ার উপযোগী দুটি পন্টুন স্থাপনের অনুমোদন দেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্র্তৃপক্ষকে।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার আলাপকালে দৌলতদিয়ায় স্থাপিত বিআইডব্লিউটিএ’র ২নং পন্টুনের লস্কর সহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ২ মাস হতে চললো এ পন্টুনে কোন ফেরি লাগেনি। এ সময় পন্টুনের অন্য কোন স্টাফকে দেখা যায়নি। তিনি জানান, পন্টুনে ফেরি ভেড়ে না বলে সেখানে অলস বসে না থেকে আমরা মিলতাল করে পন্টুনে অবস্থান করি।
৪নং পন্টুনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার দায়িত্বরত সারেং ও লস্কর কেউ নেই। তাদের বদলী হিসেবে সেখানে আছেন স্থানীয় যুবক দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, এ পন্টুনে দুয়েকদিন পর পর ১-২টি ছোট ফেরি ভেড়ে। যে কারণে দায়িত্বপ্রাপ্তরা না থেকে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ওই পন্টুনের সারেং মিঠু মন্ডল দৌলতদিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিএ’র টোল বক্সে টোল আদায়কারীদের সাথে অতিরিক্ত কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।
পন্টুনের কর্মীদের তদারকিতে থাকা সারেং ইব্রাহিম হোসেন দাবী করেন, তাদের লোকজন ঠিকমতোই পন্টুনে থাকেন। তবে যেহেতু ফেরি ভেড়ে না তাই মাঝে মধ্যে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে একটু এদিক ওদিক গিয়ে থাকতে পারে। ফেরি ভেড়ার ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিআইডব্লিউটিসি’র ঘাটগুলোতে ফেরি জট লেগে থাকলেও এ ঘাট দুটিতে কোন ফেরি ভেড়ে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মী জানায়, পন্টুনে ফেরি ভিড়লে ফেরি থেকে আনলোড হওয়া যানবাহন থেকে বকশিস আদায় করা হয়। এই বকশিসের টাকা বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মচারীদের পাওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের পন্টুনে সাধারনত ফেরি দেয়া হয় না।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দেখা যায়, মহাসড়কের অন্তত আড়াই কিলোমিটার জুড়ে নদী পারের অপেক্ষায় পন্যবাহি ট্রাকের দীর্ঘ সারি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীবাহি যানবাহনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় পন্যবাহি ট্রাকগুলো সিরিয়ালে আটকা পড়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. শাহ আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের নিয়ন্ত্রিত পন্টুন দু’টি সার্বক্ষনিক ফেরি ভেড়ার মত প্রস্তুত থাকে। ফেরির জন্য ঘাট নির্ধারন করে বিআইডব্লিউটিসি। এ দু’টি ঘাটে কেন ফেরি লাগানো হয় না এটা আমার জানা নেই। অপর ঘাট গুলোতে ফেরির জট লেগে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক সেখানে সব সময় থাকে। কিন্তু দিনের পর দিন ফেরি না লাগায় কর্তব্যরতরা কিছুটা হতাশ হয়ে হয়ত বাইরে ঘোরাঘুরি করে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, পাটুরিয়া ঘাট থেকে আসা ফেরিগুলো সাধারণত কাছাকাছি ৬, ৫ ও ৩নং ঘাটে ভেড়ে এবং ওখান থেকেই পুণরায় লোড নিয়ে ফিরে যায়। বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট দুটি অনেকটা দুরে অবস্থিত এবং সেখানে লোকজন ঠিকমতো থাকে না বলে বিশেষ প্রয়োজন হলেও ঘাট দুটিতে ঠিকমতো ফেরি ভেড়ে না। বৈষম্যের অভিযোগ সঠিক নয়।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































