ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে রাজবাড়ী খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা –
- Update Time : ০৯:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২
- / ৪৫ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
সরকারের খাদ্য বান্ধব (১০ টাকা কেজির চাল) কর্মসূচীতে ওজনে কম দেয়ার কারসাজি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগে গত বুধবার রাজবাড়ীর ১ নং আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত ফরিদপুরের পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে। মামলায় ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলো, রাজবাড়ী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফায়েত হোসেন, নিরাপত্তা প্রহরী আলমগীর হোসেন এবং লেবার সরদার মোঃ শামসু রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার মনোয়ার হোসেন মনো বলেন, তিনি ২০১৬ সাল থেকে রাজবাড়ী বাজারে থাকা তার দোকান থেকে ৫শত জন কার্ডধারী দরিদ্র ব্যক্তিতে ১০ টাকা কেজি করে সরকারী চাল প্রদান করে আসছেন। তাকে প্রতিটি ডিও তে রাজবাড়ীর সদর খাদ্য গুদাম থেকে ৫০ কেজির ৩শত বস্তা চাল দেয়ার নির্দেশনা ছিলো। অথচ তাকে কখনো কম ও কখনো বেশি বস্তা দিয়ে তার অজান্তে ওই সব ডিও তে ৩শত ৮০ বস্তা পর্যন্ত চাল উত্তোলন করা হয়েছে। আবার যে সব বস্তা তাকে দেয়া হয়েছে তাতেও রয়েছে ৪ থেকে ৫ কেজি করে চাল কম। একই সাথে প্রতিটি পাটের বস্তার ওজনের পরিবর্তে ৭শত গ্রাম করে চাল প্রদান করার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, তিনি সততার সাথে প্রতি ডিও’র চাল কার্ড ধারীদের নিট ৩০ কেজি করে প্রদান করেছেন। যার কারণে তিনি প্রতি ডিও’র চাল বিতরণের পর আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কার্ডধারীদের চাহিদার চাল পূরণ করতে তাকে অধিক মূল্যে চাল কিনে তা প্রদান করতে হয়েছে। তিনি ২০২১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মনে করতেন তার ডিওর ঘাটতি পড়া চাল হয়তো কর্মচারীরা তসরুপ করেছে। যে কারণে তিনি তার দোকান থেকে একাধিক কর্মচারীকে বিদায় করেছেন। খাদ্য অফিসে অভিযোগ করে তিনি পান নি কোন প্রতিকার। ফলে তিনি কৌশল অবলম্বর করেন এবং ডিও, ওজনের টালি খাতা সংগ্রহ করেন। তাতে তিনি দেখতে পান তার কোন কোন ডিও ব্যবহার করে ৩শত বস্তার পরিবর্তে ৩শত ৮০ বস্তা পর্যন্ত চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আবার তাকে প্রদান করা কোন বস্তাতেই ৫০ কেজি নিট ওজন পাওয়া যায়নি। মূলত তার ঘাটতি হয়েছে খাদ্য গ্রদাম থেকে। যার কারণে এই কয়েক বছরে তিনি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। তিনি এই দূর্ণীতির ক্ষতি পূরণ এবং জড়িত আসামিদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ওএমএস ডিলারসহ প্রতিটি ডিলার খাদ্য কর্মকর্তাদের কাছে জিম্মি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গৌডাউন থেকেই চাল বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে চক্রের কাছে। চক্রের লোকজন তা সুকৌশলে শহরের কিছু চিহ্নিত চাল ব্যাবসায়ীর কাছে তা বিক্রি করছে, অথবা বস্তা পাল্টিয়ে অন্য কোথাও পাচার করছে।
এদিকে, মনোয়ার হোসেন মোনোর দায়ের করা মামলায় এই অভিযোগ গুলোর হুবহু প্রতিফল লক্ষ করা গেছে।
জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানাগেছে, জেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ১শত ১৩ জন ডিলার রয়েছে। এই সব ডিলারদের মাধ্যমে ৫৬ হাজার ৪শত ৮৩ জন কার্ডধারী ১০ টাকা কেজি চাল কিনছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কার্ডধারীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, তাদের প্রাপ্ত ৩০ কেজি চাল কখনোই দেন না ডিলাররা। ২৭ থেকে ২৮ কেজি চাল তারা পেয়ে থাকেন। তাদের দাবী ৩০ কেজি করেই যেন তারা চাল পান কর্তৃপক্ষ যেন সে দিকে নজর দেয়।
অভিযোগ ও মামলার ব্যাপারে রাজবাড়ী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফায়েত হোসেন জানিয়েছেন, খাদ্য গুদামে কোন কারসাজি করা হয় না। ডিও অনুযায়ী চাল প্রদান করা হয় ডিলারদেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































