অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ছে রফিকুলের পায়ের মাংস –
- Update Time : ১০:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২
- / ৬০ Time View
রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রফিকুল ইসলাম (২৪) রাজবাড়ী পাংশার হাবাসপুরের মৃত নজরুল ইসলাম এর ছেলে। দীর্ঘ দিন তিনি নিউরোফাইড্রোমা (ফাইলেরিয়া) রোগে আক্রান্ত বলে ধারনা চিকিৎসকদের।
রফিকুলের বাম পাদয়ের মাংস অস্বাভাবিক হাড়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফলে স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না এবং পায়ের মাংস বৃদ্ধির স্থানে দেখা দিয়েছে ইনফেকশন। এ অবস্থায় রফিকুলের দিন মুজর মায়ের পক্ষে তার ব্যায়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব না এবং অর্থাভবে ভাল কোন হাসপাতালে যেতে না পেরে বর্তমানে সে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ঢাকা মেডিকেল বা অন্য কোন বড় হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে রফিকুল।
রফিকুল ইসলাম রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকড়ি গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।
জানাগেছে, জন্মের ৩ বছর পর মারা যায় রফিকুলের বাবা। নিজের বলতে তার মা ছারা নাই কোন সহায় সম্ভল। নানা বাড়ীতে থাকেন মা-ছেলে। এবং মায়ের দিন মজুরের টাকায় চলে মা ছেলের সংসার ও অসুস্থ রবিউলের চিকিৎসার খরচ। জন্মের পর বাম পায়ে একটি কালো দাগ থেকে এই রোগের সৃষ্টি। বয়স বৃদ্ধি সঙ্গে সঙ্গে অস্বাভাবিক হাড়ে বাড়তে থাকে রফিকুলের পায়ের মাংস। দারিদ্রতা ও অসুস্থতার মাঝেও নিজের পড়াশুনা চালিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করেছেন এসএসসি ও এইচএসসি। বিএতে ভর্তি হয়ে অসুস্থজনিত কারণে আর পড়াশুনা সম্ভব হয় নি রফিকুলের। তবে রফিকুল ও তার মায়ের ইচ্ছা ছিল রফিকুল পড়াশুনা শেষ করে ভাল একটি চাকুরী করে সংসারের অভাব অনটন দুর করবে। কিন্তু বর্তমানে অর্থাভবে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পেরে স্থানীয় হাসপাতালের বেডে শুয়ে তার দিন কাটছে। এবং বাথরুমে যেতে ব্যবহার করতে হচ্ছে হুইল চেয়ার। অভাব অনটনের সংসারে কিস্তির টাকায় করা রফিকুলের ছোট্ট দোকানটিও বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর ২০০৯ সালে প্রথম ঢাকার মিড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখান থেকে অর্থাভবে ফিরে আসেন। পরপর্তীতে ২০২০ সালে সাভারের ফাইলেরিয়া হাসপাতালে যান। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ীতে চলে আসেন। এরপর বেশি অসুস্থ বোধ করলে অর্থাভবে ভাল কোন হাসপাতালে না যেতে পেরে ২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ী পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকেই তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পাংশা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এসএম রাসেল কবিরসহ স্থানীয়রা জানান, রফিকুল অত্যান্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। এসএসসিতে ৪.৮৯ এবং এইচএসসিতে ৪.৪২ পেয়ে বিএতে ভর্তি হয়ে ভয়ঙ্কর রোগে আক্রান্ত হয়ে থেমে গেছে তার শিক্ষাজীবন। হতদরিদ্র বাবা হারা এতিম রফিকুল এখন ধীরে ধীরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অর্থাভবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সমাজের বৃত্তবানরা রফিকুলের চিকিৎসায় এগিয়ে আসলে উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়েতো সে আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
রফিকুলের মা জানান, রফিকুলের বাবা নাই। তিনি অন্যের বাড়ীতে কাজ করে সংসার চালান। দীর্ঘ দিন ধরে তার একমাত্র ছেলে অসুস্থ। টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। চিকিৎসা করাতে পারলে রফিকুল সুস্থ হয়ে উঠবে। এজন্য সমাজের বৃত্তবানসহ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি চান তার ছেলে সুস্থ হয়ে একটি চাকুরী করে সংসারের হাল ধরুক।
অসুস্থ রফিকুল বলেন, দীর্ঘ দিন তিনি ফাইলেরিয়া রোগে আক্রান্ত । গরিব মানুষ হওয়ায় চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অসুস্থ্য হবার আগে লোন নিয়ে একটি দোকান করতেন। কিন্তু অসুস্থ হবার পর থেকে সেটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন তার মা অন্যের বাড়ীতে কাজ করে সংসার চালায়। এ জন্য তার চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না। উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে সুস্থ হয়ে বাড়ীতে ফিরতে পারবেন। ফলে সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন। এবং তিনি সুস্থ হয়ে ভাল একটি চাকুরী করে অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়াতে চান।
পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তরুন কুমার পাল বলেন, রফিকুলে বাম পায়ে বড় আকারের সোয়েলিং হয়েছে। প্রথম দিকে তারা ভেবেছিলে গোদ রোগ । ঢাকা থেকে চিকিৎসক বেনজির স্যার এসে দেখে বলেছেন এটি নিউরোফাইড্রোমেটাসিসের সিনটম। এই রোগের উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে অপারেশন করাতে পারলে ভাল হতে পারে। এ জন্য ঢাকা মেডিকেলের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসা প্রয়োজন। এই রোগের কারণে দীর্ঘ সময় সে বসে থাকায় আলসার দেখা দিয়েছে। ফলে চিকিৎসার জন্য তাদের ওখানে ভর্তি হয়েছে। এবং তারা সবোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছেন। রফিকুলের চিকিৎসা অত্যান্ত ব্যায় বহুল, যা বহনের সক্ষমতা ওদের নাই। অনেকে কম বেশি সহযোগিতা করছে, কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত না। সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে চিকিৎসা নিয়ে হয়তো রফিকুল সুস্থ হয়ে বাড়ীতে ফিরতে পারবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































