“অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু করো, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করে”-লেখক : রেখা দাস –
- Update Time : ১০:১০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২
- / ৬১ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
“অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু করো, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করে” এখন সময়ের দাবি। সমাজ কর্র্তৃক সৃষ্ট জেন্ডার ধারনার মদ্য দিয়ে তৈরি হয় পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব আর সে কারণে নারীকে মানুষ বলে বিবেচনা করা হয় না। কত যুগ কেটে গেল আজ একবিংশ শতাব্দিতে এসেও নারীকে মানুষ বলে প্রমাণ করার লড়াই করতে হচ্ছে। নারীকে যে পূর্নাঙ্গ মানুষ মনে করা হয় না তার একটি প্রমাণ আমাদের দেশে প্রচলিত বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন। পারিবারিক আইনগুলোতে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয় এবং তা নারীর সম অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঁধার সৃষ্টি করে। সম্পত্তির অধিকার, উত্তরাধিকার,সন্তানের অভিভাবকত্ব, বিবাহ বিচ্ছেদ প্রভৃতি ক্ষেত্রে নারী পুরুষের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে।
বাবার বাড়ী এই গাঁয়ে
শশুর বাড়ি ঐ
তোমার বাড়ি কই গো নারী
তোমার বাড়ি কই?
নারীর বাড়ি বা সম্পত্তির কথা যদি বলি কোনটাতেই নারীর অধিকার নাই। হিন্দু পারিবারিক আইনে নারীরা পিতা বা স্বামীর কোন সম্পত্তি পায় না। ফলে নারীদেরকে অন্যের গলগ্রহ হয়ে দূর্বিসহ জীবনযাপন করতে হয়। মুসলিম পারিবারিক আইনে নারীরা সম্পত্তিতে সমান অধিকার পাচ্ছে না। তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন, আতœনির্ভরশীলতা, সিদ্ধান্তগ্রহন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন, নিরাপদ নিশ্চিত জীবন যাপন ইত্যাদির মূলে রয়েছে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি। পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি একান্ত প্রয়োজন। আদিবাসী নারীরাও সম্পত্তিতে সমঅধিকার পাচ্ছেনা। পারিবারিক আইনগুলোতে বিদ্যমান অসঙ্গতির কারণে ছেলেদের মধ্যে এই ধারনা গড়ে ওঠে যে বাবার সম্পত্তিতে তাদের একচ্ছত্র অধিকার। প্রচলিত পারিবারিক আইনগুলোর বৈষম্য দূরীকরনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ প্রস্তাবিত অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু করা আবশ্যক।একশ্রেণীর হীন মানসিকতার রক্ষনশীল মানুষেরা এর বিরোধিতা করছে। তবে কিছুসংখ্যক মানুষের জন্য বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীরা কি তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেই থাকবে?
নারী পুরুষের বৈষম্যের চরম বহিঃপ্রকাশ হল নারীর প্রতি সহিংসতা। এই সহিংসতার মূলে রয়েছে প্রচলিত বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন। বর্তমানে পারিবারিক কলহ, নির্যাতন, বিবাহবিচ্ছেদ হত্যা, ধর্ষণ নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। শিশু ও প্রতিবন্ধী নারী যৌন সহিয়সতার শিকার হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্ষণ করা হচ্ছে। বাল্য বিবাহ নারীর প্রতি সহিংসতার আরেকটি অন্যতম কারণ। এসকল সহিংসতার মাধ্যমে নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তাই এধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকবাবেলায় নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু করার দাবি জানাচ্ছি। আসুন আমরা প্রত্যেকের অবস্থান থেকে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
লেখক- রেখা দাস, সদস্য, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রাজবাড়ী জেলা শাখা।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































